ঐতিহাসিক জয়: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টানা বৈঠক আর রাজনৈতিক নাটকীয়তা এবং জোটের নানা হিসাব-নিকাশের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারকা সি জোসেফ বিজয়। তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের প্রধান এই অভিনেতা, যিনি (থালাপতি বিজয়) নামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করেন। রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ তথ্য নিশ্চিৎ করে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে।

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের দল (টিভিকে) নিজ দলের ব্যানারে ১০৮টি আসন লাভ করে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ না পায়ার কারণে গত কয়েক দিন ধরে জোট গঠন নিয়ে তীব্র আলোচনা নানা নাটক চলছিল। শুক্রবার পর্যন্ত সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে থাকায় গভর্নর সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাননি।

শনিবার বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের জোটকে সমর্থন দিলে সমীকরণ পাল্টে যায়। এরপর কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্র গভর্নরের কাছে জমা দেন বিজয়। সব মিলিয়ে জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ।

৫১ বছর বয়সী বিজয় এই নির্বাচনে দুটি আসন থেকে জয় লাভ করলেও তাকে একটি আসন ছাড়তে হবে। তবে একটি আসন ছাড়াও তার জোট সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, বিজয়ের বাবা-মা, অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, চলচ্চিত্র জগতের তারকা এবং তার সমর্থকরা। বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের নেতারাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন তাদের মধ্যে-এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু এবং সেলভি এস কীর্তনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার গঠন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড়। প্রায় ছয় দশক ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো শক্তি রাজ্যে সরকার গঠন করতে পারেনি। চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় সেই চিরায়ত ধারাই ভেঙে দিলেন।

জোট গঠনের পর দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিজয় বলেন, “কঠিন সময়ে যখন অনেকে আস্থা রাখেননি, তখন কিছু মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন আমরা পারব।” এ সময় তিনি বিশেষভাবে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ব্যাপক জনপ্রিয়তা, তরুণ ভোটারদের অবাধ সমর্থন এবং সঠিক জোট কৌশল—এই তিনের সমন্বয়েই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছেন থালাপতি বিজয়।