আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাওয়া অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ বিজয়কে সরকার গঠনের আগেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রাজ্যপাল আর. এন. রবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে হলে বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের লিখিত প্রমাণ জমা দিতে হবে।
গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল (টিভিকে) অভিষেকেই ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। তবে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন । ফলে সরকার গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১০টি আসন। শর্তসাপেক্ষে কংগ্রেসের ০৫টি আসন যোগ হলেও বাকি ০৫টি আসনের জন্য এখনও দৌড়ঝাঁপ করছে টিভিকে।
বৃহস্পতিবার রাজভবনে বিজয়ের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যপাল তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কীভাবে মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন এবং বাকি সমর্থকরা কারা। সূত্রের খবর, টিভিকে বাম দলগুলো (সিপিআই ও সিপিএম), ভিসিকে এবং পিএমকে-র মতো ছোট দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন আশা করছে। তবে এই জোট গঠন মোটেও সহজ নয়, কারণ ভিসিকে বর্তমানে ডিএমকে-র এবং পিএমকে বিজেপি-র সঙ্গে জোটবদ্ধ। বিজয়ের শিবিরে আসতে হলে তাদের বর্তমান জোট ভাঙতে হবে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকে-র একাধিক বিধায়ক পদত্যাগ করে বিজয়কে সমর্থন দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। পুদুচেরির একটি রিসোর্টে এক ডজনেরও বেশি বিধায়ককে আটকে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বিজেপি-র ঘনিষ্ঠ এআইএডিএমকে-র সঙ্গে হাত মেলাতেও আপত্তি রয়েছে বিজয়ের।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন জটিল। সমর্থকদের অন্য দলে ভাঙিয়ে আনা রোধে টিভিকে-র ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে চেন্নাই সংলগ্ন মামাল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে আলাদা করে রাখা হয়েছে। বিজয় জানিয়েছেন, তিনি বিধানসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে তারা আদালতের দ্বারস্থও হতে পারেন। তবে সব ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ঝুঁকিও রয়েছে।
তথ্যসূত্র-এনডিটিভি
