ফুলবাড়িয়ার আছিমে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে কালভার্ট

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের গোদারবন্ধে কালভার্ট নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের গোদারবন্ধে কালভার্ট নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার

এস.এম জামাল উদ্দিন শামীম,ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি)-এ ইউ ড্রেন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। ইউ ড্রেন নির্মাণ করছেন প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী। একই সড়কে আরেকটি প্রকল্পে ইউ ড্রেনের বেইস ঢালাইয়ে কোনো রড ব্যবহার না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজটি করাচ্ছেন এক নারী ইউপি সদস্য। দুটি নির্মাণকাজেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

গত ৪ জুন শনিবার বেইস (ভিত্তি) ঢালাইয়ে ‘বাঁশ ব্যবহার’ করা ছবি স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। বিকেলে ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) এ কে এম গালিব খান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ইউপি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্পের ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২ টাকায় ১০টি প্রকল্প করা হয়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গি-কান্দানিয়া রাস্তার কালির চালা থেকে পান্নাবাড়ী সড়কের তালেব আলীর জমির পাশে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী গত শুক্রবার বন্ধের দিন রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করেন।

ইউ ড্রেন নির্মাণে বেইস ঢালাই করতে গিয়ে রডের বদলে বাঁশ (কাভারি) ব্যবহার করা হয়। একই সড়কের খাপসার খালে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি ইউ ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রাশিদা খাতুন। তিনি নিজেই প্রকল্পের কাজটি করাচ্ছেন। কিন্তু সেই ইউ ড্রেনের বেইস ঢালাইয়ে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক।

আছিম-পাটুলী ইউনিয়নে প্রকল্প কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের কোনো তদারকি নেই বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।

গতকাল দুপুরে সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, ইউ ড্রেন বেইস ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সাংবাদিক আসার খবরে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে চলে যান। ইউ ড্রেন দুটির দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, সুরকি, বালু ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ‘বক্স কালভার্ট (ইউ ড্রেন) দুটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রডের পরিবর্তে বাঁশ দেয়ার সময় প্রতিবাদ করেছি; কিন্তু মেম্বাররা (ইউপি সদস্য) কর্ণপাত করেননি।’

ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ইউ ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে বিলের পানি আটকানোর জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে বেইস নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জানান, বেইস ভেঙে বাঁশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ইউপি সচিব হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের না জানিয়ে মেম্বার সাহেব ইউ ড্রেন নির্মাণকাজ বন্ধের দিন শুরু করেন।’

ইউপি চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান বলেন, রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার—এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্যারকে (জেলা প্রশাসক) বিস্তারিত জানিয়েছি।’

উপ পরিচালক এ কে এম গালিব খান জানান, একটিতে বেইস নির্মাণে রড ব্যবহার করা হয়নি, আরেকটিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ইউ ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।