চীনের পর ভারত এবার বাণিজ্য সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশকে

ভারত বাংলাদেশ
ভারত বাংলাদেশ

এবার ভারত বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে। এর আগে চীনের বাজারে ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধায় বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। লাদখ নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যে চীন এই সুবিধা দেয়া, যা নিয়ে সমালোচনা করেছিল ভারত।

তাই এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। যদিও বাণিজ্যের দিকে বাংলাদেশের চেয়ে লাভের পাল্লা চীন-ভারতেরই বেশি। কারণ, এই দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বহুগুণে বেশি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করতে পারে ভারত। একই সঙ্গে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহণের সুবিধা দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এমনিতেই ভারত ও বাংলাদেশ ১৯৬৫ সালের আগেকার রেল লাইন পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। গত বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এই বহুমুখী পরিকল্পনার কথা জানায়।

আগের যেকোন সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। যদিও সীমান্ত হত্যা, তিস্তা ও অভিন্ন নদীর পানি যুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা করেনি ভারত। তবে গত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে অনেক। আর সেই বাণিজ্যও ভারতের অনুকূলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করেছিল। আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছিল মাত্র ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

প্রসঙ্গত, ১৬ জুন বাংলাদেশের পাঁচ হাজার ১৬১ পণ্য বিনাশুল্কে বা ৯৭ শতাংশ শুল্ক মুক্ত সুবিধা দেয় চীন। এতে করে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ঢোকার রাস্তা তৈরি হয়। যাতে করে পাহাড় সমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথও খুলে যায়। সে সময় এর সমালোচনা করে ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক ও মিডিয়াগুলো। আনন্দবাজার ও জিনিউজ চীনের দেয়া এই সুবিধাকে ‘খয়রাতি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিল। যদিও পরে আনন্দবাজার এর জন্য ক্ষমা চায়।বাংলা