আগরতলা বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে ভারত


ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্ক:ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে ভারত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তে এই জমি চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে নিউ এজ পত্রিকা জানিয়েছে যে, এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ঠিক কতটুকু জমি দেয়ার অনুরোধ এসেছে সে সমপর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, গত অক্টোবরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে বাংলাদেশ যদি জমি দিতে চায় তাহলে তার প্রক্রিয়া কী হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
নিউ এজের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে আগরতলা বিমানবন্দরে আকাশযানগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ভারত সর্বপ্রথম বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কাছে বিমানবন্দরটি সমপ্রসারণের প্রস্তাব উত্থাপন করে গত বছরের জুলাই মাসে। ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র ও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন, আমাদের কাছে বিষয়টি পেশ করা হলে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলি।

উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে আগরতলা বিমানবন্দরের নাম পাল্টে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর করা হয়।

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ধারণা করা হচ্ছে, সেসময় এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে।

এদিকে, অক্টোবরের বৈঠকে অংশ নেয়া দুই কর্মকর্তা নিউ এজকে জানিয়েছেন যে, ভারতের সঙ্গে ভূখণ্ড শেয়ার করা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে সামরিক কর্মকর্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দরটি কিভাবে পরিচালিত হবে, জমি ইজারা দেয়া হবে কি না ও জমি দিতে চাইলে সরকারকে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এসব বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেয়া অপর এক কর্মকর্তা জানান, আগারতলা বিমানবন্দর সমপ্রসারিত হলে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতর লাইট স্থাপন করবে ও নিরাপত্তার জন্য সেখানে বেষ্টনী দিয়ে রাখবে। এদিকে, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এর সঙ্গে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় জড়িত। তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবরের বৈঠকে অংশ নেয়া সবাই ভারতের প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেকে গ্রহণ করে। সবাই মনে করে যে, এতে আমাদের ভূখণ্ড সুসংযুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু অংশ সুইজারল্যান্ডে ও কিছু অংশ ফ্রান্সে পড়েছে। ১৯২০ সালে স্থাপিত এই বিমানবন্দরে সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স দুই দিক থেকেই অবতরণ করা যায়। ফলে সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হওয়ার পরও জেনেভা ইইউ’র ফ্রেইট হাবে পরিণত হয়েছে।

তবে বিমানবন্দর সমপ্রসারণের জন্য ভূখণ্ড দেয়া হলে তাতে জাতীয় নিরাপত্তা খণ্ডিত হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ ব্যাপারে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমি বিষয়টি বড় আঙ্গিকে দেখি এবং বাণিজ্য ও সচলতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি। তিনি আরো বলেন, বহু দেশেই আন্তঃসীমান্ত বিমানবন্দর রয়েছে। অনেক দেশ একই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।
তবে প্রস্তাবটি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, মুদ্রা নীতি, অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নীতিসহ অনেক বিষয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরটির ব্যবস্থাপনা দুই দেশ করবে কিনা বা এটি কোনো যৌথ উদ্যোগ হবে কিনা সেটা একটি প্রশ্ন। এটা যৌথ উদ্যোগে হলে বিবেচনা করা যায়। তা না হলে জমি দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রেসিডেন্ট রাশেদ খান মেনন এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ভারতের বিমানবন্দর কিভাবে বাংলাদেশের মধ্যে সমপ্রসারণ করা যাবে? এ ব্যাপারে সরকারকে প্রবল বাধার মুখে পড়তে হবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিমানচলাচল কোনো দিক দিয়েই এটা যৌক্তিক নয়। আমাদের নিজস্ব বিমানবন্দর সমপ্রসারণ করা উচিত, অন্যদের নয়।

সূত্রঃ মানবজমিন।।