ফুলবাড়িয়ায় আশরাফ উদ্দিনের চেক প্রতারণা মামলার জালে বাবা ছেলে পর্ব- ০২

 নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ফুলবাড়িয়ায় অভিনব এক চেক প্রতারক আশরাফ উদ্দিন ৩০ লক্ষ টাকার চেক প্রতারণার মামলার জালে বাবা ছেলে। আনোয়ার হোসেন ও তার পুত্র আশিকুর রহমানের নামে ৩০ লক্ষ টাকার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে আশরাফ উদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী।
আশিকুর রহমান বাক্তা ইউনিয়নের কালনাজানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কালনাজানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে চাকুরীরত। তার বাবা আনোয়ার হোসেন কালনাজানি মাদ্রাসায় নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত। জানাগেছে, আশিকুর রহমান ২ বৎসর পূর্বে আশরাফ উদ্দিনের কাছ থেকে ২,৫০০০০ হাজার টাকা লাভের উপর নিয়েছিল এবং গত বছর শেষের দিকে সাকুল্য টাকা( লাভ) পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। আশিকুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে আশিকুর ত্রিশাল প্রতিদিনকে জানান, তিনি ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আশরাফ উদ্দিনের কাছ থেকে নেওয়ার সময় তার নামের সোনালী ব্যাংক কেশরগঞ্জ শাখার চেক বই স্বাক্ষর করে আশরাফ উদ্দিনের কাছে জমা রেখে ছিলেন।
পরবর্তীতে সাকুল্য টাকা পরিশোধ করার পর চেক বই ফেরত চাইলে আজ দেই কাল দেই বলে সময় অতিবাহিত করতে থাকেন আশরাফ উদ্দিন। সবশেষে আশরাফ উদ্দিন আশিকুর রহমান ও তার বাবার নামে( ১৫ লক্ষ করে ) ৩০ লক্ষ টাকা চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। আশিকুর রহমান আরো বলেন, তার বাবা আনোয়ার হোসেন অনেক বছর পূর্বে তার সাথে টাকা লেনদেন করতো ঐ সময়ের একটি চেকের পাতা আশরাফের কাছে জমা ছিল। তার বাবা ঐ সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার পর আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছিল যে, আনোয়ার হোসেন এর চেকের পাতা হারিয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি বাবা এবং আমার দুজনের নামে ৩০ লক্ষ টাকার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে আশরাফ। নোটিশ পেয়ে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি, একজন মানুষ কিভাবে এমন ভয়ংকর প্রতারণা করতে পারে তাই ভাবছি। তবে আমি প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের অনুরোধ করবো এই সুদ ব্যবসায়ী ও চেক প্রতারক আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরীহ মানুষদেরকে তার চেক প্রতারণা থেকে উদ্ধার করতে সহায়তা প্রদান করার। তানাহলে অনেক গুলো পরিবার রাস্তায় নেমে আসবে।
কেননা আমার মত আরো অনেক পরিববার তার এই প্রতারণার স্বীকার হয়েছে বলে শুনতেছি। আশিকুর আরো বলেন, শিবরামপুর গ্রামের এক মুক্তিযুদ্ধার পুত্রও তার প্রতারণার স্বীকার হয়ে বলে জানতে পারলাম। সে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে ৬ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার পরও আরো টাকা দাবি করেছেন আশরাফ উদ্দিন। এমতাবস্থায় ঐ ছেলেটি এখন আমার মত দিশে হারা হয়ে ঘুরছেন এই প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে। শুধু ঐ ছেলে কিংবা আমি নই এমন আরো অনেকেই আশরাফের প্রতারণায় স্বীকার ও মামলার আসামী হয়ে এখন এলাকা ছাড়া।
আশরাফ উদ্দিন উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের বাঁশদী গ্রামের মৃত নওশের আলীর পুত্র। আশরাফ উদ্দিন নিজের আপন ভাইয়ের নামেও একাধিক মামলা করেছেন বলে জানাযায় । একাধিক সূত্রে জানাগেছে, এখন পর্যন্ত তার এই চেক প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। প্রথমে খলিফা হিসেবে দর্জির কাজ করলেও বর্তমানে সে একজন চেক ব্যবসায়ী সুদখোর হিসেবে পরিচিত বলে জানান তার ভাই। তার ভাই আছিম কলেজের অধ্যক্ষ মফিজ উদ্দিন বলেন,এলাকার মানুষকে সে জ্বালিয়ে ফেলছে।কিছু টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে চেকবইয়ের পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে একটু এদিক সেদিক হলে মামলা ঠুকে দেন। শুধু চেক নয় তার মেয়ে মানে আমার ভাতিজিদের অপহরণের মিথ্যা মামলা সাজিয়ে অর্থ আত্নসাৎ করে থাকে আশরাফ উদ্দিন। তার মেয়েদের দিয়ে মামলা গুলোর মধ্যে একাধিক শিক্ষক রয়েছে।
যে মামলা গুলো মূলত মানুষকে বিপদে ফেলে অর্থ আদায় করার জন্য। মফিজ উদ্দিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে মুক্ত করতে তদন্ত পূর্বক আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে সুযোগ দিন। এব্যাপারে আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি টাকা ধার দিয়েছিলাম। টাকা পরিশোধ না করায় নোটিশ পাঠিয়েছি, নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করবো। উল্লেখ্য স্হানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, আশরাফ উদ্দিন একজন পেশাদার সুদ ব্যবসায়ী এবং তার চেক মামলায় নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার।
স্হানীয়রা আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদান করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি মুক্ত করার দাবী জানান। ধারাবাহিকভাবে আশরাফ উদ্দিনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার আছিম বাজারের ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ ও একজন শিক্ষকের নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা এবং বাজার সমিতির সভাপতির কাছে আশরাফের বিরুদ্ধে তার মায়ের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আসছে ,,,,,,