পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) খুন হয়েছেন দোকানে কারা ব্যবসা করবে এবং ভাঙ্গারি ব্যবসার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে। হত্যার শিকার সোহাগ ও হত্যাকারীরাদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। মূল পরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মহিনের সাথে নিহত সোহাগের পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো। হত্যাকান্ডের ঘটনায় চাঁদাবাজির তথ্য এখন পর্যন্ত পায়নি পুলিশ।
শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এটি চাঁদার জন্য নয়, দোকান দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে সংঘটিত হয়েছে।
📹 প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড, ভাইরাল ভিডিও
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহাগকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে। পরে ইট ও পাথর দিয়ে মাথায় ও বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
🛑 অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয়
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তারা আগে থেকেই এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে যুক্ত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
“এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। ব্যবসায়ী সোহাগকে আগে থেকেই চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে,” — এক তদন্ত কর্মকর্তা
🏛️ ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া ও পদত্যাগ
এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়, “অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
ইতোমধ্যে ছাত্রদলের অন্তত ৫ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তাদের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে “দলের ভেতরের অপরাধীদের কারণে সংগঠনের প্রতি আস্থা হারানোর” কথা বলেছেন।
🎓 বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং রাজনীতিতে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার।
“আমরা রাজনীতি করি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য, খুন-সন্ত্রাসের জন্য নয়”—ঢাবির এক ছাত্রদলকর্মীর মন্তব্য
🏠 পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি
সোহাগের স্ত্রী বলেন,
“আমার স্বামী কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। শুধু চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যায় জড়িত আরও কয়েকজন চিহ্নিত হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
📌 সারাংশ:
রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পরিচালিত অপরাধ চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সোহাগ হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সংগঠনের ভিতর থেকেও প্রতিক্রিয়া টেনে এনেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উক্ত ঘটনা সংঘটিত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ত্রি/প্রতিদিন ডেস্ক
