ঘরে ঘরে অভাব তবুও ত্রিশালের গ্রামে দুয়ারে-দুয়ারে কিস্তির তাগিদ

ঘরে ঘরে অভাব তবুও ত্রিশালের গ্রামে দুয়ারে-দুয়ারে কিস্তির তাগিদ
প্রতীকী ছবি

শামিম ইশতিয়াকঃ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০জুন পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিও, সমিতি থেকে কিস্তি আদায়ে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও গত ৩১মে সরকারি ও বেসরকারি অফিস চালু হওয়ার পর কার্যক্রম চালু হয়েছে বিভিন্ন এনজিও, সমিতি, ব্যাংকের, পাশাপাশি তারা মাঠপর্যায়েও নেমেছে ক্ষুদ্রঋণ আদায়ে, যেখানে গ্রামের নিম্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে চলছে অভাব, দেশে চলাকালীন লকডাউন অবস্থায় অনেকেই হারিয়েছে কর্মসংস্থান, এবং অনেকেই হয়েছে বেকার, কমে গেছে আয় রোজগার, এই অবস্থায় কিস্তি পরিশোধ যেনো তাদের মাথায় এক প্রকার বোঝাই হয়ে দাড়িয়েছে, যেখানে আমরা জানি মূলত এসব এনজিও, সমিতি থেকে নিম্ম মধ্যবিত্ত, দিন মজুর, কিংবা আর্থিক অস্বচ্ছলতা পরিবার ই ক্ষুদ্রঋণ করে থাকে।

এভাবে এনজিও, সমিতির প্রতিনিধিদের মাঠপর্যায়ে আসা নিয়ে যদিও আবারো সরকারি নির্দেশনা আসে, বলা হয়েছে ” এনজিও থেকে গৃহিত ক্ষুদ্রঋণ এর কিস্তি পরিশোধে কোন ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে ৩১জুন/২০২০ পর্যন্ত বাধ্য করা যাবেনা”। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যদিও তার উল্টো চিত্র, সরেজমিনে দেখা গেছে কিস্তি পরিশোধে বর্তমান অবস্থায় অক্ষমতার কথা জানালেও মানছেনা এনজিও,সমিতির প্রতিনিধিরা, উল্টো বাড়িতে বসে থেকে কিংবা খুজে এনে কিস্তি পরিশোধে চাপ দিচ্ছে তারা, ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ি গ্রামে মুজামুদ্দিন এর ছেলে ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের বলেন “আমি চাকরি করতাম কিন্তু বর্তমানে চাকরি করিনা আমার এখন কিস্তি দেওয়ার সামর্থ নেই তবুও তারা কিস্তি দিতে জোর দিচ্ছে”
একই গ্রামের ভ্যানচালক আইনুদ্দিন মিয়া বলেন “এতদিন ভ্যান লইয়হা বাইর অই নাই,, অহনো গাড়ি চালাইতে ডরাই, বেশী পেসেঞ্জার ও তুলিনা গাড়িত, দূরে কোন হানেও যাইনা ভাড়া লইয়া, আমার অহন কামাই কম, আমি কেমনে কিস্তি দেম, তা কি আমহেরা বুঝইননা?”

এভাবে এনজিও,সমিতির প্রতিনিধিদের কিস্তি নেওয়া নিয়ে কথা বললে ত্রিশাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তরিকুল ইসলাম তুষার ত্রিশাল প্রতিদিনকে বলেন ৩০জুন পর্যন্ত কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় কিস্তি পরিশোধ করতে চায় তবে দিতে পারবে এক্ষেত্রে এনজিও, সমিতির প্রতিনিধিদের কোন প্রকার চাপ না দিতেই নির্দেশনা দেওয়া আছে, তবুও কেউ যদি চাপ দেয় তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারবে ভুক্তভোগীরা”

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাবস্থায় কিস্তির টাকা পরিশোধে এক দিক দিয়ে গ্রহীতার সুবিধা হলেও অন্য দিক দিয়ে আয় রোজগার না থাকায় বর্তমানে কিস্তির টাকা পরিশোধটা কষ্টকর, তাই স্থানীয় এনজিও, সমিতি, কিংবা ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি অনুরোধ যেনো মানবিক দিক বিবেচনা করে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ না করা হয়, এবং সচেতন মহল ও গ্রহীতারা কোন প্রকার চাপের স্বীকার হলে সরাসরি অভিযোগ করতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন।