বার্সেলোনাকে পেছনে রেখে ‘বিশ্বসেরা’ হলো রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বায়ার্ন মিউনিখ, জুভেন্টাস, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি—ইউরোপের এই ক্লাবগুলোর প্রসঙ্গ উঠলেই ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা’ তকমা ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে স্পেনের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ক্ষেত্রে ‘অন্যতম’ শব্দটি কেটে বিশ্বসেরার তকমা পরাতেই বেশি পছন্দ করেন ফুটবল বোদ্ধারা। ‘বিশ্বসেরা’ ফুটবল ক্লাবের দৌড়ে রিয়াল ও বার্সেলোনাই সবার ওপরে।

মানে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে মূল লড়াইটা হয়েছে স্পেনের দুই জায়ান্টের মধ্যে। তাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে হারিয়ে ‘বিশ্বসেরা’ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মানে রিয়াল মাদ্রিদ এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বসেরা। মাঠের পারফরম্যান্সের সুবাদে ইউরোপ এবং বিশ্বসেরা— দুটো মুকুটই রিয়ালের মাথায়। এবার মাঠের বাইরের লড়াইয়েও ‘বিশ্বসেরা’ ক্লাবের স্বীকৃতি অর্জন করল মাদ্রিদ জায়ান্টরা।

কোনো অখ্যাত, অগ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান নয়, বিশ্বসেরা ক্লাব নির্বাচনের এই গবেষণাটা করেছে ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’। ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রবর্তক প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে ‘বিশ্বসেরা’র মুকুট মাথায় তুলেছে সর্বশেষ টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী রিয়াল।

গবেষণার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া সেরা ১০টি ক্লাবের নাম প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ফুটবল। তাতে দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ ১৮৪ পয়েন্ট পেয়ে সবার ওপরে রিয়াল। দুই নম্বরে থাকা লিওনেল মেসির বার্সেলোনা পেয়েছে ১৭৭ পয়েন্ট।

১৩৫ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। কিছুটা অবাক করে দিয়ে ৫ নম্বরে লিভারপুল। ইংল্যান্ডের এই ক্লাবটি পেয়েছে ১২০ পয়েন্ট। ১০৭ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাস। এই ৬টি ক্লাবই কেবল ১০০-এর ওপরে পয়েন্ট পেয়েছে। বাকি সবারই পয়েন্ট ১০০-এর নিচে! ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্সের চ্যাম্পিয়ন, নেইমার, কাভানি, এমবাপেদের পিএসজি।

৯১ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। ৮৯ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি ৯–এ। ১০ নম্বরে থাকা আর্সেনালের প্রাপ্ত পয়েন্ট ৮৮।

রিয়াল-বার্সার খেলোয়াড়, কোচ, কর্তারা এমনিতেই কথা বলার সময় কোনো রকম রাখঢাক না রেখে নিজেদের ‘বিশ্বসেরা’ দাবি করেন। ফ্রান্স ফুটবলের পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখন থেকে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়-কর্তারা নিশ্চয়ই আরও বেশি করে ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেদের ‘সেরা’র প্রচারণা চালাবেন!