ভারতীয় বিচারপতির ভাষ্যে ইমরান খান

সাবেক বিচারপতি মারকানডে কাটজু।

ইমরান খানের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মারকানডে কাটজু। তিনি বলেন, আমি আগে ইমরান খানের সমালোচক ছিলাম। কিন্তু টেলিভিশনে তার (রাজনৈতিক) প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যের কারণে তার ভক্ত হয়ে গেলাম।

ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের সংসদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বক্তব্যের প্রশংসায় ভারতীয় এ বিচারপতি এসব কথা বলেন।

পাক-ভারত উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। যুদ্ধের চেয়ে তখন পাইলট আটক হওয়ার ইস্যুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে আটক পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খানের এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। দ্রুত এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে এমন ধারণা ভারতীয়রা কল্পনাও করতে পারেনি।

খোদ ভারতীয়রাও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দেশেরই সুশীল সমাজ ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন এরকম সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন করতে সহায়ক হবে।

ইমরান খানের এ ঘোষণার পর ভারতজুড়ে স্বস্তি নেমে এসেছে। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেন।

টুইট বার্তায় অমরিন্দর সিং বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আমরা দাবি করছি যথাশীঘ্রই তাঁকে মুক্তি দেয়া হবে। আমি মনে করি এটি একটি ভালো উদ্যোগ এবং এটি বজায় থাকবে।’

পাক প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার নবজ্যুত সিধু এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘প্রত্যেক মহৎ কাজই তার নিজের জন্যই একটি রাস্তা বাতলে দেয়। ইমরান খান, তোমার শুভেচ্ছার নির্দশন (পাইলটের মুক্তি) কোটি জনতার জন্য ‘এক কাপ জয়’, একটি জাতির আনন্দ। আমি তার মা-বাবার জন্য আনন্দিত এবং তোমার (ইমরান খান) প্রতি ভালবাসা।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর যে বক্তব্যে এতো প্রশংসা

পাকিস্তানে আটক ভারতীয় পাইলটকে নিয়ে যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ঠিক ওই সময় দেশটির সংসদে বিরোধী দলের নেতা শাহবাজ শরীফ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) আমরা শান্তির বার্তা স্বরূপ আটক পাইলটকে মুক্তি দেব।’

এসময় পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শান্তি, আমি ঘোষণা করছি, আলোচনার দরজা উন্মুক্তের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামীকাল তাঁকে (পাইলটকে) মুক্তি দেয়া হবে। পাকিস্তান আগামীকাল ভারতীয় বিমান কর্মকর্তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেবে।

এসময় তিনি ভারতের উদ্দেশে আরও বলেন, পাকিস্তানের এই উদারতাকে কখনও দুর্বলতা মনে করবেন না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন করা হয়।

পরে ইমরান খান বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রাখতে চাইছে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের হামলার জবাবে পাল্টা হামলা না চালানোয় পাকিস্তানের জনগণ আশাহত হতে পারে। কিন্তু হতাহতের কোনো খবর না পাওয়া পর্যন্ত আমরা (প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান) দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেব না বলেই সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য আমরা কোন প্রতিক্রিয়া দেখাইনি।

আমরা যদি তড়িৎ কোনো পদক্ষেপ নিতাম তবে তার পরিস্থিতির তীব্রতা আরও বাড়তো।

পাল্টা হামলা করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আমরা ইচ্ছা করলে কী পারি তা দেখানো। আমরা ভারতের কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে চাইনি; বরং দায়িত্বশীল আচরণ করতে চেয়েছি।

পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মোদিকে ফোন দিয়েও পাইনি। পরিস্থিতি খারাপ হলে আমাদের বা ভারতের কারও জন্যই ভালো হতো না।

ভারতের উদ্দেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত আর বাড়াবেন না। নয়াদিল্লির প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভারত ভবিষ্যতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেবে তার পাল্টা জবাব দেবে পাকিস্তান। এসময় তিনি পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, গত তিন দিন আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। অথচ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো নীতি বিবর্জিতভাবে যুদ্ধের উসকানি দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। কারণ গত ১৭ বছর ধরে আমাদের মিডিয়া লাশ, রক্ত ও সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা দেখেছে। যদি তারা (ভারতীয় মিডিয়া) এসব দেখতো তাহলে তারা যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা নিতো না।

ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আঙুল তুলে ধরার পরিবর্তে ভারতের উচিত নিজেদের আত্মসমালোচনা করা। ভারতের দখলে থাকা কাশ্মীরের জনগণ কতটা নিপীড়িত হয়েছে, তার অনুধাবন করা, এখন তারা জীবন দিয়ে হলেও স্বাধীনতা চায়, এজন্য তারা লড়াই করছে। বাংলা/এস