খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তিতে সরকারের শর্ত

সরকারের দেয়া কতিপয় শর্তে রাজি থাকলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন প্যারোলে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সদস্যর দেন-দরবার চলছে বলে জানা গেছে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় বিএনপির কোন স্তরের নেতা জড়িত নয়। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছুটা জানেন বলে ঘনিষ্ঠ ঐ সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আপাতত খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। যদি খালেদা জিয়াকে সহসাই প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় তাহলে তাঁকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে। বিএনপির কোন স্তরের নেতা-কর্মীর সাথে কোন রকম সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না। এমনকি লন্ডনে পলাতক বড় ছেলে তারেক রহমানের সাথেও কোন রকম যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারে শর্ত থাকতে পারে। প্যারোলে মুক্ত হলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা’য় থাকতে হবে। তবে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যেতে পারবেন। এমন কিছু শর্ত নিয়ে সরকারের একটি ঘনিষ্ঠ মহলের সাথে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারযোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জিয়া পরিবারের কেউ মুখ খুলছে না।

এদিকে, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার জন্য বিএসএমএমইউ-তেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদার চিকিৎসায় যাতে কোন রকম গাফিলতি না হয় সে ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি। গত সোমবার বিএসএসইউর একদল চিকিৎসক গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভভাবেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ-খবর নেন। সেসময়ই তিনি চিকিৎসকদের খালেদা জিয়ার যাতে বিএসএমএমএইউতে সুচিকিৎসা হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেন।

শেষ পর্যন্ত যদি খালেদা জিয়া প্যারোলের শর্ত না মানেন তাহলে তাকে আবারো ফিরে যেতে হবে কারাগারে। তবে এবার তাঁকে নেয়া হবে কেরানীগঞ্জ হাই সিকিউরিটি কারাগারে। বর্তমানে পুরাতন ঢাকার কারাগারে যেখানে তিনি থাকছেন ইতোমধ্যেই সেটিকে যাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই যাদুঘরের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যে কোন সময় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।