ভালুকায় দক্ষিণ রাংচাপড়া প্রাইমারি স্কুল হতে ভাটগাঁও-পুরুড়া সংযোগ সড়কের বেহাল দশা

মোঃ নাজমুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের শিল্পনগরী ভালুকায় ভরাডোবা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাংচাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ ঘেষে রাস্তাটি কুমারপাড়া ২ কিমি: অংশে শীত-বর্ষাকালে করুন দুর্দশায় সাধারন মানুষকে চলাচল করতে হয়। এ জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি ভরাডোবা ইউনিয়নের রাংচাপড়া গ্রামের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডসহ আশপাশের প্রায় কয়েক হাজার পরিবারের সাধারন মানুষকে দুর্ভোগ নিয়েই যাত্রায়াত করতে হচ্ছে প্রতিদিন ভালুকা সদরে। এছাড়া রাংচাপড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও রাংচাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক’শ ছাত্র-ছাত্রীদের এমন বেহাল রাস্তায় দুর্ভোগের মাঝেই স্কুলে প্রতিদিনই আসা যাওয়া করতে হয়। অত্র এলাকার সাধারন মানুষের যাত্রায়াতের জন্য একমাত্র এ রাস্তাটি গত ৪ বছর আগে HBB করা হয়েছিলো মাত্র ১০০ ফুট সেটাও ভেঙে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রাস্তার দুইপাশে অপরিকল্পিত মৎস্য চাষের জন্য দুইপাশ ভেংগে একবারে সরু হয়ে গেছে। রাস্তাটির ২ কিমি: সড়কের কুমারপাড়া পর্যন্ত দুইপাশে শত শত গাছ ছিলো তার প্রায় অর্ধেকই সড়ক ভেংগে মাছের খামারে পড়ে গেছে! রাস্তাটি মেরামত বা কোন রকম ইট বালি ফেলতেও কেউ উদ্যোগ নেন না কিন্তু প্রতিদিনই রাস্তার দুইপাশের মৎস্য চাষীরা মাছ ধরে বিক্রি করছে স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন আড়ৎ এ বড় ট্রাক,ভাইরাস গাড়ি সহ লড়ি দিয়ে! যার ফলে এ এলাকার সাধারন মানুষকে পায়ে হেটে কাঁদা মেখে প্রতিদিনই যাত্রায়াত করতে হচ্ছে। অত্র এলাকার কোন মানুষ জরুরী প্রয়োজনে অসুস্থ হলে বা প্রসূতি মাকে সদর হাসপাতালে নিতে কোন রিক্সা ভ্যান বা গাড়ি চলাচলের অনুউপযোগি হওয়াতে বিপদের সময় রোগিকে কোলে বা কাধে নিয়ে রাংচাপড়া মোড় থেকে গাড়িতে চড়ে হাসপাতালে নিতে হয়! অথচ অপরিকল্পিত মৎস্য চাষের আগে কাঁচা রাস্তাও রিক্সা ভ্যান এমনকি জরুরী প্রয়োজনে এ্যামবুলেন্স প্রতিটি বাড়িতে যাওয়া যেতো! রাস্তার পাশে মাছের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা নিশিদ্ধ মুরগির পঁচা লিডার পড়ে থাকে দিনের পর দিন যার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আশপাশের বসতবাড়ির মানুষসহ রাস্তায় চলাফেরা করা জনগণও।

অত্র এলাকার সাধারন জনগনের অভিযোগ রাস্তার বেহাল দশার জন্য যারা দায়ি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা কোন কিছু বলার মতো সাহস কারও হয়না কারন মৎস্য চাষীরা সবাই প্রভাবশালী! তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসার উন্নতি করতে কোটি কোটি বছরে আয় করছেন এ রাস্তাটি ব্যবহার করে অথচ রাস্তা মেরামতে বা রাস্তা দুইপাশ ওয়াল করে বেধে যদি মাছ চাষ করতো তাহলে রাস্তাটি এভাবে চলাচলের অনুউপযোগি হতো না! তাদের দরকারে রাস্তাটি ব্যবহৃত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এলাকার সাধারন মানুষ কত কষ্ট করে চলাফেরা করছে তা তাদের চোখে পড়েই না! আমরা রাংচাপড়া এলাকাবাসি অপরিকল্পিত মৎস্য চাষের রোষানল থেকে মুক্তি চাই!

এলাকাবাসি দৃষ্টি আর্কষন করেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের যাতে মৎস্য চাষীদের চাপ প্রয়োগ করে রাস্তা দুই পাশ ইটের দেয়াল করে ভরাট করা হয় এবং অতিদ্রুত এ রাস্তাটির দুই কিমি: সংযোগ সড়কটি HBB আওতায় অন্ততপক্ষে ইটের সলিং করে জনগনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরি ভূমিকা পালন করেন।