মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে চায়না ইসলামী দলগুলো, ঢাকায় বিক্ষোভ

বায়তুল মোকাররম গেইটে বিক্ষোভ
বায়তুল মোকাররম গেইটে বিক্ষোভ

আশরাফুর রহমানঃ দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লিরা। আজ (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পর সমমনা ইসলামী দলগুলোর ব্যানারে মসজিদের গেটে এই বিক্ষোভ হয়। সমাবেশ শেষে তারা মিছিল বের করেন। এসময় মুসল্লিরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আজ মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নামাজ শেষে তাদের অনেকে বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ভারতের সাম্প্রদায়িক মোদি সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। মুসলমানমানদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের ওপরও নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মুসলমানদের ওপর নির্যাতনকারী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে মোদিকে প্রতিহত করা হবে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা কাফনের কাপড় পড়ে বায়তুল মোকাররম থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দাঁড়াব।”

তারা আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেও অসাম্প্রদায়িক। আমাদের দেশ অসাম্প্রদায়িক। এখানে আমরা মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান একসঙ্গে বাস করি। আর মোদি হলো একজন উগ্রপন্থী লোক। সে সাম্প্রদায়িক এবং খুনি। সুতরাং মুজিববর্ষে তার মতো খুনি সাম্প্রদায়িক এবং উগ্রবাদীকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। তার আমন্ত্রণ পত্র প্রত্যাহার করতে হবে।”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগরীর আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সভাপতি আল্লামা আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীসহ আরো অনেকে।

গতকাল সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতি অনুষ্ঠিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা বন্ধুপ্রতিম পড়শী ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের এহেন দাঙ্গা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একইসাথে এই শঙ্কা প্রকাশ করছি যে, পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে সামাল দিতে না পারলে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যা এ অঞ্চলের দেশসমূহের শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কলামনিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক অনুপম সেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, মফিদুল হক, জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।