ময়মনসিংহে হতাশা আর অপ্রাপ্তির আগুনে জ্বলছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

মোঃকামাল (ময়মনসিহ)ঃঃ হতাশা আর অপ্রাপ্তির আগুনে জ্বলছেন ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির অনুমোদন। সেই সাথে প্রবীণ এবং নবীণদের মধ্যে চলছে মান-অভিমানের খেলা। অবস্থান নিশ্চিত করতে  চলছে গোপন লবিং গ্রুপিং  ।

বর্তমান সময়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে পাচ্ছেন না সহযোগীতা বা সাক্ষাৎ।সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে না কেউ বিপদে পড়া কর্মীদের।যার ফলাফল বাড়ছে  মান-অভিমান আর প্রতিহিংসা। ভবিষৎ অন্ধকার দেখে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করেও পাচ্ছে না কোন আলোর দিশা।

বিপদে পড়েও প্রশাসনের সহযোগীতা মিলছে কর্মীদের । কারণ উপর মহলের টেলিফোন ছাড়া প্রশাসনও সহযোগীতা করেন না । একটি সময় ছিল যখন একটি সংগঠনের সভাপতির নির্দেশক্রমেই সকল প্রকার সাহায্য সহযোগীতা মিলতো কর্মীদের,এখন সেই পথও বন্ধ।

দু-চার জন নেতৃত্বস্থানীয় নেতাদের কাছে যেনো পুরো সংগঠন, তাদের আর্শিবাদ ছাড়া কর্মীদের যেনো পথ চলা দায় । তাই দিন যাাচ্ছে আর হতাশার আগুন বেড়েই চলছে এই কর্মীদের মাঝে। প্রবীণ রাজনীতিবিদরা যেনো এখন সবাই ঘরবন্দি, নবীণরাও দৌড়-ঝাপ করে এখন ক্লান্ত থেমে গেছে তাদের পথচলা।

সততা-বিশ্বস্ততা আর অসীম সাহষিকতা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে যারা আছেন তারাও নিরবে কাঁদছেন। চেয়ে আছেন দলের শীর্ষ অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকে। কারণ তিনি ত্যাগীর মর্যাদা দিতে জানেন বিধায় অনেকের দৃষ্টি এখন তাঁর দিকে।

কি করে দলের সভাপতি সেই অপেক্ষায় আছেন ত্যাগীরা। তবে সকল কিছুর পরেও অনেকেই আদর্শ আঁকড়ে ধরে আছেন সামনে দিনগুলোর আশায়। আবার অনেকেই রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়ছেন। কারণ পরিবার-সংসার আর ভবিষ্যৎ বলে একটি কথা আছে।আর ভবিষ্যৎ গোছানোর জন্য অনেকেই ছুটছেন চাকুরী কিংবা ব্যবসায়।

দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অনেক নেতাকর্মীরা লাভ-লোকশানের হিসেব গুনছেন। এই দীর্ঘদিন দলটির জন্য যারা যুদ্ধ করেছে তারা আজ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধার থেকে বঞ্চিত । হাইব্রিড এবং অনুপ্রবেশকারীরাই যখন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছে এগুলো দেখে ত্যাগীরা ক্ষোভের আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে। অনেকটাই নিচের কথা গুলোর মত-

                                                   আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার।
                                                         বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার…….।

ত্যাগী অভিমানিদের অভিযোগ শোনার মতো যেনে কেউ নেই ? যে সুবিধা পেয়েছেন সে যেনো সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এখন অন্ধ। তাইতো তাদের চোঁখে পড়ে না কর্মীদের আর্তনাদ।

দল ক্ষমতায় থাকার পরেও একাধিক মিথ্যা মামলায় আজ জড়জড়িত অনেকেই। আবার অনেকেই দলের জন্য নিজের অর্থ ও সম্পদ ,সময়  বির্ষজন করেও পাচ্ছেন না দলে সম্মানজনক অবস্থান। লবিং ও গ্রুপিং করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ত্যাগীদের সম্মানীয়অবস্থানটি।

আওয়ামী লীগের এমন অবস্থা শুধু ময়মনসিংহ শহরের চিত্র নয় বরং এটি সারা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি করুণ দশায় পরিনত হয়েছে।

নিজের মন থেকে এবং কিছু নেতাকর্মীদের দুঃখ-দূর্দশা, মান এবং অভিমানের কথা তুলে ধরলাম ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি কাউকে আঘাত করে কথাগুলো বলিনি। সত্যিকারে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সৈনিকদের সম্মান ফিরে আসুক এইটাই কামনা করছি দলের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ।