রক্তাক্ত দিল্লির রাজপথ

রক্তাক্ত দিল্লির রাজপথ

ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্ক:: ভারতের দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়া ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫০ জন। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আরও পাঁচ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

সোমবার দুপুরে দিল্লিতে সংঘর্ষের ঘটনাটি সপ্তাহান্তে শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। উভয় গ্রুপ তরোয়াল, পাথর এবং অন্যান্য অস্ত্র বহন করে একে অপরকে আক্রমন করে। পরে এ সংঘর্ষ মৌজপুর, জাফরাবাদ ও অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে এবং বাড়িঘর ও যানবাহনে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আলোচনার স্থানের মাত্র ১ কিলোমিটার দুরে ফের সহিংসতা শুরু হয় এবং দ্রুত আশেপাশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা লাঠি, তলোয়ার ও ইট পাটকেল নিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বেগ পেতে হয়।

সহিংসতা নিরসনের সমাধানের জন্য কেন্দ্র এবং দিল্লি প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনটি পর্যালোচনা সভায় দিল্লি পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সহিংসতা ঠেকাতে আরও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সভায়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের কর্মকর্তা ও বিধায়কদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় সাধন এবং সহিংসতার অবসান ঘটাতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি প্রতিবাদকারীদের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে শান্ত হওয়া এবং তাদের বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান।