মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর, ইরানের উপ-রাষ্ট্রপতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়ার পর, ইরানের উপ-রাষ্ট্রপতি ইসমাইল সাঘাব ইসফাহানি রোববার আরও কঠোর প্রতিশোধের পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে ইসফাহানি বলেন, “হরমুজ প্রণালীর বিষয়টি ট্রাম্পের ওপর এতটাই চাপ তৈরি করেছে যে তিনি ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিতে বাধ্য হলেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তী পদক্ষেপ—এই অঞ্চলে জায়নবাদী রাষ্ট্র (ইসরায়েল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোর ওপর হামলা—ট্রাম্পের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দেবে।”এবং তিনি ইসরায়েলের বাসিন্দা এবং ইরানের শত্রুদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর জনগণকে সতর্ক করে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পানি সাশ্রয় করা এবং মোবাইল ফোন চার্জ করে রাখাই তাদের জন্য উত্তম হবে।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশের অবকাঠামোতে আঘাত হানা হলে ইরান “কোনো ধরনের সংযম বা দয়া দেখাবে না”।
মার্চের শুরু থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে রেখেছে। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, বীমা ব্যয় বেড়েছে, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ-সহ ১,৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক, কাতার,দুবাই, কুয়েত সহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলা মূলত “মার্কিন সামরিক স্থাপনা” লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যা হতাহতের ঘটনা ঘটানোর পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষতি করছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তথ্যসূত্র-আনাদোলু এজেন্সি/মোহাম্মদ সিও