ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরিফুল ইসলামের সাজা, বিপরীত বক্তব্য জেলা প্রশাসকের

ডিসি সুলতানা পারভীনও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম
ডিসি সুলতানা পারভীনও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম

মোয়াজ্জেম হোসেনঃঃ ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরিফুল ইসলামের সাজা নিয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।

ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার দায় নিচ্ছেন না জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন। তিনি বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কথা মতো ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন  কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজ বাসা থেকে আরিফুল ইসলামকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে এক বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় তার বাসা থেকে আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। যদিও আরিফ অধূমপায়ী বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

ডিসি সুলতানা পারভীন গণমাধ্যমকে বলেন, “কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুরোধে আমার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের ছয়জন সদস্য, আনসারের পাঁচজন সদস্য ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিনজন সদস্য মিলে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে যায়। ওই সাংবাদিককে নিয়ে মোবাইল কোর্ট করার আমার কোনো ঠ্যাকা পড়েনি।”

তবে এমন দাবি নাকচ করে কুড়িগ্রাম মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু জাফর বলছেন তারা কোনো মোবাইল কোর্ট আয়োজন করেননি।

অপর দিকে কুড়িগ্রাম সদর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার উৎপল রায় বলেন, “আরিফুল ইসলামের মোবাইল কল পেয়ে আমরা দ্রুত তার বাড়িতে ছুটে যাই। আমরা গিয়ে দেখি বাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। তাকে ট্রেস করার জন্য চারদিকে পুলিশের মোবাইল টিমকে বলা হয়। রংপুর র‍্যাব-১৩ ও লালমনিরহাট পুলিশকে অবহিত করা হয়। কারণ, বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ছিল। আমাদের আশঙ্কাও ছিল। খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে দু’টি গাড়ি দেখতে পেয়ে আমরা সেখানে যাই। সেখানে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা হয়।

কথা বলে জানতে পারি আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অপরাধ কী জানতে চাইলে তারা বলেন, ১৫০ গ্রাম গাঁজা ও অর্ধেক বোতল মদ পাওয়া গেছে। পরে আমরা সেখান থেকে চলে যাই।”

এদিকে শনিবার কুড়িগ্রাম কারাগারে আরিফুলের সঙ্গে দেখা করার পর তার স্ত্রী মোস্তারিমা নিতু অভিযোগ করেন, শুক্রবার আরিফুলকে বাসা থেকে জোর করে তুলে নেওয়ার পর জেলা প্রশাসন কার্যালয় পর্যন্ত লাথি, চড়, ঘুষি মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তার দুই চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর প্যান্ট-শার্ট খুলে উলঙ্গ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

যারা তাকে নির্যাতন করেছেন, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা বলে জানিয়েছেন আরিফুল। তাদের দেখতে না পেলেও, সবার কণ্ঠস্বর তার মনে আছে।

তিনি আরও জানান, তার স্বামী খুবই অসুস্থ। সে ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। এমনকি তাদের সঙ্গে কথা বলার মতো তার শক্তি ছিলো না।

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ ওঠায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করছিলেন তিনি।