ত্রিশালে অবস্থিত সাপুড়িয়া সম্প্রদায়ের চলছে অভাবে দিনযাপন।

শামিম ইশতিয়াকঃ যাযাবর শ্রেণির অন্যতম একটি শ্রেণী হলো সাপুড়িয়া সম্প্রদায়, আদি পেশা বানিজ্য হওয়ার যারা সওদাগর হিসেবেও পরিচিত, কিন্তু কালের পরিক্রমায় পেশা হিসেবে তারা বেছে নেয় সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখানো এবং সাপের বিষ নামানো সহ ঝাড়ফুঁক, মূলত এই জাতী এক স্থানে বাস করেনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাবু খাটিয়ে চলে তাদের ভ্রাম্যমাণ জীবনযাপন।

করোনাকালীন সময়ে ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি গ্রামের একটি খোলা মাঠে বসতি বানিয়েছে ৫০ পরিবারের এই সাপুড়িয়া সম্প্রদায়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অন্যান্য সব পেশাজীবি মানুষের মতো তাদের পেশাতেও এসেছে ভাটা, আগের মত নেই রোজকার, হুট হাট করে কোন স্থানে যেতেও তারা হচ্ছে বাধার সম্মুখীন তাই তাবুর ভিতরে বাইরে বসেই কাটছে তাদের দিনকাল, এমন অবস্থায় তাদের কাছে পৌছেনি সরকারি কিংবা কোন ব্যক্তি সাহায্য, মানব সেবার ব্রত নিয়ে তাদের পাশে আসেনি কেউ।

রায়মনি গ্রামের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের খোলা মাঠে অবস্থান করা সাপুড়িয়া সম্প্রদায়ের প্রধান মোঃ আসকর আলী জানান ৫০ টি পরিবারের অভব অনটনের গল্প, কথায় কথায় উঠে আসে তাদের উপার্জনের ঘাটতির কথা, অনেক বেলা না খেয়ে কাটানো বর্তমান অবস্থার কথাও বর্ননা করেন তিনি।

স্থায়ী বাসিন্দাদের মতো সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে না পারা এমন একটি সম্প্রদায়ের এখন প্রয়োজন সাহায্য, করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য সব অসহায় মানুষের কাতারেও তারা, ভিন্নধারার জীবনেও অভাব এখন তাদের নিত্যসঙ্গী, ত্রিশালের স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক মহলের সাহায্য চেয়েছেন ত্রিশালে অবস্থিত সাপুড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। আশা করি নজরে নিবেন মহৎপ্রাণ ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন এমন একটি অবহেলিত ও অসহায় শ্রেণীর দিকে, সাহায্য নিয়ে পাশে দাড়াবেন তাদের।