ফুলবাড়িয়ায় অভিনব এক চেক প্রতারক আশরাফ উদ্দিন পর্ব- ০১

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ফুলবাড়িয়ায় অভিনব এক চেক প্রতারক আশরাফ উদ্দিন ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়ে দশ লক্ষ টাকার চেক লিখে নেয় নিজের নামে। ৫০ হাজার টাকা ধার নেওয়ার সময় আশিকুলের সোনালী ব্যাংক আছিম শাখার চেক বই স্বাক্ষর করে আশরাফ উদ্দিনের কাছে জমা রেখে আসেন। কিছুদিন পুর্বে আশরাফ উদ্দিনের কাছ থেকে ভবানীপুর গ্রামের রমজান আলীর পুত্র আশিকুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকা নেন এবং টাকা নেওয়ার পর থেকে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট হারে লাভ প্রদান করে আসছেন আশিকুল ইসলাম। আশরাফ উদ্দিন উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের বাঁশদী গ্রামের মৃত নওশের আলীর পুত্র।

জানাগেছে, আশিকুল ইসলাম ভাড়া করা বেকু নিয়ে এসে মাটি ভরাট করতো। আর আশরাফ উদ্দিন আশিকুলকে দিয়ে ৩৫ হাজার টাকার মাটি ভরাট করার পর বিল আটকে দেন। আশিকুলের কাছে প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করলে তার মাটি ভরাট করার বিল দিবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। এমতাবস্থায় আশিকুল ইসলাম স্হানীয় লোকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আশরাফ উদ্দিনের কাছে মাটি ভরাট করার বিল বাবদ পাওনা টাকা কর্তন করে এবং নিজের পকেট থেকে আরও ১৫ হাজার টাকা দিয়ে স্হানীয়দের উপস্থিতিতে ৫০হাজার টাকা পরিশোধ করে চলে আসেন। টাকা পরিশোধ করার পর জমা কৃত চেক বইটি ফেরত চায় আশিকুল তখন আশরাফ উদ্দিন বলেন কাল এসে নিয়ে যেতে। এরপর আজ না কাল করতে করতে হঠাৎ করে আশিকুলের কাছে উকিল নোটিস পাঠায় এবং নোটিশকৃত সময়ের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা না দিলে মামলার ভয় দেখায় আশরাফ । নিজের নামে অর্থ ও জমি বাগিয়ে নিতে ছাড়েননি আপন ভাইকেও।

এখন পর্যন্ত তার এই চেক প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই ঠুকে দেন মিথ্যা মামলা। প্রথমে খলিফা হিসেবে দর্জির কাজ করলেও বর্তমানে সে একজন চেক ব্যবসায়ী সুদখোর হিসেবে পরিচিত বলে জানান তার ভাই।

তার ভাই আছিম কলেজের অধ্যক্ষ মফিজ উদ্দিন বলেন,এলাকার মানুষকে সে জ্বালিয়ে ফেলছে।কিছু টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে চেকবইয়ের পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে একটু এদিক সেদিক হলে মামলা ঠুকে দেন। শুধু চেক নয় তার মেয়ে মানে আমার ভাতিজিদের অপহরণের মিথ্যা মামলা সাজিয়ে অর্থ আত্নসাৎ করে থাকে আশরাফ উদ্দিন। তার মেয়েদের দিয়ে মামলা গুলোর মধ্যে একাধিক শিক্ষক রয়েছে। যে মামলা গুলো মূলত মানুষকে বিপদে ফেলে অর্থ আদায় করার জন্য।

মফিজ উদ্দিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,আপনারা সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে মুক্ত করতে তদন্ত পূর্বক আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে সুযোগ দিন।

আশিকুল ইসলাম বলেন, আমার সোনালী ব্যাংক এর A/C 3302100010978 এর চেক নং- 5992061 তার কাছে জমা ছিল। স্হানীয়দের উপস্থিতিতে সুদ সহ তার টাকা ফেরত দেওয়ার পর আজ দেই কাল দেই করতে করতে এখন দেখি আমাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে ১০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে। আমি তো তাকে টাকা দিয়ে দিয়েছি এবং বাজারের লোকজন স্বাক্ষী আছে। তারপরও কেন আমার নামে নোটিশ পাঠাল।

আমি এই প্রতারক আশরাফ উদ্দিনের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করছি। প্রশাসন তদন্ত পূর্বক আশরাফ উদ্দিনের শাস্তি মুলক ব্যবস্হা গ্রহন পূর্বক আমাকে সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।

এ ব্যাপারে আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি টাকা ধার দিয়েছিলাম। টাকা পরিশোধ না করায় নোটিশ পাঠিয়েছি, নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করলে মামলা করবো।

উল্লেখ্য স্হানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, আশরাফ উদ্দিন একজন পেশাদার সুদ ব্যবসায়ী এবং তার চেক মামলায় নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। স্হানীয়রা আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদান করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি মুক্ত করার দাবী জানান।