স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিথি হচ্ছেন অযোগ্য ,অশিক্ষিতরা

মূল্যবোধের অবক্ষয়
মূল্যবোধের অবক্ষয়

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ, সভ্যজাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সু-শিক্ষায় শিক্ষিত সুনাগরিক গড়ার কারিগর হল শিক্ষক। সুনাগরিক গড়তে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার শিক্ষা বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখেন। ফলে দিন দিন শিক্ষার হার এবং সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ ও উন্নত শিক্ষা দান পদ্ধতির ফলে নকল প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। অভিভাবকগণ সন্তানের সু-শিক্ষার জন্য উন্নত স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোঁজেন তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়।

আর এক্ষেত্রে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (ম্যানিজিং কমিটি বা গবর্নিং বডির) সদস্যসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।অথচ বর্তমানে ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়তে সচেষ্ট নয়।রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু অশিক্ষিত দালাল ,বাটপার শ্রেণীর কথিত নেতাদের কুটপরামর্শ ও অনাগ্রহের কারনেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।সম্প্রতি এক শিক্ষানুরাগী তার পাশ্ববর্তী স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে দু:খ প্রকাশ করে বলেন,‘‘বর্তমানে যার টাকা আছে যার ক্ষমতা আছে গুন্ডাপান্ডা আছে তারাই অতিথির চেয়ার পায় তারাই বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে।এইসব অশিক্ষিত দালাল শ্রেণীর লোকেরা ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কি বক্তব্য দিবে কি পরামর্শ বা উপদেশ দিবে যেখানে তারা নিজেরাই সারাজিবন চোরি দালালি করে আসছে।

অপর এক শিক্ষানুরাগী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, বর্তমানে যোগ্যতাকে টাকার মাপকাঠিতে মাপা হয় ,একজন ব্যক্তির টাকা আছে এটাই তার যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয় অথচ সে অশিক্ষিত।সমাজের জন্য এটা খুবই দু:খজনক।

বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটিতে শিক্ষানুরাগীদের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দদেরকে।যারা অনেকেই অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত।আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথির চেয়ারে শিক্ষকদের পাশে বসে থাকে স্থানীয় প্রভাবশালী টাউট বাটপার কেডাররা।আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ,তারা যা দেখবে তাই শিখবে নিশ্চই এমন একজন ব্যক্তির বক্তব্য শুনতে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দবোধ করবে না যিনি সমাজের কাছে মন্দলোক হিসেবে পরিচিত।অপরপক্ষে একজন সুশিক্ষিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সর্বদাই শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে যুগোপুযোগী পরামর্শ দিতে সক্ষম।একজন শিক্ষানুরাগীর পক্ষেই সম্ভব একজন শিক্ষককে তার যথার্থ সম্মানটুকু দেওয়া।যা একজন অশিক্ষিত ব্যক্তির দ্বারা কখনোই আশা করা সম্ভব নয়।

সর্বোপরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে যারে তারে অতিথি করে পবিত্র শিক্ষালয়টিকে কলুষিত করা থেকে বিরত থাকবেন বলে আশা করি।সেই সাথে দয়া করে শিক্ষার মান উন্নয়নে যারা সুপরামর্শ দিতে পারবে, ছাত্রছাত্রীরা যাদের মুখের বাণী শুনে তাদের শিক্ষা জিবনে উন্নতি বয়ে আনতে পারবে,শিক্ষকদের সাথে যাদের বসতে মানায় তাদের দাওয়াত করুন তাদের সমন্বয়ে গড়ে তুলুন আপনার প্রতিষ্ঠান।

আজাহারুল ইসলাম আজাহার
সাংবাদিক,কলামিস্ট।