গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে মেয়র-আনিছুজ্জামান

ফখরুদ্দীন:: বিশ্ব এখন করোনা আতংকে কাঁপছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা ভাইরাসে আগ্রাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাকে মহামারি হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে। এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে একে একে প্রায় সব দেশই লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

করোনার সংক্রমন রোধে সরকার সারাদেশ লকডাউন করে দিয়েছে। লকডাউনে উচ্চ বা মধ্যবিত্তের খাদ্য সংকট না হলেও নিম্নবিত্তের যারা দৈনিক রুজিতে চলে তারা পড়েছে সমস্যায়। করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধ ধনী দরিদ্র দিনমজুর সকলেই নিজ গৃহে অবস্থান করছেন।কেউ বাহিরে নেই। দিনরুজি করা মানুষ গুলোও করোনার সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে রুজির কথা চিন্তা না করে,পেটে ভাতের কথা চিন্তা না করে, করোনাভাইরাসের চিন্তা করে নিজে থেকেই নিজ ঘরে বন্দি হয়েছেন।

এই কঠিন সময়টি পার করছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার সকল নাগরিক। ঐতিহ্যবাহী ত্রিশাল বাজারটিতে দিনরুজি করা হাজার হাজার মানুষ। ত্রিশাল বাজারটি যখন একেবারেই বন্ধ অবস্থা রয়েছে, জনশূন্য শহরটিতে আজ সব কর্ম অচল। লোকজনে চলা ফেরা না থাকায় ভ্যান -রিক্সা চালকরাও আজ বেকার।

এই অবস্থার কথা চিন্তা করে ত্রিশালের নন্দিত মেয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন, ত্রিশাল পৌরসভায় একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। সেই ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর ব্যাক্তিগত আিনুদান থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করে, সারা পৌর এলাকায় গরীব অসহায় মানুষদের তালিকা করে, চাল, ডাল, আলো, ও সাবান নিয়ে রাত গভীরে অসহায় মানুষের দরজায় গিয়ে নিজে এই সহায়তা তুলে দিচ্ছেন।

৩০ মার্চ রাতে ত্রিশাল পৌরসভার ১নং ও ৯নং ওয়ার্ডের ৫৭০জন মানুষকে এই সহায়তা দিয়েছেন এবং নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করছেন। ৩০মার্চ রাত ১১’৫০ মিঃ সময় ৯নং ওয়ার্ডে বরকোমা এলাকায় যখন এই সহায়তা করছিলেন তখন তিনি জানান, আজ দু’টি ওয়ার্ডে ৫৭০ জন অসহায় মানুষকে আমি এই সহায়তা দিয়েছি।

সকল ওয়ার্ডে এই সহায়তা আমি নিজে গিয়ে পৌঁছে দিব। এর পর মেয়র আনিছুজ্জামানকে করোনাভাইরাসে তাঁর নিজের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমার পৌরসভায় তারা আমাকে নির্বাচিত করে চেয়ারে বসিয়েছেন, তারা না খেয়ে থাকবে আর আমি জীবনের মায়া করে তাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাব এটা আমি চাই না।

আমার পৌরসভা সকল মানুষ যদি বেঁচে থাকে, আমার বেঁচে থাকা স্বার্থক হবে। আর যদি তারা না খেয়ে কষ্ট করে সেটা আমার জন্য হবে কষ্টের ও লজ্জার। আমি মৃত্যু ভয় পাই না।

আমার জনগন নিরাপদ না থাকলে এটাই আমার ভয়। তিনি আরো বলেন,দু’বারে নির্বাচিত হয়ে স্বপ্নময় ও আধুনিক পৌরসভা সৃষ্টি করেছি এই পৌরসভায় কেহ না খেয়ে থাকবে সেটা আমি বেঁচে থাকতে হতে দিবনা।