কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর প্রাচীন এক জমিদার বাড়ি

মানব বাবুর জমিদার বাড়ি

গাংগাটিয়া জমিদার বাড়ি
গাংগাটিয়া জমিদার বাড়ি

বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে      বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে     দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা      দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু । 

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া    ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া    একটি ধানের শিষের উপরে     একটি শিশিরবিন্দু।

 

 আমরা যাই বলি সব কথার উপর হল আমরা দূরের যত টুকু জানি কাছেরটা ততটা না।কারণ একটা প্রবাদ আছে”বাড়ির কাছের মানুষ গাড়ী পায়না”। হাতের কাছের অনেক কিছুই বিদ্ধমান যা আমরা জানিনা। ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ঘেরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ। কালের বির্বতন আধুনিকতার বাতাসে বন্দি আমরা হাতের মোবাইলে। এত পরিবর্তনের পরেও মাথা উচু করে দাড়িয়ে ইতিহাস আর ঐতিহ্যে স্মৃতিস্তম্ব গুলো। 

 

তার মধ্যে এক ঐতিহ্যে  কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গাংগাটিয়া। এলাকাটি বিখ্যাত প্রাচীন এক জমিদার বাড়ির কারনে যা পরিচিত মানব বাবুর জমিদার বাড়ি নামে। জমিদার ভবনটির নাম শ্রীধর ভবন। এই জমিদার বাড়ি বহন করছে নানান প্রাচীন স্মৃতি, ইতিহাস। এই জমিদার বাড়ির আছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ভোলানাথ চক্রবর্তী। অন্যান্য জমিদার বাড়ির মত এটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত না হয়ে এখনো এটি পুরোপুরি টিকে আছে। কেননা এখনো এই জমিদার বাড়ির বংশধর এই বাড়িতে বসবাস করতেছেন।এই জমিদার বাড়ির বর্তমান বংশধর হচ্ছেন মানব বাবু(ডাকনাম) মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী ।

 

জমিদার বাড়িতে বর্তমানে অবস্থানরত উত্তরসূরি মানব বাবুর মাধ্যমে জানা যায়, এই জমিদার বাড়ি ও এর সাথে জড়িত এক গর্বিত ইতিহাস।এই জমিদার বংশের আদি বসবাস ছিল ভারতের কাইন্নকব্জিতে। প্রায় ৬০০ বছর আগে কাইন্নকব্জীয় হতে হোসেনপুর এর গাংগাটিয়ায় তাঁরা বসতি স্থাপন করেন। জাতে ছিলেন উচ্চ শ্রেণীর রক্ষণশীল ব্রাম্মণ এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রধান বা পুরোহিত হিসেবে তাঁরা ছিলেন সমাজে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। 

 

পরবর্তীতে এবংশের প্রথম উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি ভোলানাথ চক্রবর্তী পারিবারিক পেশা পুরহিত পেশার বিপরীতে গিয়ে ময়মনসিংহ এর প্রথম ডিপি হিসেবে নাম লেখায়। ব্রিটিশ আমলের শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের জমিদারিত্ব। পরবর্তীতে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ এর মাধ্যমে তা শেষ হয়। তবে এই জমিদার বাড়িটি জীবিত রয়েছে তার সৌন্দর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাসের মধ্য দিয়ে।

 

মানব বাবুর পিতা ও তাঁর পরিবারের আরো সদস্য কে স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন সময়ে গুলি করে হত্যা করে পাক বাহিনী। মানব বাবুর পরিবার ও তাঁর পরিবারের সাথে জড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর তৈরি করেছে একটি ডকুমেন্টারি রেকর্ড। বর্তমানে মানব বাবু তাঁর পিতা কে পাকিস্তানি মিলিটার বাহিনী যে স্থানে হত্যা করে সেখানে গড়ে তুলছেন একটি সমাধি। নির্মাণাধীন সমাধি এর পাশে রয়েছে একটি প্রাচীন মন্দির যা আধুনিকভাবে পুণনির্মাণ করা হচ্ছে।

 

প্রায় প্রতিদিন মানব বাবুর বাড়িতে দর্শনার্থীদের যাতায়াত দেখা যায়। ঈদের ছুটিতে অথবা যেকোন দিন পরিবার সহ কিশোরগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িত এ জমিদার বাড়িটি ঘুরে আসতে হলে কিশোরগঞ্জ বটতলা থেকে অটো রিকশা যোগে যেতে হয় হোসেনপুর এর গাংগাটিয়া এলাকায়। ৪০ থেকে ১০০ এই অল্প খরচেই ঘুরে আসা যায় গাংগাটিয়া মানব বাবুর বাড়ি। এছাড়াও কিশোরগঞ্জ বিশ্বরোড থেকে এখানে যাওয়ার একটি রাস্তা রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃউইকিপিডিয়া