ভারতের সমস্যার সমাধান না হলে, বিশ্বকাপ বাংলাদেশে -আইসিসি


আশা নয়, বলা চলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাথমিক লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা। কিন্তু গত মঙ্গলবার ভারতের কাছে হেরে শেষ হয়ে যায় সে সম্ভাবনা। সেমির স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর আশা ছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে অন্তত বিশ্বকাপের সমাপ্তিটা ইতিবাচকভাবে করা।

কিন্তু কিসের কি! ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত ঐতিহাসিক লর্ডসে পাকিস্তানের কাছে যেন পাত্তাই পেল না মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। পারলো না বিশ্বকাপের শেষটা মনের মতো করতে। হতাশাজনক বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংটাও আশানুরূপ না হওয়ায়, শেষ ম্যাচের ফলটাও এসেছে নেতিবাচক।

 এদিকে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শেষ না হওয়ার আগেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাচ্ছে ২০২৩ বিশ্বকাপ নিয়ে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআইয়ের সাথে আর্থিক সমস্যার সমাধান না হলে, পরবর্তী বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনের ব্যাপারটি বিবেচনায় রেখেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল-আইসিসি। গণমাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন।

গত কয়েক বছর হলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির মাঝে রাজস্ব অর্থের লেনদেন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দফা বৈঠক করেও, এর সমাধান না হওয়ার পর গেলো মাসে আইসিসি‘র প্রধান নির্বাহীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চেয়েছিল আদৌ কি এই সমস্যার সমাধান হবে? আর না হলে কি করবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা? আইসিসির প্রধান নির্বাহী সাফ জানিয়েছিলেন, বিসিসিআই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভারত থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়া হবে।

 কিন্তু, এখনো বিসিসিআই জটিলতার সমাধানে কোন উদ্যোগ নেয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত যদি বিসিসিআইয়ের সাথে আইসিসি আর্থিক লেনদেন সমঝোতা না হয়। সেক্ষেত্রে পরবর্তী বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আয়োজনের কথা ভাবছে আইসিসি।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা এখনো আগের অবস্থায় আছি। আশা করছি বিসিসিআই দ্রুত সমাধান করবে। আর যদি জটিলতা সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরবর্তী বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারটা বিবেচনা করবে আইসিসি।

২০১২ সালে আইসিসির প্রধান নির্বাহীর পদে থাকা ডেভিড রিচার্ডসেন জায়গায় দায়িত্ব নেয়ার কথা রয়েছে ভারতের মানু সোহানির।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স আগামীতে উঠে আসা দলগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, এমনটাই মত আইসিসির প্রধান নির্বাহীর। সাত বছর আইসিসির প্রধান নির্বাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পর রিচার্ডসন বিদায় নিবেন বিশ্বকাপের পরপরই। তারপর তিনি ফিরে যাবেন তার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে নাকি তিনি আগামী প্রজন্মকে শোনাবেন বাংলাদেশের উঠে আসার গল্প।