মুসলিমকে ভালবাসায় পরিবার থেকে আলাদা হৃতিক রোশনের দিদি সুনয়না

সুনয়নার বিস্ফোরক সাক্ষাত্কারের পর রোশন পরিবারের সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

মেয়েটির প্রেমিক মুসলিম। সে কারণেই মেয়ের বাড়ি থেকে সেই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হচ্ছে না।

না! এ কোনও সাধারণ পরিবারের ঘটনা নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে এই গুরুতর অভিযোগ করেছেন হৃতিক রোশনের দিদি সুনয়না!

সুনয়না বলেন, ‘‘গত বছর এক মুসলিম ছেলেকে ভালবেসেছি বলে বাবা আমাকে চড় মেরেছিল। ওর নাম রুহেল। বাবা বলেছিল রুহেল জঙ্গি। আমি বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করি। শুধুমাত্র মুসলিম বলে বাবা-মা ওকে মেনে নিচ্ছে না। ওরা আমার জীবনটা নরক করে তুলেছে।’’

সুনয়নার বিস্ফোরক সাক্ষাত্কারের পর রোশন পরিবারের সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সাম্প্রতিক ভারতে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই আবহে তথাকথিত শিক্ষিত বলে পরিচিত বলিউডের নামজাদা পরিবারের এ হেন আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র মুসলিম ছেলেকে ভালবাসার জন্য সুনয়নাকে ‘হেনস্থা’ করায় তাঁর বাবা রাকেশ রোশনও সেই সমালোচনার মুখোমুখি!

এই পরিস্থিতিতে ভাই হৃতিক রোশনকেও তিনি পাশে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সুনয়না। তাঁর দাবি, ‘‘হৃতিকের কোনও কথা বাড়িতে চলে না। আমার রিলেশনশিপ নিয়ে কেউই খুশি নয়। হৃতিক বলেছিল আমাকে একটা আলাদা বাড়িতে থাকার খরচ দেবে। কিন্তু লোখান্ডওয়ালায় আমার বাড়ি ভাড়া আড়াই লক্ষ টাকা ও দিতে চায়নি। বলেছে, টাকাটা অনেক বেশি। ওর কাছে আড়াই লক্ষ টাকা বেশি! সবাই হেনস্থা করেছে আমাকে।’’

সুনয়নার আরও অভিযোগ, মাসের খরচ চালাতে ৫০ হাজার টাকা তাঁকে বাড়ি থেকে দেওয়া হয়। রোশন পরিবারের মেয়ে হয়েও এত কম টাকায় কেন তাঁকে চালাতে হবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি ভাই হৃতিকের সঙ্গে ঝামেলা থাকলেও তিনি নাকি সাহায্যের জন্য ছুটে গিয়েছেন কঙ্গনা রানাউতের কাছে। ‘‘আমি কঙ্গনার কাছে সাহায্যের জন্য গিয়েছি। ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলে। আমি ওকে সাপোর্ট করি’’ শেয়ার করেছেন সুনয়না। তিনি দাবি করেছেন, হৃতিকের সঙ্গে কঙ্গনার সমস্যার বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। কঙ্গনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। মাঝে হঠাত্ই নাকি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন নায়িকা। সমস্যা নিয়ে সাহায্যের জন্য ফের তাঁর কাছেই গিয়েছেন সুনয়না। যদিও এ বিষয়ে কঙ্গনা বা রোশন পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।   আনন্দবাজার