৭৫রে মহামান্য রাষ্ট্রপতিসহ রাজবন্দী নেতাদের স্মৃতির ধারক লূৎফুন নেছা অসুস্থ

 ফকরুদ্দীন আহমেদঃঃ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে পাকিস্তানের মদতপূষ্ট হিংস জানোয়ার রূপী বিশ্বাস ঘাতক কিছু বেঈমান সেনা সদ্স্যদের বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেন। দেশে থাকা তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যা করে বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে দিয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রাণের সংগঠন ও বাংলাদেশ স্বাধীন করা সফল সংগঠন আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করার জন্য বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত নেতাদের হত্যা আর কারাগারে বন্দী করে ফেলেন।

১৯৭৫ সালে জাতীয় ৪ নেতাকে জেলাখানায় হত্যার পর সারাদেশব্যাপী বঙ্গবন্ধুর হত্যা, নির্যাতন, সংগঠনের হাল ধরার মত ও বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করার মত নেতাদেরকে বন্দী করে রাখেন। ৭৫রের এই রাজবন্দীর স্বীকার হয়েছিলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদসহ জেলা ও থানা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারা।তেমনি এই রাজবন্দীর স্বীকার হয়েছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও মহান মুক্তিযোদ্ধের থানা সংগ্রাম পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হোসেন চেয়ারম্যান।

ঐ সময় জাতীয় অনেক নেতাকে বন্দী করে ময়মনসিংহের কারাগারে রাখেন। ত্রিশাল থেকেও মরহুম আবুল হোসেন চেয়ারম্যানসহ বেশ ক’জন আওয়ামীলীগ নেতাদের গ্রেফতার করে ময়মনসিংহ কারাগারে রাখেন।

ত্রিশালের মেয়র এবিএম আলহাজ্ব আনিছুজ্জামানের পিতা মরহুম আবুল হোসেন চেয়ারম্যান স্বাধীনতার আগে থেকে ত্রিশাল থানায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব দিয়ে দলের হাল ধরায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুবই বিশস্ত ও আপনজন ছিলেন। সেই প্রবীণ সংগঠক হিসেবে জাতীয় নেতাদেরও খুব পরিচিত ছিলেন মরহুম আবুল হোসেন চেয়ারম্যান। তাই তাকে গ্রেফতার করে ময়মনসিংহ কারাগারে নিয়ে গেলে সব নেতারা আবুল ভাই বলেই ডাকতেন। হত্যার আতংক নিয়ে শুরু হয় তাদের কারাবাস।

ত্রিশালের মেয়র মাতা মোছা- লূৎফুন নেছার তথ্যমতে- মরহুম আবুল হোসেন চেয়ারম্যান ১৯৭৫ সালে দীর্ঘ ৮মাস কারাবন্দী ছিলেন। আর সাথে ছিলেন জাতীয় নেতারা। এই ৮মাস কারা জীবনে আবুল হোসেন চেয়াম্যনের বড় পুত্র তথকালীন কিশোর আনিছুজ্জামানকে নিয়ে প্রায় প্রতিদিন কারাগারে খাবার নিয়ে যেতেন মেয়র মাতা মরহুম আবুল হোসেন চেয়াম্যানের সহধর্মিণী মোছা-লূৎফুন নেছা।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানসহ কারাবন্দী নেতারা মেয়র মাতাকে ভাবী বলে ডাকতেন এবং বিশেষ কিছু খাবারের কথা বলে দিতেন যাতে পরের দিন নিয়ে আসে। এই গল্প গুলো মেয়র মাতা যখন বলতেন তখন প্রায় আবেগআপ্লোত হয়ে যেতেন। মেয়র পিতা প্রয়াত বলেই কষ্টের স্মৃতি গুলো যখন সবার সাথে বিনিময় করতেন তখন ৭৫সালের ভয়াবহ একটি ইতিহাস সামনে চলে আসতো। মেয়র আনিছুজ্জামান আনিছের মাতা লূৎফুন নেছার কারাফটকের স্মৃতিময় একটি গল্প বলে আবেগআপ্লোত হয়েছিলেন সেটা হলো, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান একদিন মেয়র মাতা খাবার নিয়ে গেলে বলেছিলেন ভাবী কালকে বাদাম নিয়ে আসবেন।

পরের দিন খাবারের পাশা-শাশি মেয়র মাতা লূৎফুন নেছা ১কেজি বাদাম নিয়ে গেলেন। এই বাদাম পেয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেব অনেক খুশি হয়েছিলেন। পরের দিন আবার যখন কারাগারে খাবার নিয়ে গেলেন তখন জিল্লুর রহমান মেয়র মাতাকে বলছিলেন, ভাবী আমি আর আবুল ভাই সারা রাত ঘুমাইনি  দু’জন মিলে গল্প করে সব বাদাম খেয়ে, রাত পাড় করে দিয়েছি ।  ৭৫ সালে ময়মনসিংহে কারা ফটকের স্মৃতিময় অনেক গল্প নিয়ে ৪৫বছর অপেক্ষায় ছিলেন মেয়র মাতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে স্বাক্ষাত করে ভয়াবহ আতর্কিত জাতীয় নেতাদের কারাবাস করার ইতিহাস শোনাতে।

শুধু স্বাক্ষাতের অপেক্ষায় গত হলো কয়েক যুগ সেই লূৎফুন নেছা আজ স্টোক করে গুরুতর অসুস্থ। তাঁর পরিবার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছসহ সকলেই সবার কাছে রোগ মুক্তি চেয়ে দোয়া চেয়েছেন।