চীন লাদাখে সেনা-অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করছে

লাদাখে সেনা-অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করছে
লাদাখে সেনা-অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করছে

লাদাখে চীন-ভারত সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার সমাধান হয়নি দেশ দুটির সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও। ফলে নিজ সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ভারত। এর মধ্যে দুই দেশই এলাকাটিতে রণপ্রস্তুতি নিয়েছে। চীনও শত শত সামরিক যান এনেছে।

ওই এলাকায় চীনের সামরিক অস্ত্র বৃদ্ধির আরো ভয়াবহ দৃশ্য উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে ধরা পড়েছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে মিলিটারি ডিফেন্স ফোরাম।

শত শত ট্রাক, বুলডোজার, চার চাকার গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধসাজে সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী। গত ৯ জুন সীমান্তের কাছে গালওয়ান উপত্যকার যে ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছিল, তার থেকে ১৬ জুনের ছবি অনেকটাই আলাদা।

ওই ছবিতে দেখা যায়, শতাধিক ট্রাক ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছিল ওই এলাকা একেবারেই জনশূন্য। ১৬ জুনের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্রাক, বুলডোজার মিলিয়ে অন্তত ৭৯টি গাড়ি এলএসি থেকে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

পরের ছবিতে দেখা গেছে, ক্রমশই এই সংখ্যা বাড়ছে। এলএসি বরাবর চীনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ১২৭টি গাড়ির দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এই এলাকা এলএসি থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাক, বুলডোজার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিযে যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে চীন। অতর্কিতে হামলা হতে পারে যে কোনো সময়েই। এলএসি থেকে ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে চীনা বাহিনীর ৫০টি ক্যাম্প ধরা পড়েছে উপগ্রহের ছবিতে। রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে এলএসি বরাবর সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখছে চীন।

আরেকটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, এলএসি বরাবর গালওয়ান নদীর যে গতিপথ সেখানেই নতুন করে কোনো কাঠামো গড়ে উঠেছে। ৯ জুনের উপগ্রহের ছবিতে নদী উপত্যকায় তেমন কোনো কাঠামো দেখা যায়নি। তবে ১৬ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, নদী উপত্যকা বরাবর এলএসি থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে নতুন করে কোনো কাঠামো তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন লাদাখে চীনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। তবে ভারতও দাবি করে, এই সংঘর্ষে চীনের ৪০ সেনা নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর দেশ দুটির সেনাবাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। দফায় দফায় বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি।