ত্রিশাল পৌর মেয়র আনিছুজ্জান ও সাংবাদিক ফারুকের সহায়তায় ৪৩ দিন পর দাফন সম্পন্ন

আরিফ রববানীঃ অবশেষে ত্রিশাল পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান আনিস ও সাংবাদিক আ ন ম ফারুকের বুঝ পরামর্শে ও সার্বিক সহযোগিতায় ৪২দিন পর মৃত ছেলের লাশ গ্রহন করে বাড়ী নিলেন পিতা মজনু মিয়া। এর আগে করোনা আতংক, সামাজিক বাধা ও আর্থিক সংকটের কারণে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত আরাফাত হোসেনের (১৭) লাশ দাফন করতে নিতে রাজি হয়নি নিহতের পিতা মজনু মিয়া।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ৪২দিন পর ময়মনসিংহ টেলিভিশন রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টিভির সাংবাদিক আ ন ম ফারুকের দিনভর চেষ্টা,আর্থিক এবং সার্বিক সহযোগিতায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিম ঘরে থেকে আরাফাতের লাশ গ্রহন করে ত্রিশালের গ্রামের বাড়ীতে নেন মৃত আরাফাতের দরিদ্র পিতা মজনু মিয়া ।

এতথ্য নিশ্চিত করেছেন সাংবাদিক আ ন ম ফারুক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক কবি আলী ইউসুফ।

এর আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে ৪২ দিন আরাফাতের লাশ রাখার পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার চড়ুইতলা গ্রামের মজনু মিয়া ৩রা জুন বুধবার পুলিশকে লিখিতভাবে জানান, ছেলের লাশ তিনি গ্রহন করবেন না।আবেদনে মজনু উল্লেখ করেন-পরিবার এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান-ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী বৃহস্পতিবার নগরীর ভাটিকাশর গোরস্থানে লাশ দাফন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন একেএম মশিউল আলম জানান, গত ২০ এপ্রিল ময়মনসিংহ নগরীর এস কে (সূর্য্য কান্ত) হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরাফাত হোসেন (১৭) নামের ঐ কিশোর।
মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় আরাফাতের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। কিন্ত তার পরিবারের লোকজন লাশ নিতে আসেনি।

এ খবরে পেয়ে ময়মনসিংহ টেলিভিশন রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টিভির সাংবাদিক আ ন ম ফারুক এগিয়ে এগিয়ে এসে মৃত আরাফাতের বাবা ও ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান আনিছের সাথে ফোনে কথা বলে লাশ গ্রহনের পক্রিয়া সম্পন্ন করেন।এসময় মৃত আরাফাতের বাবা ছেলের লাশ গ্রহনে আর্থিক ও সামাজিক কারণে সন্তানের লাশ নিতে অস্বীকার করলে সাংবাদিক আ ন ম ফারুক মজনু মিয়াক আর্থিক সহযোগিতা করায় আরাফাতের দরিদ্র বাবা লাশ নিতে রাজি হয়।

অপরদিকে সাংবাদিকর ফারুক ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র আনিছুজ্জামানের সাথে কথা বলে বিষয়টি বুঝিয়ে বলে সামাজিক আতংক দুর করতে তার সহযোগিতা কামনা করলে এক পর্যায়ে মেয়র আনিছ মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দাফন কাফনের সহয়োগিতা করতেও রাজি হন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার ও দাফন কাফনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই আনোয়ার হোসেন সার্বিক সহযোগিতায় আরাফাতের লাশ তার বাবার হাতে হস্তান্তর করা হয়। লাশ বহনকারী গাড়ির ভাড়া ও দাফন কাফনের খরচ বহন করে সাংবাদিক ফারুক ।

এব্যাপারে সাংবাদিক আ ন ম ফারুক জানায়-আর্থিক সমস্যার কারণে একজন বাবা তার মৃত ছেলের লাশ বাড়ী নিতে পারবেনা বিষয়টা আমার কাছে কষ্ট, ও দুঃখজনক মনে হয়েছে। তাই আমি আমার মানবিক প্রচেষ্টায় অসহায় বাবাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।আগামীতে তিনি মানুষের সমস্যায় পাশে থাকার প্রত্যয়ে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।