ত্রিশাল পৌরসভার ১নংওয়ার্ডের সড়কটিও উন্নয়নের ছোয়ায় আলোকিত

ত্রিশাল পৌরসভায় ত্রিশাল টু ফুলবাড়ীয়া সড়ক
ত্রিশাল পৌরসভায় ত্রিশাল টু ফুলবাড়ীয়া সড়ক

ফকরুদ্দীন আহমেদঃঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভায় ত্রিশাল টু ফুলবাড়ীয়া সড়কটি প্রায় দের শত বছরের আগে প্রতিষ্ঠিত।এই সড়কটি যুগ যুগে বহু মানুষের স্বপ্নছিল উন্নয়ন করতে। দু’ উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে অনেকেই শুধু স্বপ্ন দেখতেন। বাস্তবে ছিল পরিত্যক্ত। দু’ পাশে ঝোপঝাড় আর সন্ধ্যায় শত শত শেয়ালের হাক। একটি বাইক নিয়ে যাওয়ার পরিবেশ ছিল না। অনেক আগের মোরব্বীরা বলতো এই রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়ী চলতো, ত্রিশাল অঞ্চলে বিয়ে হলে পালকি নিয়ে মাওরারা এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতো।

সন্ধ্যার পর দু’পাশের জঙ্গলে ঝিঁঝিঁ পোকারা আলোর মেলায় আসর দিত। মাঝে মাঝে পেতনীরা মুখে আগুন জ্বেলে পোকা মাকড় সংগ্রহ করে খাবার যোগাত। রাত গভীরে ডাকাতের বিশাল দল অপেক্ষায় বসে থাকতো, নির্জন অন্ধকারে চোঙ্গা বাতি জ্বালিয়ে কেউ কিছু নিয়ে আসে কিনা? কোন কোন সময় মানুষের ডাক চিৎকারে সারা এলাকায় ঘুম থেকে জেগে উঠতো ঐ সড়কে ডাকাত পড়েছে বুঝি! তখনকার আমলের জমিদার এই রাস্তা নিয়ে ছিল গভীর চিন্তিত।

বিশাল ঘোড়ার বহর নিয়ে মাঝে মাঝে সড়কের জন্য ছুটে আসতো সমস্যারর কথা নিয়ে।কি লাভ হয়েছে ১০০ গজ পাকা করন কাজ করার সাধ্য তাদের ছিল না। শুধু স্বপ্নই সেই বহুকাল আগে থেকেই অনেক দায়িত্ববান লোকেরা দেখিয়েছে, বাস্তবে সব স্বপ্নই মিথ্যে ছিল। দেশ স্বাধীনের পর ত্রিশাল থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মরহুম অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ তিনিও এই সড়কের পাশে বসবাস করতেন। তাঁর জন্মস্থান এই সড়ক ঘেষে। তবুও অবশেষে থেকে গেল পরিত্যক্ত ভাবে এই সড়কটি। কারণ ঐ সময় এই রাস্তা করার মত কোন বরাদ্ধ ছিল না। এভাবেই চলতে থাকে স্বাধীনতার ৪৯বছর। এর মাঝে দেশ উন্নত হয়েছে কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা করণের বেশ সুযোগ সৃৃষ্টি হয়েছিল ইচ্ছে করলেই অনেকেই পেতেন এই রাস্তাটি নির্মাণ করে ত্রিশাল ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যোগাযোগের স্বপ্ন পূরণ করতে। কই? সড়কতো আগের মতই পরিত্যক্তই থেকে গেল।

এই সড়কের পর বহু নতুন সড়ক হয়েছে কিন্তু সেই প্রায় দের শত বছর আগের মরহুম রজব আলী সরকারের আমলের আগে প্রতিষ্ঠা হওয়া সড়কটি নিয়ে কেউ ভাবেননি।সর্বশেষ ২০১১সালে উন্নয়নের এক মহাবীর সুযোগ্য মেয়র আলহাজ্ব এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ ত্রিশাল পৌরসভা থেকে প্রথম নির্বাচিত হন।শুরু হয় উন্নয়ননের মহা পরিকল্পনা। একে একে পৌরসভার এই রাস্তাটি রেখে সবকটি বড় বড় রাস্তা পাকা করণ করে প্রথম মেয়াদ শেষ করেন।

এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েই এই রাস্তাটি নিয়ে পরিকল্পনা করেন নির্মাণ কাজ করতে অবশেষে ৭কোটি টাকা ব্যয় করে ত্রিশাল টু ফুলবাড়ীয়া রাস্তার পাকাকরণ করে দুই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছেন এবং পৌর এলাকায় সারা রাস্তা বাতি দিয়ে আলোকিত করেছেন এই আধারে ঢেকে থাকা অঞ্চলটি। ২৮ জুলাই এই অঞ্চলের জন্য একটি স্বরণীয় দিন। এই দিনে এই অঞ্চলে সারা রাস্তায় আলো জ্বালিয়ে আলোকিত সেই দের শত বছরের পুরনো রাস্তাটি।