ত্রিশালে অধিগ্রহণ জটিলতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে দুই উপজেলার মানুষ

ত্রিশালে অধিগ্রহণ জটিলতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে দুই উপজেলার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল প্রতিদিনঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে মাত্র ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জটিলতা। আটকে গেছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ের সেতু নির্মাণ প্রকল্প। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে প্রকল্পটি থমকে আছে। সেতুটির ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও দুই বার সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করা যায়নি। এদিকে ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়ার লাখো মানুষ পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন ।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ী বাজার এলাকার খিরু নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুটি। ২০২২ সালের দিকে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পুরোনো বেইলি সেতুর পাশে নতুন ঐসেতু নির্মাণ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় আট কোটি আটসষ্টি লাখ টাকা। কাজটি পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তারা ৭০% কাজ শেষও করে। এখন সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ ।

সূত্রে জানা যায়, জমির মালিক রয়েছেন ২০-২২ জন। প্রতি শতাংশ (এক শতাংশ) জমির দাম ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়ায় জমি ছাড়ছেন না মালিকরা। তিন শতক জমির মালিক বাসন্তী রানী চৌধুরী বলেন, এখনো টাকা পাইনি, তাই জমি ছাড়ছি না।’ মূলত এই কারণে ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হয়নি।

খিরু নদীর এক পাড়ে ত্রিশাল এবং অন্য পাড়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা। ৮০-এর দশকে ( যাকে আমরা এরশাদের আমলে ) নির্মিত এই বেইলি সেতুই দুই উপজেলার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। কালের পরিক্রমায় দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ । এর মধ্যে বহুবার নানা দূর্ঘটনার আঘাত বয়ে চলছে সেতুটি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে মাথার উপর। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয় এক বসিন্দা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলি সেতুই আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। সেতুতে উঠলেই এখন ভয় লাগে, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘সেতু পার হতে ভয় লাগে, মনে হয় যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে। তবুও বাধ্য হয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেই দ্রুত সেতুর বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে অন্য কোন বিকল্প দেখছি না।

এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়ের হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেতুর ৭০শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জমির মূল্য নির্ধারণ ও পরিমাপ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’