ভিনদেশী বন্ধুকে পাঠানো এক চাইনিজের লেখা চিঠি

ভিনদেশী বন্ধুকে পাঠানো এক চাইনিজের লেখা চিঠি

অবশেষে শত ব্যস্ততা হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে শান্ত হয়ে গেল পুরো চীন । এ যেন শুধুই ছুটে চলা শ্রান্ত ক্লান্ত যান্ত্রিক মানুষগুলোকে জোর করে ছুটি দেয়া । বনের বাঘ সিংহকে খাঁচায় বন্দী রাখা মানুষগুলোকে এখন ঘরের খাঁচায় বন্দী করেছে চোখে দেখা যায় না এমন এমন জীবাণু-মানুষ যার নাম দিয়েছে করোনা ।

মানুষ শেষ পর্যন্ত তাদের গর্বিত মাথা নীচু করে নিঃশব্দে ভাবতে শুরু করেছে-আমরা কি আসলেই পৃথিবীর রাজা ? মানবজাতি অবশেষে আবার প্রকৃতির শক্তি অনুভব করছে ? অনুভব করছে অদৃশ্য এক অপরিসীম মহা শক্তির!

স্বার্থপর নিষ্ঠুর আর লোভী হৃদয়গুলোকে ভাইরাস দ্বারা শুদ্ধ করা হচ্ছে । রাত দিন অবিরাম জ্বলে থাকা লাল সবুজ ট্রাফিক লাইটগুলো আজ বড় ক্লান্ত । তাদের হয়ে ভাইরাস এসে বিরতিহীন ছুটে চলা মানুষগুলোকে ধমকে দিচ্ছে-গো হোম !

প্রতি সেকেন্ডে শত শত গাড়ী ছুটে চলা রাস্তাগুলো ভয়ানক নীরব হয়ে গেছে । ধুয়াবিহীন বাতাসে বেড়ে গেছে বাঁচার অক্সিজেন । ধূসর পাতাগুলোতে সবুজ চলে এসেছে । এরকম নীল আকাশ অনেকদিন দেখেনি হুবেই শহর। সূর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বল জ্বল করছে।

পারিবারিক জীবনযাপনগুলি জীবন পায়নি অনেকদিন । প্রিয় মুখগুলো এক সাথে এক টেবিলে মুখামুখি অনেকদিন পর । বছরের পর বছর পড়ে থাকা বইগুলো অলস পাঠক পেয়েছে অনেক বছর পর । সম্পর্কগুলো জোড়া লাগছে ফের । ওল্ড হোমগুলোতে সন্তানের খোঁজখবর বেড়েছে । শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত মানুষেরা হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখগুলো আবার খুঁজে পেয়েছে ।

ভাইরাস মানবকে একটি স্পষ্ট ও গভীর শিক্ষা দিয়েছে । হারিয়ে যাওয়া ভাল লাগা পারিবারিক মুহুর্ত গুলোকে নাড়া দিয়ে গেল । জীবন কেড়ে নেয়া এ শত্রু, এক অর্থে জীবনে আবার জীবন দিয়ে গেল । অকৃতজ্ঞ আর উদ্যত মানুষগুলোকে ভয়ানক ধাক্কা দিয়ে বুঝিয়ে দিল – বি গ্রেটফুল । সুপারপাওয়ার নিমিষেই সুপার জিরো হতে খুব বেশী সময় লাগে না , সেটা ভুলেই গিয়েছিল সুপার কনফিডেন্ড চাইনিজ আর গোটা বিশ্ব ।

ভাইরাসটি এত তাড়াতাড়ি ছাড়বে না, জোর করে বুঝিয়ে ছাড়বে-একটু থামো, জীবনকে ভালবাস, অন্যায় করো না, অত্যাচার করো না । একজন সুপার পাওয়ার সব দেখছেন ।

আমরা ভুলে যাই-তিনি স্রষ্ঠা আর আমরা তাঁর মহাবিশ্বের খুব সামান্য এক সৃষ্টি ।

-ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত।