২০১৯ বিশ্বকাপে বিসিবির পাঁচটি ট্যাক্টিকাল ব্লান্ডার, ভাগ্যকে দোষারোপ, এবং আমাদের মিডিওক্রেসি

ফুয়াদ বিন ওমর::আবার শুরু হল চার বছরের অপেক্ষা – পরবর্তী বিশ্বকাপের অপেক্ষা! বিশ্বকাপ! এর মর্যাদা আর ওজন ছাড়িয়ে যায় অন্য সব কিছুকেই। ক্রিকেট প্রেমিরা অপেক্ষা করেন চারটি বছর, টপ ক্রিকেট নেশনের বোর্ড করে পরিকল্পনা – কাপটা আবার/এবার আনতেই হবে।

আর বাংলাদেশের বোর্ড করে ট্যাক্টিকাল ব্লান্ডার, তাল মেলায় দর্শকেরা। আর আমাদের মত বোকা দর্শক আশায় বুক বাঁধে সাফল্যের।

ব্যক্তিপূজায় মত্ত হয়ে দেশের কথা ভুলে যায়, খেলাগুলোতে হেরে যেয়ে ভাবে যে ভাগ্যের কারণে হেরে গেলাম।

কিন্তু আসলেই কি তাই? আসুন দেখে নেই বিসিবির বড়সড় পাঁচটি ভুল যেগুলো আমাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট ছিল।

১। স্টিভ রোড্‌স – মিডিওকার দলের একজন মিডিওকার কোচঃ

এক দিক থেকে দেখলে বিসিবি ঠিক ই করেছে। নিম্ন বা মাঝারি (মিডিওকার) মানের ক্রিকেট টিমের জন্য একজন মাঝারি মানের কোচ এনেছে। খেলোয়াড়ি জীবনে স্টিভ ছিলেন একজন মাঝারি মানের উইকেটকিপিং ব্যাটসম্যান। এগারটি টেস্ট খেলেছেন ২৪ গড়ে – রান করেছেন ২৯৪ আর নয়টি ওয়ানডে খেলে রান করেছেন ১০৭।

যাইহোক, খারাপ খেলোয়াড় যে ভাল কোচ হতে পারবে না, এমন তো নয়!

কোচ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন?

ওরস্টারশায়ারের কোচ ছিলেন ২০০৫ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, এরপর তাদের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট ছিলেন ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। এর ভেতর ২০০৭ এ সানডে লিগ জেতা ছাড়া আর কোন সাফল্য নেই। এখানেই আমাদের থেমে যাওয়া উচিৎ ছিল। গ্যারি কারস্টেন আসলেন, তার নাম বললেন আর আমরা তাকে নিয়ে নিলাম – মানে বোর্ড নিয়ে নিল।

অ্যা কস্টলি মিসটেক – মোস্ট এক্সপেন্সিভ ওয়ান। এর ফল পেলাম বিশ্বকাপে, নাতেনাতে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই।

ক্রিকেটে সাধারণত তিন ধরণের দল থাকে।

প্রথম ধরণের দল হচ্ছে জিততে চায়, যেকোনো মূল্যেই হোক, জয় তাদের কাম্য।

দ্বিতীয় এক ধরণের দল আছে যারা জিততে পারে না, সামর্থ্যের অভাবে – কিন্তু জেতার চেষ্টা করে।

তৃতীয় ধরণের দল পরাজয়ের ব্যাবধান কমাতে চায়, হারলেও যেন হারার ব্যবধানটা কম লাগে, আর এই ফাঁকে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে, তাদের মর্জির উপর নির্ভর করে, তাদের কিছু ভুলকে কাজে লাগিয়ে যদি জিতে ফেলা যায় কিছু ম্যাচ তাহলে মন্দ কি! মাঝে মাঝে জেতাও গেল – আবার হারলেও খুব চোখে লাগল না।

প্রথম দুই ধরণের দল তৈরির ফর্মুলা নিয়ে আরেকদিন কথা বলব। তৃতীয় ধরণের দল তৈরির ফর্মুলা নিয়ে আজকে কথা বলি।

আপনার কি মনে হয়, এরকম দল কিভাবে তৈরি করা যায় যারা হারলেও খুব একটা চোখে পড়বে না, ব্যবধানটা হবে সম্মানজনক কিন্তু জিততে পারবে না?

আমি বলছি, আপনি মিলিয়ে নিন আপনার ভাবনার সাথে।

প্রথমত আপনাকে এগার জনই ব্যাটসম্যান নিতে হবে এবং আশা করতে হবে যে এক/দুইজন মোটামুটি ভাল করবে আর সবাই কিছু রান করে দিয়ে যাবে। কিন্তু এটা আদতে সম্ভব হয় না। এর কারণ, ক্রিকেটে বোলিং বলে একটা কনসেপ্ট আছে যেখানে প্রতিপক্ষকে বল করতে হয়। আর ওয়ানডেতে একজন বোলার দশ ওভারের বেশী বল করতে পারে না, তাই অন্তত পাঁচজনকে দরকার যারা বল করতে পারে।

এতক্ষণে হয়তো আপনারা ভাবছেন যে কি আবোল তাবোল বকছি, এটা তো সবাই জানে!

আরেকটু ধৈর্য ধরেন, প্লিজ।

হ্যাঁ! যা বলছিলাম!

এগার জন ব্যাটসম্যান যেহেতু খেলানো সম্ভব হয় না এধরনের স্ট্রাটেজিতে তাই রক্ষণাত্মক কোচরা মিনি অলরাউন্ডার খেলান – যারা একটু একটু ব্যাটিংও পারে আবার বোলিংও পারে – কিন্তু স্বাভাবিক কারণে যেকোন একটাও ভাল পারে না। আমাদের এই কোচ, এই বিশ্বকাপে বোলিংটাকে ছেঁটে ফেলে এভাবেই ব্যাটিংটাকে বড় করেছেন।

তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব থাকার পরেও আরও দুইটি সাধারণ মানের অলরাউন্ডার (মনে দুঃখ পেয়েন না যারা অলরাউন্ডারদের ফ্যান, অলরাউন্ডাররা সাধারণত সাধারণ মানেরই হয় – অসাধারণ হয় সাকিব, বোথাম, কপিল, ইমরান, ক্যালিসের মত হাতে গোনা কয়েকজন) খেলিয়েছেন – মোসাদ্দেক-কেও এই রোল প্লে করানোর চেষ্টা করেছেন।

এর ফলাফল?

উপরে যা বলেছিলাম – অনেক খেলারই স্কোরকার্ড দেখে মনে হবে – বাহ! ভালই তো খেলেছি! কিন্তু জিতেছি পয়েন্ট টেবিলের নিচে থাকা তিনটি দেশের সাথে। এই মিডিওক্রাসির পেছনে যুক্তি কি? এটাই কি বিসিবি চেয়েছিল? আমি নিশ্চিত হাথুরু থাকলে এমনটা হত না।

এটা আরেকটু বিশদভাবে ব্যাখ্যা করি পরবর্তী পয়েন্টে –

২। (মিডিওকার) টিম সিলেকশন – প্লেয়িং ইলেভেনঃ

দলে সাকিবের পাশাপাশি আরও দুইটা অথবা মতান্তরে তিনটা অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতার পক্ষে যারা কথা বলবেন তাদের জন্য কিছু কথা বলে এই পয়েন্ট টা শুরু করি।

ভারতকে দিয়েই উদাহরণ দেই।

আচ্ছা – হার্দিক পাণ্ডে তো একজন অলরাউন্ডার, তাইনা? ভালই তো বল করে, না? ৮৩/৮৪ মাইলের আশেপাশে গতি? ভারত তো অনেক বড় দেশ, তাইনা? আরও কি কিছু ভাল অলরাউন্ডার ভারতে নেই? মাত্র একজন-ই আছে, আইপিএল এর মত টুর্নামেন্টের দেশের লোক, যারা এখন র‍্যাঙ্কিং এ এক নাম্বাের আছে?

আচ্ছা – হার্দিক কে নতুন বলটা দিয়ে দিলে ভাল হত না? সাথে বিজয় শঙ্কর ও কাজ চালাত? বুমরা, কুলদিপ/সামি, চাহাল, ভুবনেশ্বর – এত্ত গুলো খেলোয়াড় ব্যাটিং ই পারে না, কিন্তু প্লেয়িং ইলেভেন এ! এ কেমন কথা!

এটাই কথা – আমি উপরে যেই তিন রকমের দলের কথা বলেছি তার ভেতরে ভারত এখন প্রথম ধরণের দল।

এবার অস্ট্রেলিয়া।

অলরাউন্ডার কয়জন বলুনতো? আচ্ছা, বোলার গুলোর নাম বলি – স্টার্ক, কামিন্স, বেহরেনডর্ফ, লায়ন/জাম্পা। কেউ ই তো ব্যাট করতে পারে না। স্টোইনিস আর ম্যাক্সওয়েল মিলে বাকি ওভারগুলো করে।

আচ্ছা, স্টোইনিস কে দিয়ে নতুন বলটা করিয়ে নেওয়া যেত না? অথবা নাথান-কুলটার নাইল কি দারুণ ব্যাটটাই না করল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে? সে আর নাই কেন – সেতো বলটাও করতে পারে? এ কেমন কথা!

এটাই কথা – আমি উপরে যেই তিন রকমের দলের কথা বলেছি তার ভেতরে অস্ট্রেলিয়া বরাবরই প্রথম ধরণের দল।

আমাদের এবারের দলের ভরাডুবির অন্যতম কারণ, আমরা দলে সাকিবের সাথে দুইটা মাঝারি মানের – হ্যাঁ, আবারও বলছি – মাঝারি মানের অলরাউন্ডার খেলিয়েছি।

মুস্তাফিজ আর মাশরাফি ছাড়া এই দলে কোন স্ট্রাইক বোলার ছিল না। সাকিব এখন উইকেট টেকার না, আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচটি বাদ দিলে এটা আরও ভাল ভাবে বোঝা যায়। মাত্র দুইজন স্ট্রাইক বোলার নেওয়ার পেছনে মোটিভেশন ছিল ব্যাটিংটাকে লম্বা করা, আর মিরাকলের অপেক্ষা করা। মিরাকলি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারান গিয়েছে – এটাই বা মন্দ কি। কিন্তু মিরাকল দিয়ে টপ চার তো দূরের কথা, টপ ছয়েও থাকা যায় না।

সাইফুদ্দিন, মিরাজকে একসাথে বোলার হিসেবে খেলান আর মোসাদ্দেকের উপর বোলিং এ ভরসা রাখাই যথেষ্ট কারণ এই ভরাডুবির।

সাইফুদ্দিন কি খারাপ বোলার, অনেকেই আমায় প্রশ্ন করবেন হয়তো?
অবশ্যই সে জঘন্য বোলার না, পঞ্চম বোলার হিসেবে ৬/৭ ওভার মাঝের দিকে বা শেষের দিকে সে করতেই পারে। স্টোইনিস, হার্দিক, বেন স্টোক্স বা নিসাম যেমন করছে। কিন্তু কোন ভাবেই – আই রিপিট কোনভাবেই সে স্ট্রাইক বোলার না, ওপেনিং বোলার না, এটার দায়িত্ব আমরা তাকে দিয়েছি।

একই কথা মিরাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, সে স্ট্রাইক বোলার না, উইকেট টেকিং বোলার না। সে বড়জোর রান আটকে রাখবে, তাড়াতাড়ি ৭/৮ ওভার করে দিবে – দিন ভাল থাকলে ১০ ওভার, এরকম বোলার সে। টেস্টের জন্য হয়তো ভাল – ক্লাসিকাল স্পিনার হিসেবে ওভারের পর ওভার করে যাবে, কিন্তু ওয়ানডে বোলার না।

এত্তবড় ট্যাক্টিকাল ব্লাইন্ডার আমরা কিভাবে করলাম? মাত্র দুইজন স্ট্রাইক বোলার নিয়ে বিশ্বকাপের প্লেয়িং একাদশ সাজালাম আর আশা করলাম জিতে যাব?

এবার আশি যে সবেধন নীলমণি দুইজন স্ট্রাইক বোলার ছিল তাদের একজনের দিকে –

৩। দেশপ্রেম বনাম ব্যক্তিপূজাঃ

আমরা দেশপ্রেমিক না – আমরা চাইনা দেশের ভাল হোক।

অন্য অর্থে বললে, দেশের জন্য আমাদের একটুও আবেগ নেই!

পাগল মনে হচ্ছে আমায়? সবাই না বলে যে আমাদের মত আবেগি জাতি আর নেই!

এবার একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন।

যেই মুহূর্তে একজন লোক বলে ওঠেন – “লোকটা দেশের জন্য কতকিছুই না করেছে, আর মাত্র পাঁচটা ম্যাচই তো আছে – একটু সহ্য করেন” অথবা “লোকটা দেশকে কি ই বা দেয়নি, আমরা কি একটু ধৈর্য ধরতে পারি না?”- সেই মুহূর্তেই দুইটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ক। মানুষ স্বীকার করে নিচ্ছে যে খেলাটা আর তার হচ্ছে না – হত একসময় কিন্তু এখন আর না।
খ। আর খেলাটা খেলতে না পারলেও, দেশের থেকে আমাদের কাছে ব্যক্তি বড় – একটা দেশ পাঁচটা ম্যাচ খারাপ করতে পারে কিন্তু ব্যক্তিটিকে সুযোগ দিতেই হবে। দেশ হারলে ক্ষতি কি – আমরা তো দেশপ্রেমিকই মনে করি নিজেদেরকে।

অথচ অস্ট্রেলিয়ার দিকে তাকাই – ৭০০০০/৮০০০০ লোক দিয়ে কিন্তু স্টেডিয়াম ভরে যায় টেস্ট ম্যাচেও। ওরা দেশকে জেতাবেই, ওদের জিততেই হবে – যে কোন মূল্যেই হোক।

কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি যে খেলা একটা নাটক ছাড়া আর কিছুই না? এখানে স্টেজটা ঠিক থাকে (স্টেডিয়াম), নাটকের কুশীলব (খেলোয়াড়) পাল্টে যায়। নাটকের সাথে এর পার্থক্য হল, নাটকে নির্দিষ্ট একটা স্ক্রিপ্ট থাকে, এখানে সেই স্ক্রিপ্ট ক্রমাগত পরিবর্তন হয়।

অস্ট্রেলিয়া, এই নাটকে সবসময়ই জিততে চায়, অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে এখানে কুশীলব গুরুত্বপূর্ণ নয়, কে খেলল আর না খেলল এটাতে তাদের কিচ্ছু যায় আসে না, নাটকের কোয়ালিটিটা গুরুত্বপূর্ণ – অভারল পারফরমেন্স গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে মাইকেল ক্লার্কের হাতে বিশ্বকাপ উঠলেও, তাকে সরে দাঁড়াতে হয়, আরও উপযুক্ত ভাল কারোর হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ই গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে।

অথবা ইংল্যান্ড। ব্রড, এন্ডারসনের টেস্টে উইকেট সংখ্যা জানেন? অথবা কুকের রান? ওয়ানডে দল থেকে কবে বাদ পড়ল তারা? যেই মুহূর্তে তাদের বোর্ড বুঝতে পারল যে এদের দিয়ে ওয়ানডে হচ্ছে না, ঠিক সে মুহূর্তেই।

যাই হোক, আসল প্রসঙ্গে আসি।

খুব কম মানুষই আছে সঠিক সময়ে এই নাট্যমঞ্চ থেকে নিজে নিজেই সরে যেতে পারে – এই স্টারডমের মায়া ত্যাগ করা অনেক কঠিন – আপনার নাম ধরে সবাই চিৎকার করছে, চারদিকে টিভি ক্যামেরা, ফ্লাশের শব্দ, অসংখ্য টাকা আর স্পন্সরের হাতছানি, সাংবাদিকরা আপনার পিছে পিছে ছুঁটছে, আপনার নামে স্তুতিকাব্য লিখে যাচ্ছে আপনার ভক্তরা, যেখানেই যাচ্ছেন অটোগ্রাফের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে লোকজন। এর বেশীরভাগই শেষ হয়ে যাবে যখন আপনি আর খেলার মাঠে থাকবেন না। থামতে জানাটা অনেক কঠিন, থামাটা আরও।

এই থামতে না জানার জন্যই একটা দলে থাকে থিংকট্যাঙ্ক – থাকে বোর্ড, তারা বুঝতে পারে কার কখন থামতে হবে, কাকে কখন থামাতে হবে। আমাদের বোর্ড পুরোপুরি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে তাদের প্লেয়িং ইলেভেনে তারা মাত্র যে দুইজন স্ট্রাইক বোলার খেলাবে, এদের একজন শারীরিক, মানসিক এবং দক্ষতার দিক থেকে নিজেকে অনেক পেছনে ফেলে এসেছে।

ফলে যার হওয়ার কথা স্টক বোলার তাকে হতে হয়েছে স্ট্রাইক বোলার – সাইফুদ্দিনের রোলটাই গিয়েছে চেঞ্জ হয়ে, যেসময় ইংল্যান্ডের পিচে উইকেট নেওয়ার আদর্শ সময় – প্রথম ১৫ ওভার, সেখানে আমরা থেকেছি উইকেটশূন্য, ব্যাটস্‌ম্যানদের সেট হওয়ার জন্য সময় দিয়েছি।

এর ফলাফল?

আগে বল করা প্রত্যেকটা ম্যাচে ৩১০ এর উপরে রান দিয়েছি – ৩৮০ এর উপরে দেওয়া রান দুইবার। ভাগ্যিস বাকি ম্যাচগুলোতে আগে ব্যাটিং করেছিলাম, একটা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল।

এগুলো কি নিছকই কো – ইন্সিডেন্স? অবশ্যই না?

বোর্ড কেন বুঝতে পারল না মাশরাফির এই ফুরিয়ে যাওয়া? অথবা কেন বুঝতে পেরেও না বোঝার ভান করে লুকিয়ে গেল? বিশ্বকাপ কি আবার চার বছরের আগে আরেকটা আসবে? ২০১৯ কি আমরা ফিরে পাব? ভক্তদের কথা বাদই দিলাম, এটা কি সাকিবের মত পারফর্মিং প্লেয়ারদের সাথেও প্রতারণা নয়? একটা ‘সরি’ কি যথেষ্ট?

এবার আসি বুঝতে না পারার অথবা চাওয়ার কারণ।

৪। বোকার রাজ্যে বসবাস এবং এ বিগ ফিস ইন এ স্মল পণ্ডঃ

বিশ্বকাপের খেলা যে ইংল্যান্ডে হবে এটা তো অনেক আগেই জানতাম আমরা – বোর্ডও জানত নিশ্চয়ই, তাই না? আমাদের দেশের পিচের সাথে ইংল্যান্ডের সমসাময়িক পিচের পার্থক্য অনেকটা আগরতলা আর জুতার তলার ভেতরের পার্থক্যের মত। ইংল্যান্ডের পিচে বল আসবে দারুণ ভাবে, মাঝে মাঝে সুইং হবে – কিছু পিচ স্পোর্টিং – বোলার এবং ব্যাটসম্যান দুই জনই সুবিধা নিতে পারবে। এররকম কন্ডিশনে বিশ্বকাপ হওয়া সত্ত্বেও আমরা গত কয়েক বছর ধরে দেশের স্লো এন্ড লো পিচে খেলে গিয়েছি।

আর খেলেছি কাদের সাথে?

বেশীরভাগই আমাদের থেকে লোয়ার র‍্যাঙ্কের দেশের সাথে – শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান। ওদেরকে আমরা হারিয়েছি – আমাদের বোলার রাও টুকটাক উইকেট পেয়েছে। কিন্তু ওদেরকে হারানোর প্যাটার্ন খেয়াল করে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন যে ঐ দলগুলো আমাদের পিচের অনভ্যস্ততার জন্য প্রথমে এসেই হারে – সময়ের সাথে সাথে কিন্তু বাংলাদেশেও জিততে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার কথা মনে আছে? যে ট্রফি টা আমরা ঢাকায় জিততে চেয়েছিলাম?

এমন পিচে খেলে আমরা বুঝতে পারিনি বোলারদের রেডিনেস – মাশরাফির রেডিনেস।

দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে আমরা বুঝতে পারিনি বোলারদের রেডিনেস – মাশরাফির রেডিনেস।

একদমই কি বুঝতে পারিনি? নিউজিল্যান্ড ট্যুরের কথা মনে পরে? কিছুটা কি ইঙ্গিত পাইনি? পুরো সিরিজে মাশরাফির ঝুলিতে ছিল শুধু কলিন মনরো। কিন্তু ততদিনে মনে হয় বেশ খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছে।

ফলস্বরূপ – দেশের মাটিতে দুর্বল দলগুলোর সাথে খেলে আর কিছু ম্যাচ জিতে আমরা চলে গিয়েছিলাম বোকার রাজ্যে, খাটাস বনে শেয়াল রাজা হয়ে রাজা রাজা একটা ভাব এনেছিলাম নিজেদের মাঝে কিন্তু বাঘ-সিংহদের মাঝে যেয়ে আবার সেই ধরাধামে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে সেলফ এসেসমেন্টটা করতে পারিনি, নিজেদেরকে শুধরাতে পারিনি বা চাইনি।

আর অন্যরা? ইংল্যান্ডের সাথে কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান খেলে ফেলেছিল পুরো একটা সিরিজ। হেরেছে সবগুলোই, শিখেছে অনেক, হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে এসে।

কি দারুণ ভাবেই না পরিস্থিতি বুঝতে পেরে, শেষ মুহূর্তে আমির – ওয়াহাব কে দলে নিয়ে নিল – প্রথম ১৫ জনের একাদশকে চেঞ্জ করে ফেলল। আর আমরা রাহিকে নেওয়াটা যে ভুল হয়েছে, তাসকিন, খালেদ বা এবাদত থাকলেও যে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের খেলানো যেত এটাই বুঝতে পারলাম না অথবা বুঝেও ভুল স্বীকার করার সাহস টাই দেখাতে পারলাম না।

১৯৯৯ সালে কিন্তু ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের আগে তাদের মাটিতে আমরা খেলেছিলাম অনেকগুলো কাউন্টি দলের সাথে।

আর, এবার? আয়ারল্যান্ড!

৫। তথাকথিত পঞ্চপাণ্ডব, একজন মিথুন বনাম লিটন অথবা রাহি বনাম তাসকিন অথবা রুবেল বনাম সাইফুদ্দিনঃ

একটা দলে অগ্রজ/অনুজ থাকতে পারে, অভিজ্ঞ/অনভিজ্ঞ থাকতে পারে, বিভিন্ন খেলোয়াড়ের ভিন্ন ভিন্ন রোল থাকতে পারে, কিন্তু পরিষ্কার বিভাজন থাকতে পারে না।

একটা খেলোয়াড় যখন প্লেয়িং ইলেভেনে থাকবে তখন তার কাছে দেশ আশা করবে যে সে দেশকে জেতানোর জন্যই দলে আছে। একটা খেলোয়াড় যেই রোলের জন্য যোগ্য তাকে সেই রোলটাই নিষ্ঠার সাথে পালন করতে হবে। ভাল খেললে থাকবে, আর খারাপ খেললে জায়গা ছেড়ে দিবে অন্য কাউকে। এখানে কোন মিথ থাকবে না, থাকবে না অপরিহার্য কেউ।

এরকম না হলে দুভাবে দলের ক্ষতি হয়।

দুইটা পরিষ্কার বলয় থাকার কারণে অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞরা বেশী দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পায় না (উদাহরণ – মোসাদ্দেক সাত নাম্বারের ব্যাটসম্যান না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে জোর করে তাকে খেলানো, আয়ারল্যান্ড সিরিজে সিনিয়রদের বদলে ইয়াসির আলীর একটা ম্যাচও না পাওয়া) এবং বেশী অভিজ্ঞরা ক্রমান্বয়ে ব্যর্থ হলেও দলে টিকে থাকার নিশ্চয়তা পেয়ে যাওয়া – ফ্রি এবং গ্যারান্টেড টিকেটের মত। আমি তো আছিই কেউ আমায় কিছুই করতে পারবে না, এটা একটা দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এখানে একজন ইন্ডিভিজুয়ালের কোন পছন্দ/অপছন্দ থাকা উচিৎ না – একজন ইন্ডিভিজুয়ালের স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ না।

সর্বকালের সেরা ওপেনিং জুটির কথা মাথায় আসলে সচিন-সৌরভের কথা মাথায় আসতে বাধ্য। আট হাজারের উপরে রান করেছেন তারা। সেই সৌরভ দলের স্বার্থে শেওয়াগের জন্য ওপেনিং এর জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন।

আর আমরা ভয়ঙ্কর ভাবে ব্যর্থ, অদক্ষ একজন উইকেটকিপার মুশফিক – কে কিপিং থেকে সরাতে পারিনি তার ব্যাটিং রোলের কথা মনে করে। যদিও দলে আরও দক্ষ উইকেটকিপার ছিল। আমি একবার বলেছিলাম যে বড়লোক হওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হল প্রত্যেকটা ম্যাচের আগে বেটিং সাইটে গিয়ে বাজি ধরা যে মুশফিক একটা হলেও ক্যাচ অথবা স্ট্যাম্পিং মিস করবে। ক্যাচ অথবা স্ট্যাম্পিং মিস চোখে দেখা যায়, কিন্তু বাই অথবা ওয়াইড বলের মিস গুলো চোখে দেখা যায় না – স্কোরবোর্ডে যোগ হতে থাকে – প্রতিপক্ষের রান বাড়তে থাকে, মোমেন্টাম আসে।

মুশফিকের আকারের কারণেও অনেক ৫০/৫০ চান্স মিস হয় – যেগুলো আমরা কঠিন বলে তাকে বেনিফিট অফ ডাউট দেই। আবার তার আকৃতির কারণে অন্যের জন্য মোটামুটি সহজ ক্যাচও অনেক সময় দর্শনীয় মনে হয়।

কিন্তু, তথাকথিত পঞ্চপাণ্ডব হওয়ার কারণে, মুশফিকের মন খারাপ হবে মনে করে, তার ব্যাটিং নষ্ট হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় যে রোলটির জন্য যোগ্য লোক ছিল সেই রোলটি অযোগ্য লোকের হাতে পরে দেশের ক্ষতি হয়ে গেল।

বলেছিলাম না, আমরা দেশ প্রেমিক না? আমরা ভেবেছিলাম যে, মুশফিকের আগের মিস গুলো কো-ইন্সিডেন্টাল – মানুষ মাত্রই ভুল হয়।

কিন্তু না!

কিছুই আসলে কো-ইন্সিডেন্টাল না – কেন উইলিয়ামসন অথবা বাবর আজমকে জিজ্ঞেস করে দেখুন। এই দুইজন তো এই বিশ্বকাপে। অতীতের বই ঘাঁটলে এরকম কত শত বের হবে – ঋদ্ধিমান থেকে কীর্তিমান!
ফুয়াদের কথাটা লিখে রাখুন – ভবিষ্যতেও হবে – টাফ চান্স, ইজি চান্স, হাফ চান্স, ফুল চান্স – ষ্ট্যাম্পের পেছনে – একই মানুষের গ্লোভস ধরে – যদি তার হাতেই থাকে।

পরের প্রসঙ্গে আসি –

“ও ইঞ্জুরড হলেও, ও খেলবে কিনা এই সিদ্ধান্ত আমরা তার উপরেই ছেড়ে দিচ্ছি” – ইজ ইট এ জোক? আপনি ফিট কি ফিট না এইটা দেখার দায়িত্ব ফিজিওর, এটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব খেলোয়াড়ের উপর না। একটা খেলোয়াড় এই যুগে যতই ভাল হোকনা কেন, ফিট না থাকলে খেলবে না, এজ সিম্পল এজ দিস। কিন্তু, ঐযে পঞ্চপাণ্ডব মিথ!

এবার আসি এটিটিউডের কথায়।

আমি যদি বলি নিউজিল্যান্ডের সাথে রিয়াদের ব্যাটিং এর এপ্রোচের কারণে আমাদের অনেকগুলো রান কম হয়ে গিয়েছে? আমি যদি বলি অস্ট্রেলিয়ার সাথে মুশফিক এবং রিয়াদ (হ্যাঁ, তার স্ট্রাইক রেট মাথায় রেখেই বলছি) জেতার কোনও ইন্টেনশনই দেখান নি?

আজকে বিডিনিউজ২৪ এ তামিমের সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন যে সিরিজটি অনেক খারাপ হলেও ২৯ গড়ে তিনি রান করেছেন – এটাও কিন্তু তার মতে অনেক খারাপ না। আমি যদি বলি যে ২৯ গড় একটা ফ্যালাসি(falacy), প্রত্যেকটা ম্যাচে পাওয়ার প্লে তে অসংখ্য বল তিনি নষ্ট করেছেন? মোমেন্টাম নষ্ট করেছেন। এক রান নেননি, দুই রানের বদলে এক রান নিয়েছেন, তিন রান নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আস্কিং রেট বাড়িয়ে ফেলেছেন, অন্য পাশের ব্যাটসম্যানকে চাপে ফেলেছেন – রান আউট করেছেন। সেই স্বাক্ষাতকারের শেষেই তিনি বলেছেন যে শ্রীলঙ্কা সফরে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তার মানে তিনি ধরেই নিয়েছেন যে তিনি দলের সাথে যাচ্ছেন – পঞ্চপাণ্ডব বলে কথা – ফ্রি এবং গ্যারান্টেড টিকেটের মত!

ইংল্যান্ডের সাথে খেলার আগে মাশরাফি প্রেস কনফারেন্সে বললেন যে “ইংল্যান্ডের সাথে এটাকিং খেলে জেতা যাবে না, ডিফেন্সিভ খেলতে হবে।” কি আশ্চর্য! কি হাস্যকর! বড় একটা দলের সাথে হারার আগেই হেরে বসা। পাকিস্তান এমন কি শ্রীলঙ্কাও যে বিশ্বাস টা করেছে, ইংল্যান্ডকে হারানো যাবে, আমরা সেটা করিনি! ডিফেন্সিভ খেলতে হবে ইংল্যান্ডের সাথে? ৪০০ তো সেই প্রেস কনফারেন্সেই লেখা হয়ে গিয়েছিল – ১৪ টা রান কপাল গুনে হয়নি!

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ – মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের কথা বললে আবার এই লেখার এক নাম্বার এবং দুই নম্বর পয়েন্টে ফিরে যেতে হবে। মিডিওকার টিমের, মিডিওকার কোচের মিডিওকার খেলোয়াড় ই প্রিয় হবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। মিথুন এমন একজন খেলোয়াড় যে কিনা ক্রিজে থেকে কিছু রান করবে যেটার আপার লিমিট হয়তো ৬০/৭০, দল একটা সম্মানজনক অবস্থায় যাবে কিন্তু মিথুন কখনো ম্যাচ জেতাতে পারবে না। অপরপক্ষে, লিটন, ক্রিজে যতক্ষণই থাকুক না কেন, দলকে জেতানোর চেষ্টা করবে – দলকে জেতাতেও পারবেন ভবিষ্যতে। ব্যক্তি মিথুনকে আমি ছোট করছি না, তাকে আমি চিনি না, লিটনকেও না, কিন্তু এটাই আমার চোখে তাদের সামর্থ্যের পার্থক্য। এটা নিয়ে আপনি বোকার স্বর্গে থাকতে পারেন, তর্ক-বিতর্ক করতে পারেন কিন্তু এটাই বাস্তবতা। বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর সময়ই যখন আপনি লিটনকে বাদ দিয়ে মিথুনকে একাদশে রাখলেন তখনই দলের লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গিয়েছে।

একই কথা রুবেল বনাম সাইফুদ্দিনের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে – অথবা তাসকিন বনাম রাহির বেলায়।

রুবেল, তাসকিন স্ট্রাইক বোলার – গতিসম্পন্ন বোলার – রান দিবে হয়তো – অনেক সময় মনে হবে এত বাজে একটা ওভার করল – কিন্তু আপনাকে ঠিকই উইকেট এনে দিবে, প্লেয়ারদের বিট করবে, প্লেয়ারদেরকে ভাবতে বাধ্য করবে, প্লেয়ারদেরদের মনে ভয় ধরাবে – আর ফাঁক দিয়ে – অন্য বোলার এসে টাইট বোলিং করবে (যে রোল ছিল সাকিব/মিরাজের)।

অনেক ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিবে।

মোসাদ্দেক, মিরাজের নির্বিষ বোলিং এ যখন কিছুতেই উইলিয়ামসন, টেইলর আউট হচ্ছে না তখনই তাসকিন, রুবেল, খালিদ, ইবাদতের মত গতিসম্পন্ন বোলাররা একটা উইকেট এনে দিতে পারত। এভাবেই খেলা পাল্টে যাবে, আপনি কিছু ম্যাচ হারবেন কিন্তু অনেক ম্যাচ হারাবেন ও – প্রতিপক্ষের ভুলের দিকে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাববেন না অস্ট্রেলিয়া কেন এতবার বিশ্বকাপ নিয়ে গেল? ওদের কি অনেক বেশী ভাল খেলোয়াড় আছে? নাকি ওদের লাক অনেক ভাল? সবই কি কো-ইন্সিডেন্স?

কিছুই কো ইন্সিডেন্স না, কিছুই লাক না।

আপনি যা চাবেন, যেভাবে চাবেন, যতটুকু চাবেন, সেটাই পাবেন।

বীরকে বিদায় দিতে চাইলে তাকে বিদায় দিতে পারবেন, আম্প্যায়ারের ভুল ধরতে চাইলে সেটাও পারবেন।

ইশ! জিততেও পারতাম ভাবলে, অল্পের জন্য হারতেও পারবেন কিন্তু দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা না করলে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করলে, জেতার জন্য যা যা করা দরকার সব করতে প্রস্তুত না থাকলে বিশ্বকাপে দশটা দলের ভেতরে অষ্টম থেকেই, অনেক ভাল করেছি ভেবেই, বীরদের স্তুতি দিতে দিতে, আমায় একটু গালি দিয়ে, ঢেঁকুর তুলে বিছানায় যাওয়া ছাড়া আর সাথে অন্য দলের কাপ নিতে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না।

ওহ! আর একটা জিনিস পারবেন। চার বছর বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা আর ভাগ্যের দোহাই নিয়ে আবার দশ দলের ভেতরে সপ্তম/অষ্টম হওয়া আর অর্থহীন কিছু তিনশ এর উপরে রান করে খুশীতে বাকবাকুম হয়ে যাওয়া।

ভাল থাকবেন সবাই।

(কি কি করা যেতে পারে ভবিষ্যতের জন্য এটাও মাথায় আছে, এই লেখাটায় কিরকম গালমন্দ খাই, আমি কবে ক্রিকেট খেলেছি বা কত বড় কাবিল হয়েছি এধরনের মন্তব্যের পরিমাণের উপর ভেবে দেখব যে সেই লেখাটা পোস্ট করা ঠিক হবে কিনা)