টাঙ্গাইলে নির্যাতনের স্বীকার কলেজ ছাত্রী এখন নিরাপত্তাহীনতায়

কলেজ ছাত্রী শাহনাজ (২০)
কলেজ ছাত্রী শাহনাজ (২০)

বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ  টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জিনের বাদশা সেজে শাহনাজ (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিবেশী হাজী দারোগ আলী বিরোদ্ধে। ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের  প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী শাহনাজ খাতুন । স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে মামলা করতে সাহস পাচ্ছেনা শাহনাজের পরিবার। এতে করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবার। 

এদিকে কৌশলে কথিত জিনের বাদশা হাজী দারোগ আলী এলাকা থেকে পলায়ন করেছেন।  গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার মাদারিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন সহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নারী নেতৃবৃন্দ ও এনজিও প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহনাজ খাতুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই সময় তার অসুস্থ্যতার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশি হাজী দারোগ আলী শাহনাজকে জিনে ধরেছে বলে জানান। পরে তাকে চিকিৎসার নাম করে দারোগ আলী নিজেই জিনের বাদশা সেজে কলেজ ছাত্রী শাহনাজকে সারা শরীরে ঝাড়-ফুক দেয়। একপর্যায়ে শুরু করে শারীরিক নির্যাতন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রতিবেশি আব্দুর রাজ্জাক মাঝরাতে পার্শবর্তী ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরেরদিন মঙ্গলবার শাহনাজকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।

শাহনাজ বাড়িতে তার প্রতিবন্ধি চাচা ও তার বিধবা মাকে নিয়ে বসবাস করে। কিন্তু কথিত জিনের বাদশা প্রভাবশালী পরিবার, তার সাত ছেলে। এর মধ্যে জিনের বাদশার এক ছেলে টাঙ্গাইল ডিসি অফিসে সাধারণ শাখার কর্মচারী, আরেক ছেলে টাঙ্গাইল জজকোর্টের বেঞ্চ সহকারি, অন্যান্যরা আদম ব্যবসায়ী। নির্যাতনকারী কথিত জিনের বাদশার ছেলেদের প্রভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুমুর্ষু শাহনাজকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে কথিত জিনের বাদশা বাড়ীর পিছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের ভয়ে শাহনাজের পরিবার ভীত সন্ত্রস্ত। মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেননা এলাকার সাধারণ মানুষ। 

শাহনাজের বিধবা মা জানান, রাতে পুলিশ এসেছিল আমি ভয়ে বলেছি খাট থেকে পড়ে চোখে ব্যাথা পেয়েছে কিন্তু আসলে হাজী দারোগ আলীর নির্যাতনে আমার মেয়ের চোখ এমন হয়েছে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি বিয়ে দিবো কিভাবে?  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর মামুদ বলেন, সাংবাদিকরা আমাকে খুব জ্বালাইতেছে। সাংবাদিকরা বললে আমি যখন তখন মিমাংসা করে দিতে পারি। মেয়ের পরিবার আমার কাছে আসছিল।

 আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী রওশন আরা লিলি বলেন, আধুনিক যুগে চিকিৎসার নামে এ ধরণের অপকর্ম মেনে নেওয়া যায়না। অপকর্ম দূর করতে জনগণ ও প্রশাসনকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে হবে।   এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন জানান, আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।