বাংলাদেশের দিনাজপুরে উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার


ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্ক:: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। খনিটির ব্যাপ্তি ছয় থেকে ১০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে সোনার অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। এক হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দুই মাস ধরে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার (১৮ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাকিমপুর উপজেলা সদরের হিলি স্থলবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইসবপুর গ্রাম। ওই গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি চার মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এরপর থেকে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করা হয়।

জিএসবির উপপরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘গত ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। ৩০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ একটি দল তিন ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অবশেষে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য পেয়েছি। এর ফলে এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপট পাল্টে যাবে।’

খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম সাংবাদিকদের জানান, এর আগে ২০১৩ সালে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এই গ্রামের তিন কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে দীর্ঘ ছয় বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর এক হাজার ৩৮০ থেকে এক হাজার ৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে লোহা থাকার সম্ভাবনা দেখা যায়।

এই খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।



অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে এক হাজার ৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। এখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের মজুদের একটি স্তর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলে ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এই সন্ধান পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ মাসুম জানান, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আকরিকে লোহার শতাংশ ৬৫-এর ওপরে। কানাডা, চীন, ব্রাজিল, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। জয়পুরহাটে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগার থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

‘খনিটির ব্যাপ্তি ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। এক হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে,’ যোগ করেন মোহাম্মদ মাসুম।

এদিকে আলীহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গোলাম মওলাসহ ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এখানে লোহার খনি পাওয়ার খবর তারা জানতে পেরেছেন। এখান থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে এখানকার মানুষদের জীবনমান পাল্টে যাবে। কর্মসংস্থান হবে এখানকার মানুষদের। দেশের জন্যও লাভজনক হবে। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার সর্বস্তরের মানুষ। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের কাছে দ্রুত খনি বাস্তবায়নে জোর দাবি জানান তাঁরা।