সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার ০৭নং ওয়ার্ডে টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় হাইয়ুলের বাসা থেকে ০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিরহতরা হলেন- শিশু কন্যা রাইসা (০৭) ও নিরব (০২) এবং তাদের ময়না আক্তার (২৫)। তারা নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার জেনের বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিল । গতরাতে যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আকতার উল আলম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং বলেন, পারিবারিক কোন কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সময় স্বামী ঘরে ছিল না বলে জানা গেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের দেবর পালায়ন করায় সন্দেহ করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
ভালুকা থানা পুলিশের

অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, নিহত ময়নার স্বামী রফিকুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ ছোট ভাই নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এই ভাড়া বাসায় থেকে কারখানায় চাকরি করতো। গতরাতে সে কর্মস্থলে ছিল তবে আজ সকাল ৯টার দিকে রফিকুল কর্মস্থল থেকে বাসায় গিয়ে দেখেন দরজায় তালা । অনেক ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া না পেয়ে তালা
ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মৃতদেহ গুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডি
কেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
নজরুলের রিকশার গ্যারেজের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোর ০৬টার দিকে নজরুল গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় সে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল স্থানীয় একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আকতার উল আলম বলেন, দেবর নজরুল কথা কম বলত এবং লোকজনের সঙ্গে মিশত কম। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি পারিবারিক কারণে ঘটেছে। কারণ এ ঘটনার পর থেকে দেবর পলাতক রয়েছে। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং খুনি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত ঘটনাটি স্পষ্ট হবে।
প্রসঙ্গত, নিহত ময়না ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাবর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আফতাব উদ্দিনের মেয়ে। গত কয়েক বছর আগে কর্মসূত্রের পরিচয়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
ত্রি/প্রতিদিন ডেস্ক
