যুবলীগ নেতাকে রক্তাক্ত করেই দাখিল মাদ্রাসা কমিটির দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন হুমায়ুন আকন্দ

জসিম উদ্দিন(নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনে ২০১০ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, এডহক কমিটির প্রধানের জন্য প্রার্থী ছিলেন ঐ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষানূরাগী তরুণ সমাজ সেবক, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ,সাবেক স্বেচ্ছা সেবকলীগ,উপজেলা যুবলীগ নেতা ফকরুল ইসলাম।

মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবাবকসহ দলীয় নেতা কর্মীরা ও তথকালীন সুপার তাঁর প্রতি যথেষ্ট সমর্থন ছিল।

বিষয়টি নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল তখনকার সময়২০১০সালে ত্রিশাল আসন থেকে আওয়ামীলীগের এমপি ছিল এড, রেজাআলী। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মাদ্রাসার এডহক যাচাই-বাচাই জনমত দেখতে এমপি রেজা আলী মাদ্রাসার ছাত্র অভিবাবকদের উপস্থিতি চেয়েছিল।

২০১০সালে একদিন ফকরুল ইসলাম ছলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র অভিবাবক নিয়ে এমপির বাসবভনে ঢুকলে এই হুমায়ুন কবীর আকন্দ এমপির উপস্থিতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফকরুল ইসলামের উপর মেরে ফেলার জন্য অতর্কিত হামলা করে গুরতর আহত করেন এবং অনেক ছাত্র অভিবাবকসহ অনেকেই আহত হয়েছিলেন।

সে সময় হুমায়ুন কবীর ছিলেন, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ক্ষমতার দাপটে তখন কেউ মুখ খুলতে রাজী হয়নি। সংসদ সদস্যের উপস্থিতি এই ঘটনায় কেউ ভালো চুখে না দেখলেও প্রতিবাদ করেননি কেউ।
এমপি রেজা আলী তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত থাকলেও বিশেষ চাপে বাধ্য হয়েছিলেন তাকে এডহক কমিটি আহবায়ক বানাতে।

এভাবেই হুমায়ুন আকন্দ ১৫কিঃমিঃ দূরে গিয়ে এডহক কমিটির দায়িত্ব পান। হুমায়ুন আকন্দ দায়িত্ব পেয়েই ৬নং ত্রিশাল ইউনিয়ন ২নংওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি তার আপন বোন জামাই আব্দুল হাই ফকিরকে নিয়ে প্রথম ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন।
তার ক্ষমতার দাপটে এলাকার সবাই ছিল অসহায়, তার দুই মামা হযরত আলী, ঈসমাইল হোসেন ও তার বোন জামাইয়ের আপন বাতিজা শফিকুল ইসলামকে ম্যানেজিং কমিটিতে রেখে নিয়োগসহ যা করণীয় সব করেছেন।

সাবেক সুপারকে শোকজ ভারপ্রাপ্ত সুপারকে সরাসরি সুপারে নিয়োগসহ সর্বশেষ গত ২৮শে জুলাই ২০২০ইং তারিখ একজন নৈশ্য প্রহরী ও একজন আয়া নিয়োগ দিয়েছেন বলে এলাকায় কানাঘোষা চলছে।
আর এসব করার শুরু থেকেই সহযোগীতা করেছেন ত্রিশালের সাখুয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান সুপার আতিকুল ইসলাম।

এবিষয়ে ২০১০সালে এডহক কমিটির প্রার্থী ছিলেন ফকরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এলাকার এই মাদ্রাসাটি উন্নয়নের জন্য আমি এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুরের কিছু মানুষের ব্যক্তির স্বার্থের কারণে আমি আর এগিয়ে যেতে পারিনি বরং দলীয় এমপির সামনে রক্তাক্ত হয়েছিলাম।

এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই কারণ ২০১০সাল এডহক কমিটি যারা পেয়েছেন তারাই চালাচ্ছেন নির্বাচন হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এলাকার মানুষ তারা যদি এগিয়ে যেতে চান তারা যাক। আমি যাবনা এই মাদ্রাসাটি নিয়ে আমি আর রক্তাক্ত হতে চাইনা।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শিক্ষক প্রতিনিধি ঈসমাইল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি চাপের মুখে রয়েছি মাদ্রাসায় কোন সিদ্ধান্ত আমার জানার প্রয়োজনবোধ মনে করেন না।

সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, কমিটিতে নামে মাত্র রয়েছি সই চেয়েছে দিয়েছি এতদিন কি হয়েছে জানিনা।
পরে এ বিষয়ে হুমায়ুন আকন্দের সাথে ৫ আগস্ট ৪টা ৩০মিঃ সময় ০১৭২৫৭০৪৫২৩নাম্বারে একাদিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।