ত্রিশালে অন্যের ক্রয়কৃত সম্পত্তি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাফকাবলা মূলে জমি ক্রয় করে ৭ বছরেও দখলে নিতে পারেনি উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের নিরীহ সংখ্যালঘু নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার। আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই, নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকারের ক্রয়কৃত ভূমি দীর্ঘদিন যাবত বেদখল দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।বেদখল হওয়া সম্পত্তি দখলে পেতে জমির মালিক নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার ভূমি ক্রয়ের জন্য তার প্রতিবেশী ও বিশ্বস্থ আমিরাবাড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই-এর নিকট ৩৩ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখেন। ৫২ শতাংশ জমির মূল্য নির্ধারণ করে ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারী ত্রিশাল সাবঃ রেজিস্ট্রি অফিসে নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকারের নামে ২৬ শতাংশ ও সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই’র পিতা হরিহর দেবনাথের নামে ২৬ শতাংশ জমি ৮১৩ নং দলিল মূলে রেজিষ্ট্রি করান সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই। দলিল পাঠ না করে, না শুনিয়ে প্রতারণা করে ৫২ শতাংশ জমির মধ্যে হরিহর দেবনাথের নামে ২৬ শতাংশ ও প্রকৃত গ্রহিতা নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকারের নামে ২৬ শতাংশ জমি যৌথভাবে করে সাফকাবলা করে তাকে ঠকিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়টি অবগত হওয়ার পর দলিলের হিস্যা অনুযায়ী অর্ধেক জমি দখলে গেলে সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই গংরা তাদের ধাওয়া করে এবং ভবিষ্যতে এ জমি দখলে নিতে গেলে খুন, জখমসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগে প্রকাশ করেছেন।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসের ৩ তারিখ আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ভুট্রো উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে আহবান করলেও বিবাদী আমিরাবাড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই গং কোন প্রকার সমাধান না দিয়েই ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করেন। পরবর্তিতে গ্রাম্য আদালতের বিবাদী গংদের পুনরায় নোটিশ পাঠানো হলেও তারা উপস্থিত বা নোটিশের কোন জবাব দেয়নি।

সরেজমিনে তদন্ত করে ইউপি চেয়ারম্যানসহ পরিষদের ৮জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত কাগজে থানা বা বিজ্ঞ আমলী আদালতে আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার আছে বলে প্রত্যয়ন করেন।
জুলাই মাসের ১৫ তারিখে বাদী নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

নিরাঞ্জন চন্দ্র সরকার জানান, আমার টাকা দিয়ে আমার নামে ৫২ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেয়ার কথা বলে একটি দলিলে ৫২ শতক জমি দুইজনের নামে রেজিষ্ট্রি করে সুরঞ্জন দেবনাথ বলাই। দলিলের হিস্যা অনুযায়ী ২৬ শতাংশ আমার নামে আছে কিন্তু দখলে নিতে দিচ্ছে না। আমি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।