কাতারে শ্রমিকদের জন্য নতুন আইন অনুমোদন

কাতারে শ্রমিকদের জন্য নতুন আইন অনুমোদন

ত্রিশাল প্রতিদিন ডেস্ক:: কাতারে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি কোম্পানি পরিবর্তনের নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে। কাতারে কর্মরত লাখো বিদেশি শ্রমিকের কল্যাণে ৩০ আগস্ট দুপুরে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি তিনটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে এমন নিয়ম কাতারেই প্রথম চালু হলো।

প্রথম আদেশে আমির কাতারে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করে একটি আইনে অনুমোদন দিয়েছেন। এই আইনটির ক্রমিক নাম্বার ২০২০/১৭। নতুন এই আইনে কাতারে শ্রমিকদের বেতন হিসেবে সর্বনিম্ন এক হাজার রিয়াল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে থাকা বাবদ ৫০০ রিয়াল এবং খাওয়া বাবদ ৩০০ রিয়াল মিলিয়ে আরও ৮০০ রিয়াল দিতে হবে প্রত্যেক শ্রমিককে।

তবে কোম্পানি যদি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে, সেক্ষেত্রে শুধু বেতন দিতে হবে কমপক্ষে এক হাজার রিয়াল। ফলে কাতারে সরকারি বা বেসরকারি- যে কোনো খাতেই হোক না কেন, কোনো শ্রমিকের বেতন ১ হাজার রিয়ালের কম হতে পারবে না। পাশাপাশি শ্রমিকের থাকা-খাওয়ার বাবদ আরও ৮০০ রিয়াল অথবা থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে কোম্পানির পক্ষ থেকে। কাতারে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে যারা ঘরের ভিসায় যারা কাজ করেন, এই আইন তাদের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে।

আমিরের অনুমোদন হয়ে যাওয়ায় এখন এই আইন সরকারি গেজেটে প্রকাশের ছয় মাস পর থেকে কার্যকর করা হবে। এই আইন অমান্য করলে কোম্পানিকে প্রতি শ্রমিক হিসেবে সর্বনিম্ন ২ হাজার রিয়াল ও সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। অথবা কোম্পানির কর্তাকে এক মাসের জন্য কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

যেসব কোম্পানি শ্রমিকদেরকে এই সর্বনিম্ন মজুরি দেবে না, সেই কোম্পানিগুলো কোনো ধরণের সরকারি সেবা ব্যবহার করতে পারবে না। আর ঘরের ভিসায় থাকা কর্মীদেরকে থাকা-খাওয়া দিয়ে এক হাজার রিয়ালের কম বেতন দিলে মালিককে আর্থিক জরিমানা করা হবে।

দ্বিতীয় এক আদেশে কাতারের আমির বর্তমান শ্রম আইন যা ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে, তাতে কয়েকটি সংশোধনীর ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন। এই অনুমোদন সম্পর্কিত নতুন আইনটির ক্রমিক নাম্বার ২০২০/১৮।

তৃতীয় আদেশে আমির কাতারে ২০১৫ সালে প্রণীত বিদেশি কর্মীদের আসা-যাওয়া এবং কাজ ও অবস্থান সম্পর্কিত আইনে নতুন সংশোধনীর ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছেন। যার ফলে কাতারে বিদেশি শ্রমিকদের থাকা এবং কাজ করার ব্যাপারগুলো আগের চেয়ে আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। তথ্যসূত্র: গালফবাংলা।