ভালুকায় কলেজ ছাত্রী ধর্ষন,৪লাখ টাকায় জোরপূর্বক ফয়সালা

স্টাফ রিপোর্টঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাঁশর উত্তরপাড়া গ্রামে এক কলেজছাত্রীকে (২০) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শারিরিক সম্পর্ক করে বিয়ে না করা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বিচার না পেয়ে ওই কলেজছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করতে ব্যর্থ হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও একটি প্রভাবশালী মহল। ওই নির্যাতিতা কলেজছাত্রী পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর রহমত আলী সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী।

জানা যায়, ধর্ষক উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া (সাবেক মেম্বার) এর ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে দীর্ঘ ৪ বছর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ওই মেয়ের। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে লম্পট মঞ্জুরুল ইসলাম রানা। মুঞ্জুরুলের বাড়ির পাশের একটি খামারের রুমে মেয়েটির সাথে প্রায়ই শারিরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো।

ঘটনার দিন বুধবার সকালে মঞ্জুরুল ওই মেয়েকে নিয়ে সেখানে গেলে এলাকাবাসী টের পেয়ে বাহির দিয়ে দরজা আটকে দেয়। পরে পুলিশ গেলে মুঞ্জুরুলের মা কৌশলে তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসলে হঠাৎ মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীরা মেয়ের পরিবারকে ফুসলিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তিতে কোন বিচার বা সুষ্টু ফয়সালা না করলে মেয়ে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার (২জুলাই) রাতে সালিশ বসিয়ে ৪লাখ টাকায় ফয়সালা দিয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক তার খালার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছেলেরা সমাজে এতই প্রভাবশালী তাদের সামনে মেয়ের পরিবার দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস নেই।

সূত্রে জানাযায়,ভিকটিম মাওনা পিয়ার আলী কলেজের অনার্সের ছাত্রী স্কুল জীবন থেকেই প্রতিবেশী হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়া (সাবেক মেম্বার)এর কলেজ পড়ুয়া ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রানার সাথে দীর্ঘ ৪ বছরের প্রেম সম্পর্ক। গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে রানা ভিকটিমকে ডেকে তাদের পরিত্যক্ত ডেইরি ফার্মের একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধষর্ণ করেন। এ সময় কে বা কারা ওই রুমের দরজার চেইন বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়। এরমাঝে ঘটনাস্থলে কিছু লােকজন উপস্থিত হয়ে গেলে রানার মা টের পেয়ে কৌশলে লােকজনকে তাড়িয়ে দিয়ে রানাকে রুমে থেকে বের করে দেন। রানা পালিয়ে গেলে ভিকটিম বাদসাজে রানার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়। এ সময় ছেলের মা ও আত্নীয় স্বজনরা ভিকটিমকে মারধর করে আহত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভতি থাকা অবস্থায় ভিকটিম উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তাদের ৪বছরের দীর্ঘ প্রেমের কাহিনীর বর্ণনা দেন।

সালিশের অন্যতম সদস্য মেয়ের প্রতিবেশি নানা আব্দুল হাই জানান, মেয়েটিকে রানার কাছে এখন বিয়ে দিলে কয়েক মাস পরে সে তালাক দিয়ে দিলে মেয়েটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

ভিকটিমের মামা নূরুল ইসলাম জানান, গ্রামের মেম্বার ও মাতাব্বরদের জন্য আমার ভাগ্নি সুষ্ঠু বিচার পেলাে না।

ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম বিল্লাল জানান,ছেলেটি ঘটনার পর থেকেই পলাতক। ছেলে পলাতক তাঁকে না পাওয়া গেলে আমরা এর কী ফয়সালা দিবাে? মেয়ে এখন থানা অথবা কোর্টে মামলা করলে করতে পারে। সালিশে ৪লাখ টাকার ফয়সালার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

ভালুকা মডেল থানার এস.আই জীবন বর্মণ জানান,মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর হাসপাতালে ভর্তি করাই। পরে মেয়ে ও তার পরিবার থানায় না এসে কোন প্রকার অভিযােগ না দিয়ে বাড়িতে চয়ে যায়। মেয়ে বা মেয়ের পরিবার অভিযােগ দিলে সব ধরনের আইনি সহযােগীতা প্রদান করতে আমরা প্রস্তুত।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মােহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, আমি পুলিশ অফিসার দিয়ে মেয়েটিকে থানায় এনে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে সে বাড়ি চলে গেছে। আমরা চেষ্টা করেছি তাকে দিয়ে অভিযােগ দেওয়ানাের জন্য কিন্তু সে অভিযােগ দিবে না।