“করোনায় সরকারী অনুদান ও চালচোরদের গল্প”

"করোনায় সরকারী অনুদান ও চালচোরদের গল্প"

সমাজের অভাব-অনটন এবং অন্নাভাবের অপর কারন আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের অপব্যাবহার, অপবিতরণ, অসম বন্টন ও বান্দা কতৃক প্রকাশ্যে ও গোপনে লুট, চুরিচামারি।

আল্লাহর সৃষ্ট সম্পদ যদি কায়েমী স্বার্থবাদীগণ জবরদখল করে রাখে এবং সরকার যদি তার সুষ্ঠু বিতরণের ব্যাবস্থা না করতে পারে তবে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ লোক না খেয়ে থাকবে এ তো স্বাভাবিক, তাইনা?

বর্তমান এই সময়ে জনগণের বিশেষ করে যারা কর্মহীন ঘরবন্দি সেই সকল জনগণের খাদ্যদ্রব্যের সংস্থান করে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, এবং আমরা জানি যে সরকার এই ব্যাবস্থা করেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারীভাবে অর্থপ্রদানে ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু তবুও জনগণের কাছে আসছেনা, এর কারন কি? আমরা সবাই জানি এই দোষ ব্যক্তি সরকারের নয় বরং সরকারের পোষা রাক্ষসদের, আপনারা যাদের কে চালচুর বলে ডাকেন তাদের, অথচ ইসলামের ইতিহাসে ন্যায়নিষ্ঠ খলীফাগণ এই দায়িত্ব সম্যকভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, যেমনটা আমরা উমর (রা) জীবনীতে শুনি যে তিনি বলেছিলেন “যদি ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় আর বিচারের জন্য কাল হাসরের মাঠে উমরকেই জবাবদিহিতা করতে হবে”

শুধু মাত্র জনগণ যাতে অনাহারে না থাকে সেই জন্য আবু বকর (রা), উমর (রা), উসমান (রা) আলী (রা) এর মত খলীফারাও রাতের অন্ধকারে গা-ঢাকা দিয়ে খুজে বেরাতেন কারা অভাব-অনটনে আছে অথচ বর্তমান সময়ে আমরা রাতের অন্ধকারে পরিকল্পনা করি কিভাবে সরকারি সম্পদ লুটপাট করে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স কে আরো জুড়ালো করব।

শিক্ষা গ্রহণ করুন আপনারা এসব খলীফাদের থেকে, আপনি ধর্ম না মানেন, আল্লাহ না মানেন, রাসূল না মানেন, কিন্তু ব্যক্তি আবু বকর, উমর, ওসমান, আলী কে দেখুন, তাদের কাহিনি ত বানোয়াট নয়, তাদের কাহিনি ত ধর্মের কোন অজুহাত নয়, তাদের কাহিনি ইতিহাস ঘাটলেই পেয়ে যাবেন, যে জনগণ নিয়ে আমাদের এই গণতন্ত্র, আপনাকে এমপি, মন্ত্রী, মেয়র,চেয়ারম্যান, মেম্বার, করতে যে জনগণ ব্যালেট পেপারে সীল মেরেছিল, যাদের একত্রিত ভোটেই আপনারা মনোনীত হয়েছেন তাদের অধিকার রক্ষায় অন্তত আবু বকর, ওমর,ওসমান, আলী দের অনুসরণ করুন।

বর্তমানে দেশের এই অবস্থায়, ঘরে বন্দী, কর্মহীন, দরীদ্র, মধ্যবিত্ত, উপবাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে অথচ সমাজের স্টেটাসের জন্য হাত পাততে পারছেনা এমন মানুষদের চাল,ডাল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস অর্থাৎ সরকার যা আঞ্জাম দিয়েছে তা চুরি না করে তাদের কাছে পৌছে দিন আপনার ক্ষতি হবেনা, চুরি করে যা সঞ্চয় করছেন তা আপনি যাদের এখন খাবার দিবেন তাদের আবার ভোটেই আবার ক্ষমতার মসনদে যেয়ে সুঃসময়ে অর্জন করে নিবেন তবুও আপাতত এই দুঃসময়ে দেশ বিনষ্টের সময়ে বন্ধ করুন চুরিচামারি, বন্ধ করুন জনগনের অধিকারে নিজেদের হাতামারার প্রবণতা।

এদের দয়া করে খাবার দিন, আল্লাহ তার পবিত্র কালামে ঘোষণা করেছেন যে, “তিনি সকল প্রাণীর জীবিকা পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, তিনি সকল প্রাণীকে জিবিকার ওয়াদা দিয়েছেন” আল্লাহর ওয়াদার অর্থ এই নয় যে, তিনি এই পৃথিবীতে নেমে আসবেন এবং আহারের ব্যাবস্থা করে যাবেন, তিনি সশরীরে খাবার উৎপাদন করবেন না কিংবা বিতরণ করবেন না, আল্লাহর ওয়াদার অর্থ এই যে তিনি সকল প্রাণীর জিবিকার উপাদান সৃষ্টি করবেন, কর্মস্থান সৃষ্টি করবেন, শ্রমের মাধ্যমে অর্জন করার মত শক্তি দান করবেন, আর আমরা এভাবেই উপাদান কে কাজে লাগিয়ে, কর্মস্থানে কর্ম করে শ্রম দিয়ে উপার্জন করে বেচে ছিলাম কিন্তু বর্তমান করোনা ভাইরাসের জন্য সব বন্ধ, নেই কর্মস্থান, নেই শ্রম বিনিয়োগের স্থান, সব ঝুকিতে, ঘর থেকে বের হওয়া মানে নিজে ঝুকিতে যাওয়া, পরিবারে ঝুকিতে ফেলা, দেশটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা তাই বর্তমানে এদের জীবিকা আপনাদেরকেই দিতে হবে, আবু বকর ওমর আলী ওসমানের মত রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রকাশে দিতে হবে যেখানে সরকার দিচ্ছে সেখানে আপনাকে চুরি করা মানায় না, মনে রাখবেন আপনি এখন জনগনের অধিকার চুরি করবেন আর আপনার ক্ষমতার সময়কাল ফুরিয়ে গেলে জনগণ আপনার পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার অধিকারটুকুও চুরি করে নিবে।

শামিম ইশতিয়াক
লেখক ও সাংবাদিক
কলেজ রোড, ময়মনসিংহ।