প্রশাসনকে বৃদাঙ্গুলী দেখিয়ে আবরো জমি দখলের পায়তারা

তপন সরকারঃঃজেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বেদখলদারদের কবল থেকে ভিটাবাড়ি এবং ফসলী জমি উদ্ধার পান ময়মনসিংহের ত্রিশালের মোক্ষপুর ইউনিয়নের কোনাবাখাইল গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ।

সম্প্রতি স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী আব্দুল মান্নান চানু ও তার সহযোগীরা আবারও মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার কণ্যা স্কুল শিক্ষিকা শরিফা খাতুন বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ বিষয়টির গুরুত্ব দেয়নি সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতারও করেনি । উপরন্তু পুলিশ সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে, এমন অভিযোগ এনে শরিফা খাতুন জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এহেন ভূমিকায় মড়িয়া হয়ে উঠেছে চানু ও তার সহযোগী দখলদার সন্ত্রাসীরা ।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার মতিউর রহমানের জমি- জমা, বাড়ি -ভিটা দীর্ঘমেয়াদে বেদখল করে নেয় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র । এমতাবস্থায় নীরবে নিভৃতে করুণভাবে দিনাতিপাত করতে থাকেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান । এমতাবস্থায় ২০১৭ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম , ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন , ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ জাকিউর রহানসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের জমি-জমা ।

সেময় এই মুক্তিযোদ্ধার ভিটেবাড়ি দখলমুক্ত করে পরিবারের কাছে বুজিয়ে দিয়েছে পুলিশ। নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তৎকালীন পুলিশ সুপার সৈয়দ সুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৯৭৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাড়ি দখল করে আবদুল মান্নান চানু।

দখলকৃত জমি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে প্রতিপক্ষের হামলায় মতিউর রহমানের বড় ছেলে লুৎফর রহমানকে হত্যাও করা হয় । এরপর অসহায় পরিবারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হন ।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বাড়িটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। প্রায় আড়াই একর জমিদখলমুক্ত করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা আবারও মুক্তিযোদ্ধা মতিউর হমানের জমি চানুগং দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা কন্য স্কুল শিক্ষিকা শরিফা খাতুনের। তিনি বলেন, আবারও জমি বেদখল হওয়ায় বাবা এখন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন ।

তবে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের  প্রতিরোধের মুখে পড়তে হতো সন্ত্রাসীদের । ২০১৯ সালে অর্থাৎ চলতি বছর চানু আমাদের ৭ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত বাড়িঘর ভেংে আবারও জোর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে ।

তার সাথে যোগ দিয়েছে এলাকার একটি চক্র। প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতি বৃদাঙ্গুলী দেখিয়ে দূর্বৃত্তদের মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সন্মেলন করেছেন মুক্তিযোদ্ধার কণ্যা স্কুল শিক্ষিকা শরিফা খাতুন । অভিযোগ করে বলেন , চানু জমি বেদখলে করেই ক্ষান্ত হয়নি । ময়মনসিংহে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রে  ত্রিশাল আদালতে তাদেও বিরুদ্ধে সাত ধারায় মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেন ।

মামলা নং- ৩০৭ (১৯) । ঐ মামলাটি এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে মিথ্যা প্রমানিত হয় । এমতাবস্থায় এই মুক্তিযোদ্ধা কন্যা তার পরিবারকে রক্ষাসহ দূর্বৃত্তদের কবল থেকে বেদখলী জমি উদ্ধার করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ত্রিশালে সকল স্তরের মানুষজন ।অপরাধ সংবাদ