বিশ্ব বাস্তবতার বর্তমান ও ভবিষ্যত

আমাদের দেখা হোক মহামারীর শেষে,আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে।

আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে,

আমাদের দেখা হোক সবুজ সকাল।

আমাদের দেখা হোক কান্নার ওপাড়ে,

আমাদের দেখা হোক সুখের শহরে।

আমাদের দেখা হোক হাতের তালুতে,

আমাদের দেখা হোক ভোরের আলোতে।

আমাদের দেখা হোক বিজ্ঞান জিতলে,

আমাদের দেখা হোক মৃত্যু হেরে গেলে।

আমাদের দেখা হোক আগের মতো করে,

আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে!

 

উপরের পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে, তা নিয়ে যথেষ্ট দ্বন্দ্ব রয়েছে। কিন্তু রচয়িতা যিনিই হোন না কেনো, যতোবার কাব্যটি পাঠ করছিলাম, ততোবার এর প্রতিটি শব্দ আমাকে মনের গভীরে আঘাত করছিলো। বর্তমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে কথাগুলো আমার মনে বারবার বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছিলো।

 

আমাদের সমাজের বহুল প্রচলিত কিছু কথার মাঝে অন্যতম প্রাচীন একটি মতবাদ হলো, সৃষ্টির সবকিছুই মানুষের কল্যাণে পরিবর্তন হয়, মানুষের স্বার্থে পরিবর্তন হয়। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় কথাটির স্বকীয়তা কতটুকু বজায় রয়েছে, তা নিয়ে মনে যথেষ্ট প্রশ্ন জাগে! সকল পরিবর্তন যে কল্যাণকর নাও হতে পারে, তার আশঙ্কা বিদ্যমান মহামারীতে প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে আমাদের মনে! অকল্যাণকর পরিবর্তনের জন্য যে আমরা কোনোভাবেই প্রস্তুত নই, তা সমগ্র বিশ্বের মানুষই এই ক্রান্তিলগ্নে বেশ ভালো করেই উপলব্ধি করছে।

 

মানবজাতির সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ করোনা ভাইরাস এর প্রকোপ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করা। প্রতিষেধক আবিষ্কারের বিশাল দায়িত্বভার নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত গবেষণা করে চলেছেন অসংখ্য জ্ঞানীগুণী ব্যাক্তিগণ। কিন্তু কেউই ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকানোর কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলস্বরূপ প্রতিদিন মারা যাচ্ছে লাখো লোক। বিশ্ব হয়ে উঠেছে এক মৃত্যুপুরী।

 

আমাদের সমাজে প্রচলিত ‘মহামারী’ শব্দটি প্রাচীন বাংলার গৃহস্থালিতে বহুল প্রচলিত “মড়ক” শব্দের সমার্থকরূপ। আবহমান বাংলার সাহিত্য ইতিহাস ঘাটলেই আমরা দেখতে পারি, নানা সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুকে ‘মড়ক’ শব্দটির মাধ্যমে তুলে ধরা হতো। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপধ্যায় তাঁর ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) উপন্যাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে’ অগণিত মানুষের মৃত্যুকে ‘মড়ক’ শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

 

পৃথিবীতে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেশি দিনের নয়। বিশ্বের মানুষ এর সম্পর্কে জেনেছে, এখনও এক বছরও হয়নি। কিন্তু এই এক বছরেরও কম সময়ে গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে ভাইরাসটি।

করোনার ত্রাস আজ চারিদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেনো কোনো অত্যাচারী রাজা তাঁর প্রজাদের উপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষেও করোনা ভাইরাসের মধ্যে একটা শাহী ভাব দেখতে পাওয়া যায়। করোনা ভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন শব্দ “করোনাম” থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ক্রাউন বা মুকুট। ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে ভাইরাসটি দেখলে মনে হয়, এদের মাথায় অসংখ্য মুকুট সংযুক্ত রয়েছে।

 

দুজন বিজ্ঞানী, জুন আলমেইদ্যা ও ডেভিড টাইরেল, ১৯৬০ এর দিকে প্রথম এই হিউম্যান করোনা ভাইরাস পর্যবেক্ষণ ও এ সম্পর্কিত বিস্তারিত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে, ১৯৬৮ সালের দিকে একদল প্রখ্যাত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এটিকে নতুন ভাইরাসের ফ্যামিলি হিসেবে চিহ্নিত করে “নেচার জার্নালে” উপস্থাপন করেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসটি মানুষের দেহকোষের মধ্যে গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিতে ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে সক্ষম। এজন্যই এটি বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব মানবতার ইতিহাস ঘাটলেই আমরা দেখতে পারি, মহামারীর আগমন পৃথিবীতে নতুন কিছু নয়, সৃষ্টির শুরু থেকেই সময়ে সময়ে এই পৃথিবীতে নেমে এসেছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা মহামারী। কিন্তু করোনার আগমন গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রাণ চঞ্চল প্রতিটি সেক্টরই আজ করোনার ত্রাসে বিদ্ধ ও বোবা হয়ে গিয়েছে।

 

কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব প্রথমে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে চীনের হুপেই প্রদেশের উহান নগরীতে শনাক্ত করা হয়। করোনার Co, ভাইরাস শব্দের Vi এবং ডিজিজ শব্দের D ও প্রথম শনাক্তের সাল ২০১৯ এর ১৯ নিয়ে, কোভিড-১৯ (Covid-19) নামে ভাইরাসটির নামকরণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০২০ এর ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগটিকে “বৈশ্বিক মহামারী” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

চলতি বছরেরই ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ১৮৫’র বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে ৩০ লক্ষের বেশি ব্যাক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২ লাখ ১৫ হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৯ লাখ ১৮ হাজারের বেশি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনা ভাইরাসের অসংখ্য প্রজাতির মাঝে মানবদেহে সাতটি প্রজাতির সংক্রামণ বেশি মাত্রায় দেখা যাচ্ছে। সেগুলো হলো;

 

১. 229E (‌আলফা-করোনা ভাইরাস)

২. NL63 (আলফা-করোনা ভাইরাস)

৩. OC43 (আলফা-করোনা ভাইরাস)

৪. HKU1 (বিটা-করোনা ভাইরাস)

৫. MERS-CoV (বিটা-করোনা ভাইরাস, যার কারণে Middle East Respiratory Syndrome or MERS হয়)

৬. SARS-CoV (বিটা-করোনা ভাইরাস, যার কারণে Severe Acute Respiratory Syndrome or SARS হয়)

৭. SARS-CoV-2 (নভেল করোনা ভাইরাস, যার কারণে Corona Virus Disease-2019 হয়, এই ভাইরাসটিই মূলত করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত)

 

৫৪১-৫৪২ খৃষ্টাব্দে ‘প্লেগ অব জাস্টিনিয়ান’ এর প্রভাবে ইউরোপে প্রায় ২৫ মিলিয়ন প্রাণহানী ঘটে। ১৩৪৬-১৩৫৩ খৃষ্টাব্দে মহামারী “দ্যা ব্ল্যাক ডেথ” এর প্রভাবে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার প্রায় ৭৫-২০০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে। ১৮৫২-৬০ অবধি সময়কালে কলেরার প্রাদুর্ভাবে প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে “স্প্যানিশ ফ্লু”, “এশিয়ান ফ্লু” এবং হালের “ইবোলা ভাইরাস” এর কারণেও অসংখ্য মানুষের প্রাণহানী ঘটে। মৃত্যু সংখ্যার বিচারে সভ্যতার ইতিহাসের অনেক মহামারির তুলনায় করোনা মহামারী হয়তো পিছিয়ে রয়েছে, কিন্তু করোনার প্রকৃত প্রভাব ও ভীতি এর সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। মানুষ তাঁর জ্ঞান-বিজ্ঞানের উতকর্ষ সাধনের শিখরে অবস্থান সত্ত্বেও ভাইরাসটির কোনো সুরাহা করে উঠতে পারছেন, এই জায়গাটিতেই করোনার প্রভাব অন্য সব মহামারীর চেয়ে ভারী হয়ে উঠেছে। আর করোনার সার্বিক ভয়ের মাঝে অন্যতম ভয়ের জায়গাটি হচ্ছে হয়তো এর প্রভাবে বৈশ্বিক মানবতার গড় আয়ু কমে আসতে পারে।

 

জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল কথার পাশাপাশি সমান ও সমান্তরালে এবং বেশিরভাগ সময়েই সবকিছুর উর্ধ্বে বয়ে চলে একটি প্রসঙ্গে উত্থাপন না করলেই নয়। তা হলো সৃষ্টিকর্তার শক্তির প্রতি নতি স্বীকারের প্রসঙ্গ। মানুষ এই পৃথিবীর সর্বেসর্বা চালিকা শক্তি নয়। আদিকাল থেকে মানুষের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতায় এই ধরণের মহামারী মানুষকে সর্বদা শিক্ষা দিয়েছে। কিন্তু, আমরা নির্বোধ মানুষ সেটা উপেক্ষা করেছি। আমাদের অমাণবিক ও নোংরা কর্মফলের বাস্তব উদাহরণ হলো এই প্যানডেমিক করোনা মহামারী।

 

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষ বিশৃঙখল হয়েছে, এক মানুষ যখন অন্য মানুষের উপর প্রভুত্ব কায়েম করতে চেয়েছে! নিয়তি তখন বারবার এমন মহামারির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিতে চেয়েছে। তার বাস্তব উদাহরণ হলো এই করোনা মহামারীর পূর্বে চরম হিংসাত্মক হয়ে পড়া পৃথিবীর, করোনার আগমনে হঠাৎ মাণবিক হয়ে উঠা!

 

যাহোক, মহামারিকালীন পণ্ডিতগণের লেখা গ্রন্থাদি সাক্ষ্য দিচ্ছে সুদূর অতীতেও মহামারী দেখা দিয়েছে, প্রাণহানি ঘটেছে, তার মাঝেও তাঁরা মানবতার জয়গান গেয়েছেন। যুগে যুগে মানবিক বিপর্যয় ছিল, আছে, থাকবে। তারপরও কিন্তু মানবসভ্যতা বিলীন হয়ে যায়নি, আশা করি যাবেনা।

 

আমরা আশাবাদী, কোনোভাবেই হতাশাগ্রস্ত নই। বিশ্বনেতাদের মাথা নূয়ে পড়লেও, বিজ্ঞান বসে নেই। বিজ্ঞানের শ্রম বৃথা যেতে পারেনা, সে প্রত্যাশা দৃঢ়। আমরা আশা করতেই পারি, খুব শীঘ্রই করোনার প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে। কিন্তু, তার সমবন্টন হবে কিনা, তা নিয়ে শংকাও কম নয়। বাজার অর্থনীতির চরিত্র বলে, ধনী রাষ্ট্রগুলো তা দখলে নেওয়ার জন্য অপ্রত্যাশিত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে। উন্নয়নশীল সকল রাষ্ট্রেরই এখন থেকেই ভেবে দেখা উচিত এ বিষয়ে। অন্যথায়,পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার কারণে আরও একটা মানবিক বিপর্যয় দেখার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে পুঁজিবাদ আর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার যৌক্তিক সমন্বয়ে নতুন কিছু বাজার বৈশিষ্ট্য অভিযোজিত করার প্রয়োজন হতে পারে। এরকম প্রতিটি রাষ্ট্র কাঠামোয় বিদ্যমান প্রতিটি সূচকেই কমবেশি পরিবর্তিত রূপ অভিযোজিত হবে। পরিবর্তন যখন বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, তখন এমনটা আলোচনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। কেননা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত আফ্রিকার অনেক দেশই এই ঝুকির সম্মুখীন হবে।

 

দৃশ্যত ক্ষমতা চর্চা সভ্য-অসভ্য সকল শ্রেণীর শাসকগণের প্রধান ধর্ম। কাজেই ক্ষমতা নামক মরিচীকা নতুন পৃথিবীর ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ হিসেবে কাজ করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে নতুনভাবে মেরুকরণ যুদ্ধও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে কিনা! সেটির সমাধান শান্তিপূর্ণ পথে হওয়াই কাম্য। কিন্তু, বিশ্ব নেতাদের এমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়, যা আশাবাদী হওয়ার মত। সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যেই ক্ষমতাকেন্দ্রিক দেশগুলোর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন করায় মানুষ সেসব সংস্থাসমুহের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে বারংবার। অবশ্য সময়ের ব্যবধানে সংস্থাগুলো তাদের কার্যকারিতাও হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হয়।

 

করোনা কবলে পড়া ইতালি চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৃদ্ধদের প্রতি নিরুৎসাহিত নীতি গ্রহণ করেছেন। তারা বুঝতে পেরেছে যুদ্ধের পর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত চরিত্রের বিপদ আসন্ন হয়তো। ভাবখানা এমন যেনো, নতুন পৃথিবীর জন্য যাদের শারিরীক পরিশ্রম করার ক্ষমতা নেই, তাদেরকে আর প্রয়োজন নেই।

 

করোনায় আমাদের দেশেও আমরা দেখেছি মানবিক বিপর্যয়ের নানা উদাহরণ। মা আক্রান্ত হওয়ায় সন্তানেরা তাঁকে জঙ্গলে ফেলে গিয়েছে। রোগীরা হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন, কিন্তু সেবা পাচ্ছেন না।

 

বর্তমান করোনাক্রান্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মন্দা শুরু হবে বলে আশংকা করছেন সকল বোদ্ধারাই। আর সে মন্দা ব্যবস্থাপনায় যারা যতোটা সফল হবেন, তারা ততোটা প্রগতির ধারা ধরে রাখতে পারবেন। আর,যারা পারবেনা, তারা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। করোনা পরবর্তী সময়েও করোনার কড়াল থাবা নিয়েই তাদের বাস করতে হবে।

 

আর এক্ষেত্রে উত্তরণের পথ খুজতে আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্তাব্যক্তিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রাধান্য দিতে হবে সমৃদ্ধ নগর পরিকল্পনার উপর। নিঁখুত ও মান সম্মত নগর পরিকল্পনাই পারে আগামীর পৃথিবীতে চলার পথ কিছুটা মসৃণ করতে।

 

একটি নগরের বা গ্রামের বা অঞ্চলের পরিকল্পনা অনেকাংশেই এই মহামারী রোধকল্পে ভূমিকা রাখবে। যেমন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাড়িঘরগুলো, বাস স্টপেজ, ফুটপাত বা খোলা জায়গা কিংবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে পরবর্তীতে এই মহামারী করোনা আর ছড়াবে না কিংবা ছড়ালেও তা সামাজিকভাবে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটির জন্য এখন থেকেই পূর্ব পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

একই সঙ্গে সকল মানবিক ও প্রশাসনিক সুবিধার সুষম বন্টন নিশ্চায়নের ব্যাপারটিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। যেমন, একটি এলাকার জনসংখ্যার অনুপাতে যেনো পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধা পূর্ব হতেই বিদ্যমান থাকে এবং জরুরী সেবার বিষয়টিও ভাবনায় রাখা হয়। মহামারীর সময় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেয়ে সেবা নেবার ব্যাপারটির ভয়াবহতা আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছি। এমনটি রোধ করা গেলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যাবে।

 

এছাড়াও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান, যেমন বাজারঘাট, ঔষধপত্রের দোকান, শিক্ষাকেন্দ্র ইত্যাদি ব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ব হতেই একটি নিশ্চিত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাস্তাঘাটে চলাচল ও ফুটপাতের প্রশস্ততার ব্যাপারটিও গভীর মনযোগের সাথে ভাবতে হবে।

 

তাই আমরা বলতেই পারি, সঠিকভাবে নগর, গ্রামীণ ও অঞ্চল পরিকল্পনার দিকে নজর দিলে এবং পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারীকেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং যে দেশের নগর পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা যতো নিখুত হবে, সামনের বিশ্ব সে দেশই নিয়ন্ত্রনে নিতে যাচ্ছে।

 

লেখক: ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল, শিক্ষার্থী, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়