যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি

USA TANKER

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলে আকস্মিক ও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপের পেছনে মূলত মার্কিন বাহিনীর পরিবহন এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোকে দায়ী করা হচ্ছে।

ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে আনাদোলু সংবাদ সংস্থার এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ০২ মে ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যমুখী মার্কিন সামরিক বিমানের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

এই অঞ্চলে পাঠানো বিমানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার থ্রি সামরিক কার্গো বিমান। প্রতিটি এই বিমান প্রায় (৭৭ টন) সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রায় ১০০ জন সেনা সদস্য বহন করতে সক্ষম। এছাড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর বৃহত্তম পরিবহন বিমান লকহিড সি-৫এম সুপার গ্যালাক্সি (যার মালবহন ক্ষমতা প্রায় ১২৭ টন ) এবং কৌশলগত পরিবহন ও আকাশস্থ জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বোয়িং তৈরি কেসি-৪৬ পেগাসাস ট্যাঙ্কার বিমানগুলোকেও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চলাচল করতে দেখা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি পরিবহন বিমান মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে, যার মধ্যে কয়েকটি জার্মানি থেকে ছেড়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যমুখী এই বহরে বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার ট্যাঙ্কার বিমানগুলোও ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে ইসরায়েল ও তার আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এদিকে, বাহরাইনের নিকটবর্তী আকাশসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স (সিগিন্ট) গোয়েন্দা বিমান— বোয়িং আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট—কেও সক্রিয় অবস্থায় টহল দিতে দেখা গেছে। এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে আসা কিছু পরিবহন বিমানের নিশ্চিত কোনো গন্তব্যও দেখা যায়নি।

প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালালে, তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত জলপথে ইরানি নৌযান চলাচলে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। তবে পাকিস্তানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ না করেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।