করোনাকে প্রায় কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছে চীন, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত ?

করোনাকে প্রায় কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছে চীন, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত ?

এটা চীনের জন্য খুবই সুসংবাদ, বিশ্বের জনগণের জন্যও সুসংবাদ, কিন্তু আমাদের জন্য দুঃসংবাদ। কারণ আমাদের মোটিভেশনাল আশাবাদীরা চীনের উদাহরণ টেনে বলছেন – বলেছিলুম না, এই ভাইরাস নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নাই? এটা জাস্ট ইনফ্লুয়েঞ্জা ২.০? মৃত্যুর হার “মাত্র” ২%? সো ভয়ের কিছু নাই।

অথচ চীন কীভাবে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, এটা মোটিভেশনাল বক্তব্যগুলোতে উঠে আসে না। প্রথম দিকে অবহেলা করলেও ভাইরাসটার গুরুত্ব বুঝতে পারামাত্র চীন ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের একটা শহরকে সম্পূর্ণ সীল করে দিয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক স্বল্প সময়ে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য।

তারা ভলান্টিয়ারদেরকে পাঠিয়ে প্রতিটা এলাকার অলিগলি পাহারা দিয়েছে যেন কেউ ঘর থেকে বের হতে না পারে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তারা সর্বমোট ৫০ কোটি মানুষকে অবরুদ্ধ করেছে, ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের টেম্পারেচার চেক করে নিশ্চিত করেছে তারা সুস্থ কিনা।

লক ডাউনে থাকা মানুষদের যাদের নিত্য-প্রয়োজনীয় খাবার-দাবারের অভাব ছিল, ভলান্টিয়ারদেরকে দিয়ে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছে, যেন কারো হওয়ার দরকারই না হয়।

চীনে প্রতিটা মানুষই ভার্চুয়ালি সরকারের নজরদারিতে থাকে, সেটাকেও তারা কাজে লাগিয়েছে। নতুন কোনো একটা কেস ধরা পড়ামাত্র তারা সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা এবং এআই টেকনোলজি দিয়ে খুঁজে বের করেছে ঐ লোক গত কয়েকদিনে কোথায় কোথায় গিয়েছে, কোন ট্রেনে চড়েছে, কোন সীটে বসেছে, তার পাশে কোন যাত্রী বসেছে। এরপর সেই যাত্রীকে খুঁজে বের করে তাকে পরীক্ষা করেছে সে আক্রান্ত হয়েছে কিনা।

এর সাথে আমাদের দেশের পরিস্থিতি তুলনা করেন? এর কতটুকু করার ক্ষমতা আমাদের আছে? বিমানবন্দরে নাকি থার্মাল স্ক্যানার তিনটার মধ্যে দুইটাই নষ্ট থাকে। তাও আবার ৫০০ টাকা দিলেই পরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেয়। গতকালও পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে ইতালি থেকে আসা যাত্রীরা নাকি বিনা পরীক্ষায় ঘুরছে, বেড়াচ্ছে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই।

ইতালির মতো দেশের ডাক্তার স্ট্যাটাস দিচ্ছে তাদের হসপিটালে আইসিইউর ক্যাপাসিটি ফুল হয়ে গেছে, তারা এখন রোগীদেরকে করিডোরে রেখে চিকিৎসা করছে। আর আমরা আছি এখনও মৃত্যুর হার মাত্র ২% এই ডেটা নিয়ে। যেন মৃত্যুই সব। চীনে, ইতালিতে, ইরানে যেভাবে ছড়িয়েছে, সেখানে যত পার্সেন্ট রোগীকে আইসিইউতে রাখতে হয়েছে, তার কত পার্সেন্টকে বাংলাদেশে আইসিইউতে রাখা যাবে? উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে না পারলেও কি মৃত্যুর হার ২%-ই থাকবে?

কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই এই আশার বাণীগুলোর চেয়ে আমার কাছে বরং মুফতি ইব্রাহীমের ব্যাখ্যা আরো লজিক্যাল মনে হয়। বাংলাদেশে যদি করোনা এখনও না ছড়িয়ে থাকে, সেটা গায়েবী উপায়েই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। মামুন মারুফকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই ভাইরাস হয়তো আসলেই বাংলাদেশে আক্রমণ করবে না। কারণ অ্যাপারেন্টলি আল্লাহ্‌র উপর এই দেশের মানুষের অগাধ বিশ্বাস। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এরা বিশ্বাস করছে এবং প্রচার করছে – কিছুই হবে না।

লেখক: মোজাম্মেল হোসাইন তোহা।