ফুলবাড়িয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান এর নামে অপপ্রচারে ইউনিয়নজুড়ে নিন্দার ঝড়

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৯ নং এনায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফুলবাড়িয়া উপজেলার ৯ নং এনায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি স্বার্থানেশ্বী মহল। চেয়ারম্যান এর নামে ফেইসবুকে অপপ্রচার করায় ইউনিয়নজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করা হচ্ছে যে,চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার ১নং ওয়ার্ড এনায়েতপুর গ্রামের মৃত নায়েব আলীর পুত্র শওকত আলী মোল্লাকে মৃত দেখিয়ে বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার।

তিনি আরও বলেন, শওকত আলীর বয়স্ক ভাতার কার্ড তার নিজের কাছেই রয়েছে এবং নিয়মিত ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছেন। যা ভাতার বইয়ে স্বাক্ষর / টিপসহির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আসছেন। এর আগের ভাতার টাকাও সে উত্তোলন করছেন। প্রতিমাসে সমাজ সেবা অফিস থেকে ব্যাংকে তালিকা পাঠানোর সময় মিসিং হইতে পারে তার জন্য আমাকে নিয়ে একটি মহল বিভিন্ন ফেইসবুক আইডিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এখানে আমার কি করার আছে? আর কেনইবা আমাকে জড়ানো হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। হয়তো তাদের উদ্দেশ্য আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।

এব্যাপারে শওকত আলীর পুত্র আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বাবার বয়স্ক ভাতার কার্ড মেম্বারের কাছে ছিল তিনিই টাকা উত্তোলন করেছেন। কোরবানীর ঈদের পর তার কাছ থেকে আমরা কার্ডটি নিয়ে আসি। আর আমার বাবার মৃত্যুর সনদটি মহিলা ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগমের স্বামী আমার হাতে দিয়ে যান এর পর থেকে আমরা আর ভাতা পাইনি। ইউপি সদস্য রইচ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শওকত আলী মোল্লা এতদিন যাবত তার ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছেন কোন সমস্যা হয়নি । হঠাৎ করে দেখি ফেইসবুক আইডিতে লেখা তার বয়স্ক ভাতার টাকা আমি এবং চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার আত্মসাৎ করেছি। শওকত আলীর বয়স্ক ভাতার বই তার কাছেই এবং সেই বইয়ে স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছেন তাহলে কিভাবে আমরা তার টাকা আত্মসাৎ করলাম?

আর একটি ভূয়া মৃত্যু সনদ বানিয়েছে দেখলাম ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এবং ২০১৮ সালে নাকি শওকত আলী মারা গেছে বলে পরিষদ থেকে সনদ দেওয়া হয়েছে আর তাহারা এরপর থেকে ভাতা পায়নি বলে আপনাদের ( সাংবাদিকদের) কাছে জানতে পারলাম।যদি তাই হতো তাহলে এতদিন কেন তারা চুপ থাকলেন? এই বিষয়টি ভেবে দেখলেই সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। সবশেষে শুধু এটাই বলব যে, শওকত আলীর পুত্র আলম কারো ইন্ধনে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এব্যাপারে ফুলবাড়িয়া উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আতাহার হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর শওকত আলীর পুত্র আলমকে রবিবারে অফিসে আসতে বলি। হয়তো তালিকা মিসিং হতে পারে, তালিকা দেখে তা ঠিক করে ব্যাংকে চিঠি পাঠালেই সে ভাতার টাকা পেয়ে যাবে। আর এমন মিসিং হতেই পারে এবং তার সমাধানও আমরাই করে থাকি।কেননা পুরো উপজেলার সকল ভাতার তালিকা প্রস্তুত করার সময় এমন দুই একটা মিসিং হতে পারে এবং আমাদের জানানো হলে তা সমাধান করে দেই।

আর শওকত আলীর আমাদের রেজিস্ট্রারের তালিকায় নাম ছিল এবং আছে আর নিয়মিত ভাতাও পাচ্ছেন। হঠাৎ এই ভাতার সময় সমস্যা হলে আমার সাথে কথা হয় এবং তাদেরকে বলি অফিসে এসে একটি চিঠি নিয়ে ব্যাংকে জমা দিলেই ভাতা পেয়ে যাবেন। এখানে চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো ঠিক হয়নি। এটা হয়তো তাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার একটা কৌশল হতে পারে।