বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে । শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে হাজারো নেতাকর্মী। সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছে।
🔹 উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
সমাবেশ শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াত ও হামদ-নাত পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে একে একে আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংস্কৃতিক দলগুলো। তারা পরিবেশন করে ইসলামি সংগীত, গজল, কবিতা, নাটিকা ও দেশাত্মবোধক গান। গানগুলোতে উঠে আসে সমাজ পরিবর্তনের ডাক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান।
একটি নাটিকায় তুলে ধরা হয় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জামায়াতের “সততা ও ন্যায়ের রাজনীতি” কেমন হতে পারে। তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রাণ পায় পুরো সমাবেশস্থল। মঞ্চ সাজানো ছিল দৃষ্টিনন্দনভাবে।
🔹 বিপুল জনসমাগম
সমাবেশ শুরুর অনেক আগেই আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে হাজার হাজার জামায়াতের নেতাকর্মী অবস্থান করছে। হাজারো কর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। দলীয় পোশাক ও টুপি পরে অনেকে এসেছেন গোছানোভাবে। নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় বসার ব্যবস্থা করা হয়। মাঠজুড়ে ছিল সুশৃঙ্খল পরিবেশ, দায়িত্বে ছিল জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবক টিম।
জনসেবার অংশ হিসেবে সমাবেশস্থলে রাখা হয়েছে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী টয়লেট, এক হাজার পানির কল, ১৫টি মেডিকেল বুথ, ১৫টি পার্কিং স্পট এবং হাজারো চেয়ার। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। রাজধানীজুড়ে ৪০০টির বেশি মাইক বসানো হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি জায়ান্ট স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শহরের জামায়াত নেতা আনোয়ার হাবিব খান দাবি করেন জামায়াতের শুধু ময়মনসিংহ শহর শাখা থেকে ২০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন ময়মনসিংহের প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী। একটি ট্রেনের ১১টি বগি ভাড়া করে এবং শতাধিক বাস নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তারা ঢাকার সমাবেশে এসেছেন।

🔹 নেতৃত্বের উপস্থিতি ও বক্তব্য
🔹 প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা
সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল সতর্ক অবস্থানে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। জামায়াতের নিজস্ব ‘সেবা স্কোয়াড’ সদস্যরাও মাঠে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
🔹 ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।
সমাবেশ থেকে ‘জাতীয় ঐক্য’ ও ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ গঠনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
🔹 বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এ জাতীয় সমাবেশ দীর্ঘদিন পর তাদের প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনের একটি উদ্যোগ। কেউ কেউ এটিকে “রাজনীতিতে নতুন রণকৌশল” বলেও অভিহিত করছেন।
বিশ্লেষক ড. আনোয়ারুল কবীর বলেন,
“জামায়াত চাপে থাকলেও জনসম্পৃক্ততা হারায়নি—এই সমাবেশ তার প্রমাণ। তারা এখন নতুন ভাষা ও কৌশলে মাঠে নামছে।”
🔹 শেষ কথা
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দিয়ে শুরু হওয়া জামায়াতের এই সমাবেশ দলটির রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কর্মসূচির ধারাবাহিকতা, শান্তিপূর্ণ বার্তা এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রকাশ—সব মিলিয়ে এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৯ জুলাই ২০২৫
