পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বিশেষ মূল্য ছাড়

ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্ক: মাহে রমজান। পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। রমজান মাস বিশেষ কয়েকটা কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এই মাসে কোরআনে কারিম নাজিল হয়েছে। এই মাসে লাইলাতুল কদর আছে। এই মাসে ইসলামের প্রথম জিহাদ বদর যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছে। এই মাসে মক্কা বিজয় হয়েছে। রমজান মাসে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। রমজান মাসে শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। রমজান মাসে নফল ইবাদতের ফরজ ইবাদতের মর্যাদা আর ফরজ ইবাদতে সত্তর গুণ অধিক মর্যাদা।

রোজার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকির গুণাবলী অর্জন করা। মুত্তাকির সার কথা হচ্ছে সর্ব অবস্থায় আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা। অর্থাৎ সে হচ্ছে মুত্তাকি যে প্রতিটি কথা ও কাজে আল্লাহর আদেশ মেনে চলে। মানুষ যে কাজই করে না কেন তাতে দু’টি জিনিস অবশ্যই থাকবে- একটি তার উদ্দেশ্য অন্যটি সেই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গৃহীত পন্থা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র এই রমজান মাস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দাম কমানো হলেও আমাদের দেশে ঠিক তার উল্টোটা ঘটে। সকল ব্যাবসায়ীরা যে এমনটা করে সেটা কিন্তু না। কেউ কেউ আবার ভিন্ন। তাদের একজন ময়মনসিংহের চুড়খাইয়ে অবস্থিত রওশন ফিলিং স্টেশনের কর্ণধার মাহতাবুল হক বাবু। সিয়াম সাধনায় লিপ্ত সংযমী মানুষদের প্রতি অপার শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবং পবিত্র রমজানের সম্মানে তিনি তার রওশন ফিলিং স্টেশনে বিশেষ মূল্য ছাড়ের ঘোষনা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি জানান, বছরে ১২ মাস আর ১২ মাসের ১১ মাসতো আমরা ব্যাবসা করেই যাচ্ছি। সেই ১১ মাসের চেয়ে রমজান মাসটা ভিন্ন। বিশেষ একটা মাস। এই মাসটা আত্বশুদ্ধির মাস। তাই এই মাসের সম্মানে আমি অন্য মাসের তুলনায় কম মুনাফা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা চাইলে আমার এই কম মুনাফার মধ্যেই বরকত দিয়ে দিবেন।

মাহতাবুল হক বাবুর এই সিদ্ধান্তে আশেপাশের জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে গিয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেব, বাবুর মতো সকল ব্যাবসায়ীরা যদি রমজান মাসকে শ্রদ্ধা করে কম মুনাফা না করুক অন্তত স্বাভাবিক মূল্যেও যদি ব্যাবসা পরিচালনা করতো তাহলে রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে রোজাদারদের মধ্যে আতংক বিরাজ করতোনা।