করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে না তো?

করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে না তো?

কে.এম হাবিবুল্লাহ:: করোনাভাইরাসের ভয়ে কিছু কিছু শহরে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। বিমান বন্দরে কড়াকড়ি মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো দেশে দুই জন রোগী পাওয়া গেলেই লাখ লাখ মানুষ মাস্ক পরতে শুরু করেছে। এমন একটি ভাব তৈরি করা হয়েছে যেন করোনায় যে ব্যক্তিই আক্রান্ত হচ্ছে সে ব্যক্তিই মারা যাচ্ছেই। অথচ ব্যাপারটি মোটেও সে রকম নয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বলতে গেলে একেবারেই কম। শতকরা এক ভাগ থেকে তিন ভাগ মাত্র। কখনো চার ভাগও দেখা গেছে। এটা কী খুব বেশি? ডায়রিয়া হলেও ত মানুষ এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। গায়ে জ্বর হয়ে ত এর চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়।

করোনা ভাইরাসে দুই মাসে চীনে মারা গেছে দুই হাজারের চেয়ে কিছু বেশি মানুষ। আর সারা বিশ্বে মারা গেছে প্রায় তিন হাজারের মত। এটাও কী বেশি? দুই মাসে সারা বিশ্বে তিন হাজার মানুষ মারা গেলে এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় দেড় হাজারে। বছরে ১৮ হাজার। এখানে ১৮ হাজারের পরিবর্তে ৩৬ হাজারও যদি ধরে নেই তাহলেও সেটা অন্য অনেক রোগে মৃত্যুর হারের চেয়ে অনেক অনেক কম। ২০১৭ সালে বিশ্বে প্রায় ১৬ লাখ লোক মারা গেছে ডায়রিয়ায়। আর বিশ্বে প্রতিবছর ১৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন বা পৌনে দুই কোটি মানুষের মৃত্যু হয় হৃদরোগে।

এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, করোনাভাইরাসে খুব বেশি মানুষ মারা না গেলেও এখানে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে কোনও উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই হয়ত। সেটা কী এখনো বুঝা যাচ্ছে না। আশা করি আগামীতে সেটাও বুঝা যাবে। করোনা ভাইরাসের চেয়েও অন্য রোগে বেশি মানুষ মারা গেলেও আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে শুধু করোনার বেলায়। বিভিন্ন দেশের সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া,দুই জন রোগীর কারণে লাখ লাখ মানুষ মাস্ক পরা, কথায় কথায় করোনা এসে গেলো পালাও পালাও অবস্থা সৃষ্টি করা ত উচিৎ না। এটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেল তাই না?

তবে সতর্ক করা ও সতর্ক থাকাটাও জরুরী। রোগটি যেহেতু সংক্রামক তাই সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। এর আগেও সংক্রামক ব্যাধি দেখা গিয়েছিল। সেগুলো আল্লাহর রহমতে চলেও গেছে। এটাও চলে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের উচিৎ গোনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা। বেশি আতঙ্ক ছড়ানো উচিৎ নয়।

এই দুয়াটি আমরা বেশি করে পড়তে পারি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ