রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ (৩৯) কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগ স্থানীয়ভাবে ভাঙারি ও রিকন্ডিশন যন্ত্রাংশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে, যেখানে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী হামলাকারীরা যুবদল ও ছাত্রদলের পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন সন্ত্রাসী সোহাগের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয় এবং পরে ইট-পাথর দিয়ে মাথায় ও বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জানান, ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও পূর্বের চাঁদাবাজি কার্যক্রমের তথ্য উঠে এসেছে। নিহত সোহাগ নিয়মিত ব্যবসা করতেন এবং সম্প্রতি চাঁদা না দেওয়ায় তিনি হুমকি পাচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
- ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া ও নির্দেশনা
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেছেন, “যিনি দলেরই হোক, অপরাধে নামলে তার কোনো ছাড় নেই। তদন্তে কোনো গাফিলতি হলে চলবে না” এবং উচ্চতম শাস্তি নিশ্চিত করতে অভিমত দিয়েছেন । - 🎓 ছাত্রদলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শাখা ছাত্ররা টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগান দেন—“অ্যাকশন, অ্যাকশন”, “সন্ত্রাস রুখে দেবে ছাত্রসমাজ” এবং “বিচার চাই, সোহাগ হত্যার বিচার চাই” । জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বহুমুখী মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন এবং প্রতিবাদ জানান—“বিএনপির চাঁদাবাজ দল”, “সন্ত্রাস ও লুটতরাজ বন্ধ কর” এরকম স্লোগান প্রচার করেন ।
❗ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পদত্যাগ
- ঘটনাটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর ১২ জুলাই ২০২৫ সকাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, যা সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে ।
- উল্লেখযোগ্য পদত্যাগকারীদের মধ্যে:
- লিসানুল আলম লিসান (এইউএসটি শাখার সাধারণ সম্পাদক),
- পারভেজ রানা প্রান্ত (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক সদস্য),
- মুহাম্মদ রাব্বি মিয়া (মৌলভীবাজার জেলা শাখা সদস্য),
- মো. জাহিমুর রহমান জিসান ও মো. ইশতিয়াক রহমান (গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শাখা নেতা),
- মোহাম্মদ আবু সায়ীদ (ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন হল কর্মী),
- ও আরিফুল ইসলাম ইমরুল (সিলেট চুনারুঘাট শাখার সহ-সভাপতি) ।
- এই পদত্যাগে নেতারা অনেকেই “ব্যক্তিগত কারণ” উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে দলে কিছু নেতাকর্মীর নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপের কারণে মানসিক অস্বস্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ।
