ত্রিশালের সাবেক প্যানেল মেয়র বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেফতার
ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মামুনুর রশিদকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মামুনুর রশিদ (৪০) ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও ৩ নং ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি । ২০ মে, মঙ্গলবার (২০২৫) ময়মনসিংহ শহরের কাচারি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহ, ২০ মে ২০২৫ – ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও ৩ নং ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন (৪০)কে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মামুনকে চেক জালিয়াতি, সুদি কারবার, জমি দখল ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানির মতো একাধিক অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
গ্রেফতারের বিস্তারিত
-
সময় ও স্থান: ২০ মে, মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের কাচারি এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
-
অভিযোগ:
-
চেক জালিয়াতি: স্থানীয় রুহুল আমিন মাষ্টারের ছেলে উজ্জল এক ব্যক্তির কাছ থেকে চেক জামানত রেখে ৮০ হাজার টাকা ধার নেন। মামুনুর রশিদ এই চেক ৮৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে ৮০ লাখ টাকা দাবি করে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে উজ্জল নামের ওই ব্যক্তি কারাগারে আটক রয়েছেন।
-
সুদি কারবার: মামুন দীর্ঘদিন ধরে সুদভিত্তিক অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
-
অস্ত্র ও চেক জব্দ: কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর একটি অভিযানে মামুনের বাড়ি থেকে ৩২০টি চেক ও অন্যান্য অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
-
পদচ্যুতি: এর আগে দুম্বার মাংস ও ভিজিএফ কার্ড চুরির অভিযোগে তাকে পৌরসভার প্যানেল মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
-
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
-
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকিল আহমেদ জানান, মামুনুর রশিদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মারধর, জমি দখল ও মামলা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
-
ডিবি পুলিশের বক্তব্য: জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মহিদুল ইসলাম মামুনের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
মামুনুর রশিদকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় ত্রিশালের স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
### **বিশেষ ক্ষমতা আইন কী?**
বিশেষ ক্ষমতা আইন (**Special Powers Act**) সাধারণত **জালিয়াতি, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা সংগঠিত অপরাধের** ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই আইনে জামিন পাওয়া কঠিন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
—
### **স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:**
– মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে **ক্ষমতার অপব্যবহার** ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
