ত্রিশালে দাখিল মাদ্রাসায় কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য

স্টাফরিপোর্টারঃঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ছলিমপুর দাখিল মাদ্রাসায় বার বার ম্যানেজিং কমিটিরর নির্বাচন না দিয়ে এলাকার প্রভাবশালী এক পরিবারের সভাপতি ভাগিনা , সভাপতির দুই মামা সদস্য ও সভাপতির বোন জামাইকে সদস্য করে কোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্য করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সুপার আতিকুল ইসলামের বিরোদ্ধে।

এই সুপার আতিকুল ইসলাম ত্রিশাল তথা সাখুয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বলে তার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। জানাযায়, এই সুপার আতিক ১৯৯৩সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন সময়ে সেই সরকারের বিশেষ সুপারিশে চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর শুরু করের সুপারের চেয়ার দখলের বিশেষ পরিকল্পনা। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে প্রথমে সহ-সুপারের দায়িত্ব নেন। শুরু করেন সাবেক সুপারকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করানো । তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সাবেক সুপার পকেট কমিটি ও নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

এই সুযোগ গ্রহন করেন সুপার আতিকুল ইসলাম। সভাপতির সাথে গোপন চুক্তি করে সাবেক সুপারকে শোকজ করিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব গ্রহন করেন এই বিএনপি নেতা আতিকুল ইসলাম। শুরু হয় মাদরাসায় তার বিশেষ ক্ষমতা বিস্তার। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবাবকরা মাদরাসায় নির্বাচন চাইলেও কারো কথা তুয়াক্কা না করে গোপন ঘরে বসে রাতের অন্ধকারে একাদিক বার ম্যানেজিং কমিটি ঘোষণা করছেন এবং এই কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৮/৯জন শিক্ষককে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন। গত ২৮ জুলাই ২০২০ইং তারিখে একজন নৈশ্য পহরী কাম ও একজন আয়া নিয়োগ দিয়ে পনের লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকায় কানাঘোসা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শিক্ষক প্রতিনিধি ঈসমাইল হোসেন বলেন, অর্থ লেনদেন করে নৈশ্য পহরী নিয়োগ হয়েছে ঘটনাটি বাস্তব সত্য এবং সুপার বিশেষ কায়দায় আমাদের কাছ থেকে রেজুলেশান খাতা স্বাক্ষর নিয়েছেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, সুপার এই মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন দিতে রাজী নয় সে নিজের ইচ্ছায় কমিটি করে নিয়েছে।

 

 

ম্যানেজিং কমিটির আরেক সদস্য শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মাদ্রাসায় নৈশ্য প্রহরী ও আয়া নিয়োগে সুপারের সাথে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে আমরা পরে জানতে পেরেছি। শফিকুল আরো বলেন, নৈশ পহরী ও আয়া নিয়োগ বিষয়ে সুপার আমাদের কাছে বলেন, আপনারা স্বক্ষর দেন নিয়োগের অনুমতি আনতে হবে নিয়োগ হলে আপনারা জানতে পারবেন এই বলে সুপার আমাদের কাছ থেকে রেজুলেশান খাতায় স্বাক্ষর নিয়েছেন।

এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হযরত আলীর বড় ছেলে আবু ছাঈদ বলেন, আমার পিতা সততার সাথে ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব পালনে একমত তবে এই সুপারের দুনীর্তির কারণে মাদরাসাটি ধ্বংসের ধারপ্রান্তে।

এ বিষয়ে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দূল মজিদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সুপার আতিকুল ইসলাম এই মাদরাসায় দূর্নীতি করে মামু, ভাগিনা ও বোন জামাই দিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপন ঘরে বসে বার বার ম্যানেজিং কমিটি বানাচ্ছে। কমিটির কে বা কারা তার সাথে যুক্ত রয়েছেন জানা নেই তবে কোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্য করেছেন এই সুপার আতিকুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন যে, আমি এই দূর্নীতিবাজ সুপারের বিরোদ্ধে মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিবাবকদের পক্ষ হয়ে ৪/৮/২০২০ইং তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ করেছি এবং এই মাদরাসাটি এই দূনীতিবাজ সুপারের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে মানব বন্ধন করবো।
-চলবে